উমরাহ কেন ও কীভাবে করবেন


জিলহজ মাসের ৯-১৩ তারিখ হচ্ছে পবিত্র হজের নির্দিষ্ট সময়। এ সময়ের বাইরে হজ করা যায় না। আর উমরাহর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। শুধু হজের দিনগুলো ছাড়া বছরের বাকি সময়গুলোতে উমরাহ করা যায়। বিশেষ করে রমজানের সময় উমরাহর ফজিলত অনেক বেশি। তারপরও বিশ্বের মুমিন মুসলিম হজের জন্য বাইতুল্লায় আগে আগে গেলে হজের পূর্বে উমরাহ করে থাকেন। আবার অনেকে হজ ও উমরাহর ইহরাম এক সঙ্গে বেঁধে উল্লেখিত সময়ের পূর্বেই উমরাহ আদায় করেন এবং সেই ইহরাম দিয়ে পবিত্র হজও সম্পাদন করেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেন, এক উমরাহ হতে অন্য উমরাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সবকিছুর গুনাহের কাফফারা। আর মাবরুর হজের প্রতিদান হলো জান্নাত ( বুখারী ও মুসলিম)। অন্য হাদিস শরীফে প্রিয় নবি (স) বলেছেন, তোমরা বারবার হজ ও উমরাহ আদায় কর, কেননা এ দুটো দারিদ্র্যতা ও গুনাহকে সেভাবে মুছে ফেলে, যেভাবে কর্মকারের হাওয়া দেওয়ার যন্ত্র লোহার ময়লাকে দূর করে থাকে। (নাসায়ী শরিফ।)

ইহরাম বাঁধা ফরজ :পুরুষরা ইহরামের জন্য প্রস্তুতকৃত সাদা দুটি চাদর ও মহিলারা তাদের সাধারণ পোশাক পরে মিকাত ছেড়ে যাওয়ার সময় নিয়তের সঙ্গে বলবেন, ‘লাব্বাইকা উমরাতান, বা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা উমরাতান’। উমরা যদি অন্যের পক্ষ থেকে হয় তবে অন্তরের নিয়তের সঙ্গে ‘লাব্বাইকা উমরাতান আন’ এর পরে তার নাম উচ্চারণ করতে হবে। পবিত্র কাবা ঘর দেখার আগ পর্যন্ত তালবিয়া ও অন্যান্য সব ধরনের দোয়া পড়তে হবে। তালবিয়া হলো, ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারীকা লাক।’

ইহরামের নিয়ত করার পর যা নিষিদ্ধ :(১) পুরুষের জন্য সেলাই করা পোশাক পরা। (২) মাথার সঙ্গে লেগে থাকে এমন জিনিস দ্বারা মাথা ঢাকা। (৩) ইচ্ছাকৃত ভাবে মাথার চুল ও শরীরের পশম কাটা বা উঠানো। (৪) হাত পায়ের নখ কাটা। (৫) আতর বা সুগন্ধি জাতীয় জিনিস ব্যবহার করা। (৬) স্থলচর প্রাণী শিকার করা। (৭) স্বামী-স্ত্রী মিলন করা বা এ জাতীয় বিষয়ে আলাপ আলোচনা করা। (৮) বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া বা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। (৯) মহিলাদের জন্য হাত মোজা ব্যবহার করা এবং মুখ ঢাকা । (১০) পবিত্র মক্কা ও মদিনার হারাম সীমানার গাছ-গাছালী কাটা, ভাঙা বা উপড়ানো। (১১) পবিত্র মক্কা ও মদিনার হারাম সীমানায় পড়ে থাকা জিনিস নেওয়া। তবে তা মালিককে দেওয়ার জন্য উঠানো যাবে।

পবিত্র মক্কাতে পৌঁছার পর করণীয় :

(১) তাওয়াফ ফরজ: পবিত্র মক্কায় পৌঁছে তাওয়াফে যাওয়ার আগে ওযু করে নিতে হবে। কেননা তাওয়াফের জন্য ওযু শর্ত। নামাযের সময় নিকটবর্তী না হলে, মসজিদে প্রবেশ করে সরাসরি তওয়াফে যেতে হবে। তওয়াফ শুরুর আগে পুরুষদের জন্য ইজতেবা বাম ডান কাঁধ খালি করতে হবে। অর্থাত্ চাদরের মধ্যভাগ ডান কাঁধের নিচে দিয়ে নিয়ে বাম কাঁধের ওপর পরতে হবে। ‘বিসমিল্লাহ আল­াহু আকবার’ বলে হাজরে আসওয়াদ চুমো বা স্পর্শ করার মাধ্যমে তাওয়াফ শুরু করতে হবে। চুমা বা স্পর্শ করার সুযোগ না হলে, হাজরে আসওয়াদ বরাবর গিয়ে শুধু ডান হাত দ্বারা হাজরে আসওয়াদের দিকে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে ইশারা করে চুমু দিয়ে তাওয়াফ শুরু করতে হবে। হাজরে আসওয়াদের আগের কোনো রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছা পর্যন্ত সময়ে, কুরআন তিলাওয়াত, দুরুদ শরীফ ও যে কোনো ধরনের দোয়া পড়া যায়। হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করে আবার হাজরে আসওয়াদে আসলে এক তাওয়াফ হয়। এভাবে সাত তওয়াফ বা চক্কর শেষ করে উভয় কাঁধ ঢেকে, মাকামে ইবরাহিমের পিছনে নামায পড়ার উপযুক্ত স্থান পেলে দু’ রাকাত নামায পড়তে হবে। ভিড়ের কারণে সম্ভব না হলে কাবা শরীফের যে কোনো স্থানে পড়লেই চলবে।

(২) সায়ী ওয়াজিব:এখন সায়ী করার জন্য ছাফা মারওয়া পাহাড়ে যেতে হবে। শুধু সাফাতে আরোহনের সময় এ আয়াত ‘ইন্নাছ ছফা অল মারওয়াতা মিন শাআ ইরিল্লাহ’ পড়তে হবে। পাহাড়ে আরোহণ করে কিবলামুখী হয়ে, দোয়ার জন্য দু’ হাত তুলে ৩ বার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার’ বলে এই দোয়াটি পড়তে হবে—‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, আনযাজা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহ্দাহু।’ মাঝে মাঝে অন্যান্য দোয়াও পড়া যাবে।

এখন মারওয়ার দিকে যেতে হবে। কিছু দূর গেলে দুটি সবুজ চিহ্ন দেখা যাবে। দু চিহ্নের মাঝে শুধু পুরুষদেরকে হালকা দৌড়াতে হবে। সাফা-মারওয়াতে চলতে, কুরআন তেলাওয়াত, দুরুদ শরীফ, তাসবীহ ও যে কোনো ধরনের দোয়া পড়া যায়।

(৩) মাথার চুল খাটো বা মুন্ডানো ওয়াজিব:সাফা মারওয়াতে সায়ী শেষে মাথার চুল চার ভাগের একভাগ ছোটো বা মুন্ডন করা উভয়টিই বৈধ। তবে মুন্ডন করাই উত্তম। কেননা মুন্ডনকারীর জন্য প্রিয় নবি (স) তিনবার দোয়া করেছেন। আর মহিলারা মাথার চুলের মাথা থেকে আঙুলের এক গিরা পরিমাণ ছোটো করবেন। এখন আপনার উমরা হয়ে গেল।

রোজার কাজা কাফফারা কী


কাজা কাফফারা যাদের জন্য
রমজান মাসে যারা অসুস্থ বা পীড়িত, অতিশয় বৃদ্ধ, যাদের দৈহিক ভীষণ দুর্বলতার কারণে রোজা পালন করা খুবই কষ্টদায়ক হয় এবং যারা ভ্রমণে থাকার কারণে সিয়াম পালন করতে পারে না, তাদের জন্য রোজার কাজা, কাফফারা ও ফিদয়া ইত্যাদি বদলা ব্যবস্থা স্থির করে ইসলামি শরিয়তে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান রয়েছে।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। এটা (সিয়াম) যাদের অতিশয় কষ্ট দেয়, তাদের কর্তব্য, এর পরিবর্তে ফিদয়া অর্থাৎ একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎ কাজ করে, তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। যদি তোমরা উপলব্ধি করতে, তবে বুঝতে সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্য অধিকতর কল্যাণপ্রসূ।’ (সুরা বাকারা : ১৮৪)।

যেসব কারণে কাজা ওয়াজিব
যেসব কারণে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা যাবে, কিন্তু পরে কাজা করতে হয়; তা হচ্ছে—১. মুসাফির অবস্থায়, ২. রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে, ৩. মাতৃগর্ভে সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে, ৪. এমন ক্ষুধা বা তৃষ্ণা হয়, যাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকতে পারে, ৫. শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে, ৬. কোনো রোজাদারকে সাপে দংশন করলে, ৭. নারীদের মাসিক হায়েজ-নেফাসকালীন রোজা ভঙ্গ করা যায়।

যেসব কারণে কাজা-কাফফারা ওয়াজিব
যেসব কারণে রোজার কাজা ও কাফফারা দুটোই ওয়াজিব হয়, তা হলো—জেনে-শুনে পানাহার ও স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করলে রোজা ভেঙে যাবে। এমতাবস্থায় কাজা ও কাফফারা দুটোই ওয়াজিব হয়।

রোজার কাজা কী?
শরিয়তে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিনা কারণে রোজা ভঙ্গ করলে অবশ্যই কাজা-কাফফারা উভয়ই আদায় করা ওয়াজিব। যতটি রোজা ভঙ্গ হবে, ততটি রোজা আদায় করতে হবে। কাজা রোজা একটির পরিবর্তে একটি, অর্থাৎ রোজার কাজা হিসেবে শুধু একটি রোজাই যথেষ্ট।

রোজার কাফফারা কী?
কাফফারা আদায় করার তিনটি বিধান রয়েছে—১. একটি রোজা ভঙ্গের জন্য একাধারে ৬০টি রোজা রাখতে হবে। কাফফারা ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজার মাঝে কোনো একটি ভঙ্গ হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। ২. যদি কারও জন্য ৬০টি রোজা পালন সম্ভব না হয়, তাহলে সে ৬০ জন মিসকিনকে দু’বেলা খাবার দেবে। অপরদিকে কেউ অসুস্থতাজনিত কারণে রোজা রাখার ক্ষমতা না থাকলে ৬০ জন ফকির, মিসকিন, গরিব বা অসহায়কে প্রতিদিন দু’বেলা করে পেটভরে খাবার খাওয়াতে হবে। ৩. গোলাম বা দাসী মুক্ত করতে হবে।

রোজার ফিদয়া
কারও পক্ষে রোজা রাখা দুঃসাধ্য হলে একটা রোজার পরিবর্তে একজন দরিদ্রকে অন্নদান করা কর্তব্য। শরিয়ত মোতাবেক রোজা পালনে অক্ষম বা সামর্থ্যহীন হলে প্রতিটি রোজার জন্য একটি করে ‘সাদাকাতুল ফিতর’-এর সমপরিমাণ গম বা তার মূল্য গরিবদের দান করাই হলো রোজার ‘ফিদয়া’ তথা বিনিময় বা মুক্তিপণ। অতিশয় বৃদ্ধ বা গুরুতর রোগাক্রান্ত ব্যক্তি, যার সুস্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই অথবা রোজা রাখলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে, তারা রোজার বদলে ফিদয়া আদায় করবে। পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তি যদি সুস্থ হয়ে রোজা রাখার মতো শক্তি ও সাহস পায়, তাহলে তার আগের রোজার কাজা আদায় করতে হবে। তখন আগে আদায়কৃত ফিদয়া সদকা হিসেবে গণ্য হবে।

ফিদয়া আদায় না করে মারা গেলে
অসুস্থ ব্যক্তি ফিদয়া বা মুক্তিপণ আদায় না করে মারা গেলে তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে ফিদয়া আদায় করা কর্তব্য; যদি মৃত ব্যক্তি অসিয়ত করে যায়। অন্যথায় আদায় করা মুস্তাহাব।

ফিদয়ার পরিমাণ
প্রতিটি রোজার ফিদয়া হলো একটি সদকাতুল ফিতর, অর্থাৎ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম আটা বা তার সমমূল্য ৬৫ টাকা দরিদ্র এতিম বা মিসকিনকে দান করা অথবা একজন ফকির বা গরিবকে দু’বেলা পেট পুরে খাওয়ানো।

বদলি রোজার বিধান
অনেক জায়গায় দেখা যায়, গরিব লোক কোনো ধনীর বদলি রোজা পালন করে দিচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই একজনের রোজা অন্যজন বদলি হিসেবে পালন করতে পারবে না। কেউ কারও রোজা বদলি হিসেবে রাখলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তা শুদ্ধ হবে না। রোজার ফিদয়া গোনাহ মাফের মাধ্যমে মানুষকে নিষ্কলুষ ও নির্ভেজাল করে।

সতর্কতা
বিনা কারণে যে ব্যক্তি একটি রোজা না রাখে এবং পরে যদি ওই রোজার পরিবর্তে সারা বছরও রোজা রাখে, তবু সে ততটুকু সওয়াব পাবে না, যতটুকু মাহে রমজানে ওই একটি রোজা পালনের কারণে পেত। এ সম্পর্কে ফিকহবিদদের মতে, দুই মাস একাধারে রোজা রাখলে স্বেচ্ছায় ভাঙা একটি রোজার কাফফারা আদায় হয়। এ কাফফারার বিনিময়ে একটি রোজার ফরজের দায়িত্বটাই কেবল আদায় হয়।

ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গকারীর ভয়ানক পরিণতি
আর যারা নানা অজুহাতে ও স্বেচ্ছায় পুরো মাহে রমজানের রোজা রাখে না, তাদের শাস্তি কত যে কঠিন হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গকারীদের ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মাহে রমজানের এক দিনে রোজা কোনো ওজর বা অসুস্থতা ব্যতীত ভঙ্গ করবে, সারা জীবনের রোজাও এর ক্ষতিপূরণ হবে না, যদি সে সারা জীবনও রোজা রাখে।’ (তিরমিজি ও মুসনাদে আহমদ)

আগামী বছর হজে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা


করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর হজে যেতে পারেনি বাংলাদেশিরা। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী বছর থেকে বাংলাদেশের নাগরিকরা হজে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত এসসা ইউসেফ এসসা আল দুহাইলান।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ-সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪৫ বছর উদযাপন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত এসসা ইউসেফ এসসা আল দুহাইলান বলেন, করোনাকালেও সৌদিতে বাংলাদেশি কর্মীরা নিয়মিত যাচ্ছেন। গত এক বছরে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী সৌদি আরবে গেছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন সৌদি দূতাবাস থেকে চার হাজারেরও বেশি ভিসা দেওয়া হচ্ছে। একদিনে সব্বোর্চ আট হাজার ৬০০ ভিসা ইস্যুও করা হয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। লাহোরে ওআইসি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাদশা ফয়সাল এ সম্পর্কের সূচনা করেন। আগামীতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

মন ভালো রাখতে যে ৩ আমল করবেন

বিষণ্নতা মানুষকে জেঁকে ধরে সময়ে-অসময়ে। ফলে যে কারও মন খারাপ হতে পারে। মূলত এসবের নানা কারণ রয়েছে। পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন আচরণ ও অবস্থা, কারও থেকে আঘাত পাওয়া, নিজের মতো করে কোনো কিছু করতে না পারা; ইত্যাদি কারণে মূলত মনো-অবসাদ পেয়ে বসে।

ইসলামের শিক্ষা হলো- নেতিবাচক বিষয়গুলো ভুলে যাওয়া। বেশি সময় ধরে মনে পুষে রেখে কষ্ট না পাওয়া। প্রফুল্ল ও হাসিখুশি থাকার জন্য সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার প্রয়োজন অনেক বেশি। মন প্রফুল্ল রাখার ও হৃদয় প্রশান্ত রাখার বিভিন্ন আমল আমরা ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ। এখানে ৩টি সুন্নত বা উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেগুলো আমাদের আনন্দিত ও প্রফুল্ল রাখে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।

এক. একে-অপরকে সালাম দেওয়া

বেশি পরিমাণে একে অন্যকে সালাম দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়। অন্তরে প্রশান্তি লাভ হয়। সওয়াবে জীবন ধন্য হয়। সালাম মানে পারস্পরিক শান্তির দোয়া করা। পুরুষ ও নারী সবার মধ্যে এ গুণটি থাকা উচিত। নারী-পুরুষ সবাইকে উদ্দেশ করে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।’ (মুসলিম, হাদিস : ৫৪)

দুই. সুধারণা পোষণ করা

সমাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, মানসিক প্রশান্তি অটুট ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সুসংহত রাখতে একে অন্যের প্রতি সুধারণা অত্যন্ত জরুরি। বলতে গেলে এর বিকল্প হয় না। পারস্পরিক সুধারণা সমাজে কল্যাণ বয়ে আনে। ভ্রাতৃত্ববোধ ও মায়ার বন্ধন মজবুত রাখে। তাই প্রত্যেকের উচিত একে অন্যের প্রতি সুধারণা রাখা। আল্লাহর রাসুল (সা.) হাদিসে বলেছেন, ‘সুন্দর ধারণা সুন্দর ইবাদতের অংশ।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৯৩)

তিন. হাসিমুখে কথা বলা

হাসিমুখে কথা বলা আল্লাহ রাসুল (সা.)-এর আদর্শ। পারস্পরিক সাক্ষাতের অনন্য সৌন্দর্যও হাসিমুখে কথা বলা। যারা এ গুণের অধিকারী, তাদের সবাই পছন্দ করে। এর মাধ্যমে মনও বেশ প্রফুল্ল থাকে।

নানা প্রয়োজনে যখন একে-অপরের সঙ্গে কথা বলতে হয়, তখন হাসিমুখে কথা বলা কতটুকু ফলপ্রসূ বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়াও হাসিমুখে কথা রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। আবদুল্লাহ ইবনে হারেস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন, ‘মুচকি হাসিতে আল্লাহর রাসুলের মতো অগ্রগামী কাউকে আমি দেখিনি। (শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস : ২২৭)

মসজিদে নামাজ আদায়ে নতুন নির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের


করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের সব মসজিদে জুমা ও ৫ ওয়াক্তের নামাজের আগে-পরে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এছাড়া আরো কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার (৭ এপ্রিল) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ জারি করা হয়।

এতে মসজিদে নামাজ আদায়ে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এসব নিয়ম মেনে না চললে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

যেসব নিয়ম মেনে চলতে হবে এগুলো হলো-
১. জুমা ও অন্যান্য ওয়াক্তের নামাজ এবং প্রার্থনার আগে ও পরে মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কোনোপ্রকার সভা ও সমাবেশ করা যাবে না।

২. মসজিদে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক তারাবিসহ অন্যান্য নামাজ আদায় করতে হবে এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রার্থনা করতে হবে।

৩. এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ২৯.০৩.২০২১ তারিখের প্রজ্ঞাপন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ০৪-০৪-২০২১ তারিখের নির্দেশনা মোতাবেক ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ০৫.০৪.২০২১ তারিখের জারীকৃত সকল নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট সকলকে মেনে চলতে হবে।

এর আগে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সোমবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আরো কিছু নির্দেশনা জারি করে। তাতে বলা হয়, করোনা মহামারির কারণে মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে, সুন্নাত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

জামাতে আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে আসতে হবে। মসজিদে রাখা জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

শিশু, বৃদ্ধ, যেকোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশগ্রহণ করবেন না। সর্বসাধারণের সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো যাবে না। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামগণকে অনুরোধ করা হয়।

খতিব, ইমাম, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কথাও বলা হয় এই নির্দেশনায়। এ ছাড়া পশু কোরবানির ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটি এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবেন।

যে কারনে পবিত্র কোরআনে মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে


কিছুটা উপকার না থাকলে মদের প্রতি মানুষের এতটা আকর্ষণ থাকত না। কিছুটা লাভ না হলে মানুষ জুয়ার প্রতি আসক্ত হতো না। এই চরম বাস্তবতা উপস্থাপনের অতুলনীয় দর্পণ মহাগ্রন্থ আল-কোরআন এদিকে ইঙ্গিত করেছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, লোকেরা আপনাকে মদ-জুয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করে, আপনি বলে দিন, এতে মহাপাপ। যদিও কিছুটা উপকার আছে। কিন্তু উপকারের তুলনায় অপকারই বেশি। (বাক্বারাহ ২১৯)

কিছু সময়ের জন্য হৃদয় আনন্দানুভূতি, নিজেকে মনে মনে রাজার আসেন আসীন করা, ডান-বাম বাহুর দিকে তাকিয়ে নিজেকে বীরবল, শক্তিধর মনে করা, চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ ফুটে ওঠা, কৃত্রিম উন্মত্ততায় উগ্র নারী সংশ্রবকে পরম পাওয়া মনে করা মদের উপকারিতার আওতায় পড়ে।

বিনা পরিশ্রমে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে হাজার থেকে লাখপতি, লাখপতি থেকে কোটিপতি হয়ে যাওয়া কার না পছন্দ? কোরআনের এই স্বীকারোক্তিতে আপনি খুশিতে আটখানা হবেন না, কারণ, বাহ্যিক উপকারটুকু উপস্থাপনের পর তার অপকারটা যে চরম তাও কিন্তু কোরআন সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।

মাদক মানুষের শারীরিক, পারিবারিক এবং সামাজিক সব অপকারের মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করে।

শারীরিক অপকার

১) মদ পানকারীর খাদ্যের চাহিদা কমে যায় ভীষণভাবে।

২) হজম শক্তি কমে যায় আস্তে আস্তে।

৩) চেহারায় বিকৃতি আসে একটা সময়।

৪) সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে দেহের স্নায়ুগুলোর। প্রাথমিকভাবে স্নায়ুগুলো উত্তেজিত করে দেহে শক্তি বর্ধন করে দেয়। উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পর এই শক্তি আর স্থায়ী থাকে না। অনেকটা বেলুনের মতো এর উপকার। দেখবেন, বেলুন ফুলানোর আগে কত মসৃণ থাকে, ফোলানোর পর বাতাস ছেড়ে দিয়ে বেলুনের দিকে তাকাবেন, খসখসে হয়ে যায়।

প্রায় একই রকম হয় মদ্যপের অবস্থা। মদ পান করার আগে দেহটা যে সার্ভিস দিত, মদ পানে অভ্যস্ত হওয়ার পর মদ ছাড়া আর এই সার্ভিসটা দেয় না, তখন মদখোড় মদের কাছে অসহায় হয়ে যায়। এই অসহায়ত্বকে আমরা বলি নেশা।

৫) ৪০ বছর বয়সে নিজেকে অকর্মণ্য হিসেবে আবিষ্কার করতে পারে, যেমনটা হয়ে থাকে ষাটোর্ধ্ব বয়স্কদের বেলায়।

৬) বড় রকমের আঘাত পড়ে লিভারে।

৭) কিডনি অকেজো হওয়া নৈমত্তিক ব্যাপার।

৮) যক্ষ্মা রোগ নাকি মদ্যপের অনিবার্য পরিণতি। ইউরোপজুড়ে যক্ষ্মার আক্রমণ নাকি মদপান থেকেই শুরু হয়েছে।

৯) মদপান অবস্থায় জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পায়। এই প্রভাবটা মদপান করার পর দীর্ঘক্ষণ, এমনকি জীবনভর চলতে থাকে।

১০) মদ্যপরা স্বাভাবিক জীবনে আসতে পারে না। কেউ কেউ তো পাগল হয়ে যায়।

১১) মদ রক্তের সঙ্গে মিশে না। আলাদা থেকে যায়। পয়জন হিসেবে জমা হতে থাকে। এক সময় এই জীবাণু রোগ সৃষ্টি করতে এগিয়ে আসে।

১২) মদের প্রথম আক্রমণটা হয় গলা-শ্বাসনালীতে। শ্বাসনালীতে ক্ষতের সৃষ্টি করে।

১৩) ওদের গলার স্বর মোটা হয়ে যায়। অধিকাংশ মদ্যপ চিহ্নিত হয় এই মোটা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে।

১৪) এই অভিশাপ শুধু মদ্যপ নয়, তার সন্তানের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে। মধ্যবিত্তের সন্তানরাও মদ্যপানের প্রতি আগ্রহী হয়।

১৫) এমনকি সন্তান দুর্বলদেহী হয়ে জন্ম নেয়।

১৬) কোনো সন্তান নির্বংশ হয়ে জন্ম নেবে। ওর কোনো সন্তান জন্মাবে না।

১৭) মদ্যপদেরকেই সমাজে পুতুলের সতো উপহাসের পাত্র হিসেবে দেখা হয়।

পারিবারিক অপকার

মদ্যপদের মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে যায়। মানবতা, উদারতা, সামাজিকতা রক্ষা করে চলা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এর শুরুটা হয় পরিবার থেকে। স্ত্রীদের সঙ্গে তাদের রুঢ় আচরণ, মাতা-পিতার সঙ্গে দুর্ব্যবহার, পাড়া-প্রতিবেশীদের হুমকি-ধমকি তাদের নৈমত্তিক ব্যাপার।

নেশা করতে যেখান থেকে বাধা আসে তাকেই প্রতিহত করতে তারা দ্বিধাবোধ করে না। সাধারণত এই বাধাটা আসে পরিবার থেকে। এ জন্য মাতা-পিতাকে খুন করা, স্ত্রী-সন্তানকে আঘাত করা তাদের জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার।

ড্রাগ এডিক্টেড কন্যা ঐশী কর্তৃক ডিবি অফিসার মাহফুজুর রহমানের হত্যাকাণ্ড এর সুস্পষ্ট উদাহরণ।

এ দেশে স্বল্প আয়ে পরিবার চালান যারা তাদের আমরা হুজুর বলে চিনি। দাম্পত্য কলহের বড় কারণ অভাব। কিন্তু অভাব থাকা সত্ত্বেও হুজুরদের পরিবারে এই কলহ থাকে না। কারণ সেখানে মাদকের উপস্থিতি নেই।

সামাজিক সমস্যা

১) মদপানকারীরা সমাজে মারামারি, হানাহানি, খুনাখুনিতে মজা পায়।

২) যিনা-ব্যাভিচার তাদের প্রথম পছন্দ।

৩) একটা পরিবারের ব্যয় নির্বাহ যে পরিমাণ হয়, একটা মদ্যপের পকেট খরচ এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। এ জন্য নবীজি মদকে সব অশ্লীলতা ও কদর্যতার মূলমন্ত্র বলেছেন।

এক জার্মান ডাক্তার বলেছেন আপনি আমাকে দেশের চলমান সরাবখানার অর্ধেকটা বন্ধ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিন, আমি আপনাকে অর্ধেক হাসপাতাল ও জেল অপ্রয়োজনীয় হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেব।

জুয়ার নেশা মানুষকে চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি এমনকি খুনাখুনিতে লিপ্ত করে। এক দিয়ে বহু গুণ পাওয়ার আশায় ওরা হারাতে থাকে সঞ্চিত সব সম্পদ। বিক্রি করতে থাকে স্ত্রীদের গহনাঘাটি। এমনকি জুয়ায় হেরে স্ত্রীকে জুয়ার দানে ধরার উদাহরণ পত্রিকায় আমরা দেখছি।

বর্তমান ক্যাসিনো সংস্কৃতি মদ-জুয়াকে দিয়েছে দুর্ধর্ষ গতি। জুয়ার আধুনিক সংস্করণ ক্যাসিনোর মাধ্যমে গোটা জাতির অর্থ জমা হচ্ছে গুটিকয়েক জুয়াড়ি লকারে। শত শত কোটি টাকা অচল হয়ে পড়ে আছে ওদের গুদামঘরে। এই টাকাগুলো কুক্ষিগত না হলে সচল হয়ে জাতীয় জীবনে অনেক সমৃদ্ধি নিয়ে আসত।

ক্যাসিনো সংস্কৃতির কবলে পড়ে আজ জাতীয় অর্থনীতি হুমকির মুখে। সরকারের বহুবিধ উন্নয়ন ম্লান করে দিয়েছে জুয়াড়িদের এই ক্যাসিনো সংস্কৃতি।

তবে আশার কথা যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করছেন। মদ ও জুয়ার আসর ধ্বংসে নামিয়েছেন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনী। দেশকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে এর বিকল্প ছিল না। কোনো প্রকার হুমকি-ধমকি যেন এই অভিযান ব্যাহত না হয়।

কোরবানি না দিয়ে টাকা দান ইসলামে বৈধ নয়, বললেন জাতীয় মসজিদের ইমাম


অর্থ সংকট ও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে কোরবানি দেয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে ধর্মপ্রাণ ও সামর্থবান মুসল্লি যারা কোরবানি দেয়ার কথা ভাবছেন, সরকারের প্রতি তাদের আহ্বান কোরবানির শেষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেবেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কোরবানির বিকল্প কিছু নেই বলে মত দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট আলেম ওলামারা। এছাড়া কোরবানির বিপরীতে অর্থ দানও করা যাবে না বলে মত তাদের।

ইসলাম ধর্মের রীতি মোতাবেক পশু কোরবানি মুসলমানদের জন্য অন্যতম একটি বিধান। যা ইসলামে ওয়াজিব করা হয়ছে সামর্থবানদের উপর। সে অনুযায়ী প্রতিবছরই আরবি ক্যালেন্ডারের জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে উদযাপন হচ্ছে ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। তবে এবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হতে যাচ্ছে কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা। মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে সংশয় তৈরি হয়েছে এ ধর্মীয় আচার নিয়ে। অর্থ সঙ্কটের বিষয়টি যেমন রয়েছে, তেমনি পশুর হাট থেকে কোরবানির শেষ আনুষ্ঠানিকতা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের বিষয়টি নিয়ে ভাবনায় আছেন সাধারণ মুসলমানরা।

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাধারণ মানুষ বলছেন, মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব এড়াতে নিজেদেরও সতর্ক থাকতে হবে যথাসাধ্য। এদিকে, যারা কোরবানির বিকল্প অন্যকিছু ভাবছেন তাদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম সাফ জানিয়েছেন, কোরবানির বিপরীতে অন্য কোন পন্থাই ইসলামে বৈধতা পাবে না। পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহিউদ্দিন কাসেম বলেন, মহামারির কারণে কোরবানি না দিয়ে অসহায় মানুষকে দান করার কোন ভিত্তি নেই। কোরবানির শেষ প্রক্রিয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতিও গুরুত্ব দেন জাতীয় মসজিদের এই পেশ ইমাম।

২ কোটি ২৫ লাখ টাকা অনুদান পেল ৩৫৯টি মাদরাসা


করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলোর মতো কওমি মাদরাসাগুলোও বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন মাদারাসা বন্ধ থাকার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এসব প্রতিষ্ঠানে। আয় কমে যাওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের ঠিকমতো বেতন দিতে পারছেন না। বন্ধ রয়েছে চলমান অনেক মাদরাসার সংস্কার কাজ। জমতে শুরু করেছে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য বিল।এমতাবস্থায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ মন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্য মন্ত্রীর তহবিল থেকে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। অনুদানপ্রাপ্তির তালিকায় ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত ৩৫৯টি প্রসিদ্ধ কওমি ও আলিয়া মাদরাসাসহ হেফজখানা এবং এতিমখানার নাম রয়েছে। তন্মধ্যে ১৪৬টি মাদরাসা সর্বোচ্চ ২ লাখ ও ১ লাখ টাকা পেয়েছেন। অন্য মাদরাসাগুলোকে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অবস্থাভেদে ২০-৩৫ হাজার করে বিভিন্ন অংকের টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। মাদরাসার সংস্কারের জন্য দেওয়া অনুদানের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাদরাসা সংলগ্ন মসজিদেও অনুদান দেওয়া হয়েছে।

১৩ জুন রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন। এর আগে তিনি নিজ উদ্যোগে কওমি মাদরাসার ছয়টি বোর্ডসহ হাইয়াতুল উলইয়ার নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের অধীনে পরিচালিত এসব মাদরাসা ও মসজিদগুলোর জন্য আর্থিক অনুদান বরাদ্দ করেন। অনুদান প্রাপ্তির তালিকায় আলিয়া মাদরাসাসহ নানা মতাদর্শের ধর্মীয় সংগঠনের অধীনে পরিচালিত মাদরাসা ও মসজিদ রয়েছে। তবে কওমি মাদরাসার সংখ্যা বেশি। কারণ কওমি মাদরাসাগুলো কখনও সরকারি কোনো অনুদান ও সাহায্য-সহযোগিতা পায় না।ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ অনুদানপ্রাপ্ত একাধিক মাদরাসার পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯ সালে সরকারি খরচে প্রথমবারের মতো হজযাত্রীদের ধর্মীয় ও বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতে ৫৮ জন আলেমকে সৌদি আরব পাঠানো হয়। অনুদানপ্রাপ্তির তালিকায় তাদের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার প্রসিদ্ধ মাদরাসা অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আবেদনের ভিত্তিতে। তালিকায় বিভিন্ন বোর্ড, ধর্মীয় সংগঠন ও সংস্থার নেতাদের পরিচালিত মাদরাসা রয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে এসব অনুদান মাদরাসাগুলোর সংস্কার কিংবা পরিচালনার জন্য বেশ সহায়ক বলেও মন্তব্য করেছেন মুহতামিমরা। কওমি মাদরাসা নেতৃবৃন্দ করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে এই অনুদান প্রদানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও তার জন্য দোয়া করেছেন।অনুদানপ্রাপ্তির তালিকায় রয়েছে- চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসা, জামিয়া রাহমানিয়া সাতমসজিদ-মোহাম্মদপুর, জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী, ফরিদাবাদ মাদরাসা, লালবাগ মাদ্রাসা, বড় কাটারা মাদরাসা, মারকাযুদ দাওয়াতিল ইসলামিয়া হযরতপুর কেরানীগঞ্জ, জামিয়াতুল আজিজ আল ইসলামিয়া কেরানীগঞ্জ, জামেয়া শরইয়া মালিবাগ, জামিয়াতুস সুন্নাহ শিবচর মাদারীপুর, গওহরডাঙ্গা মাদরাসা গোপালগঞ্জ, ঢালকানগর মাদরাসা, পটিয়া মাদরাসা, জিরি মাদরাসা চট্টগ্রাম, দারুল মাআরিফ মাদরাসা চট্টগ্রাম, জামিয়া ওবায়দিয়া নানুপুর মাদরাসা, চরমোনাই আলীয়া মাদরাসা, শর্ষিনা আলিয়া মাদরাসা, ছারছীনা আলিয়া মাদরাসা, আকবর কমপ্লেক্স মিরপুর, শায়েখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, দারুল উলুম রামপুরা বনশ্রী, আফতাবনগর মাদরাসা, হিলি মাদরাসা দিনাজপুর, গহরপুর মাদরাসা সিলেট, জামিয়া দরগা সিলেট, রেঙ্গা মাদরাসা সিলেট, আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর মাদরাসা সিলেট, জামিয়া ইকরা ঢাকা, মদিনাতুল উলুম কামিল মাদরাসা, জামিয়া হোসাইনিয়া কামিল মাদরাসা মহাখালী, বাহিরদিয়া মাদরাসা ফরিদপুর, দারুল উলুম মাদরাসা খুলনা, দারুল উলুম মাদরাসা কুমিল্লা, জামিয়া আরাবিয়া আশরাফিয়া মিরপুর, জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া চট্টগ্রাম, ভবানীপুর মাদরাসা গোপালগঞ্জ, মাখজানুল উলুম মাদরাসা ময়মনসিংহ, লক্ষীপাশা মাদরাসা নড়াইল, হস্তপল্লী শামসুল উলুম মাদরাসা গোপালগঞ্জ, আল জামেয়াতুল ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার কক্সবাজার, জামিল মাদরাসা বগুড়া, পোরশা মাদরাসা নওগাঁ, জামিয়া হুসাইনিয়া আরাবিয়া মেলান্দহ জামালপুর ও কাজুলিয়া মাদরাসা গোপালগঞ্জসহ আরও বেশকিছু মাদরাসা।সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে ১৪ হাজার ৩৯৭ কওমি মাদরাসা রয়েছে। তবে কওমি সংশ্লিষ্টদের দাবি, সারা দেশে মাদরাসার সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে ২৫ লাখের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। বাংলাদেশে ছয়টি পৃথক আঞ্চলিক বোর্ডের মাধ্যমে এসব মাদরাসা পরিচালিত হয়।এর আগে করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ঈদুল ফিতরের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই ধাপে সারা দেশের ১৩ হাজার ৯২৯টি মাদরাসায় ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। মাদরাসার ছাত্র সংখ্যা একশ’ বা এর কম হলে ১০ হাজার টাকা, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে ১৫ হাজার টাকা এবং ২০১ এর অধিক হলে ২০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয় তখন।পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতাধীন দেশের দুই লাখ ৪৪ হাজার ৪৩টি মসজিদকে পাঁচ হাজার টাকা করে ১২২ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান দিয়েছে সরকার।বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো মূলত স্থানীয় সাহায্য, অনুদান ও শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। দারুল উলুম দেওবন্দের রীতিনীতি অনুসরণ করে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সরকারি কোনো সহায়তা গ্রহণ করে না এসব মাদরাসা। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে হচ্ছে। মৃদু আপত্তি থাকলেও তারা সরকারি অনুদান গ্রহণ করছেন।১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দেওবন্দ মাদরাসার অনুসরণ-অনুকরণে বাংলাদেশে যে মাদরাসাগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে, তাদের কোনো স্বীকৃতি ছিল না। পরে ২০১৭ সালে বর্তমান সরকার কওমি মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বীকৃতির সময়েও আলোচনায় দেওবন্দের আদলে স্বতন্ত্র ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে সরকারের আর্থিক সহযোগিতা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল কওমি নেতারা।কওমি মাদরাসাগুলোর ছয়টি শিক্ষা বোর্ডের একটি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)-এর একজন প্রভাবশালী সহ-সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, ‘কওমি মাদরাসার সরকারি অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা কাউকে বাধাও দিচ্ছি না।’ধর্ম মন্ত্রণালয় এই অনুদান ছাড়াও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অনুকূলে ২ লাখ ৪০ ও সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে। এ টাকা মসজিদ, মাদারাসা, এতিমখানা, কবরস্থান, ঈদগাহ ও মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা সংস্কার ও নির্মাণখাতে ব্যয় করা হবে। তবে ধর্ম মন্ত্রীর তহবিল থেকে একসঙ্গে এতগুলো মাদরাসায় এভাবে টাকা বরাদ্দের নজির নেই।

তিন ধাপে বাড়ল হজ নিবন্ধনের সময়


বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চলতি বছর হজ গমনেচ্ছুদের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রমের সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে তিন ধাপে বাড়ানো হলো হজ নিবন্ধনের সময়।বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে আগ্রহী প্রাক- নিবন্ধিত ব্যক্তিবর্গের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, হজ পালনে ইচ্ছুক, নিবন্ধনের জন্য পাসপোর্ট জমা প্রদানকারী অনেকে সরকারি ছুটির কারণে ব্যাংক থেকে নিবন্ধন ভাউচার গ্রহণ করতে পারেননি। ইতিমধ্যে নিবন্ধন ভাউচার গ্রহণকারী অনেকে টাকা জমা প্রদান করতে না পারায় নিবন্ধন করতে পারেননি। এমতাবস্থায় ২০২০ সালে সরকারি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিবন্ধনের সুবিধার্থে হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়সীমা শেষবারের মতো আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।

সেখানে বলা হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত সকল প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিসহ হজগমনেচ্ছু যেকোনো ব্যক্তি নতুনভাবে একইসঙ্গে প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রাক-নিবন্ধনের সর্বশেষ ক্রমিক ৬ লাখ ৭২ হাজার ১৯৯ পর্যন্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আগে আসলে আগে নিবন্ধন করা হবে ভিত্তিতে নিবন্ধন করতে পারবেন। পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সুবিধার্থে আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে পাসপোর্ট দাখিল করতে হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা শুধুমাত্র ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৯০ টাকা জমা প্রদান করে নিবন্ধন করবেন। আপাতত কোন অবস্থাতেই এর অতিরিক্ত টাকা জমা প্রদান করবেন না। কোনো হজযাত্রী এ পর্যায়ে ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৯০ টাকার বেশি টাকা জমা প্রদান করলে এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো এজেন্সি নিবন্ধনের জন্য এর অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় গৃহীত অর্থ কোনো অবস্থাতেই এ পর্যায়ে হজ কার্যক্রম বাবদ বাংলাদেশে ব্যয় করা যাবে না এবং সৌদি আরবেও প্রেরণ করা যাবে না । ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ব্যতীত কোনো এজেন্সি ব্যাংক থেকে এ টাকা উত্তোলন করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপকগণকে এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।

গত ১ মার্চ থেকে হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে হজ নিবন্ধনের সময়সীমা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বেধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। নিবন্ধনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না মানুষ। এরপর ১২ মার্চ তা ২৫ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়।চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন সহ সর্বমোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জনের হজে যাওয়া কথা রয়েছে।

১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৪০৫ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫১ হাজার ১৬ জন নিবন্ধন করেছেন। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারের হজ অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সৌদি সরকার বর্তমানে ওমরা হজ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। মক্কা ও মদিনার প্রধান মসজিদে নামাজে বন্ধ রাখা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত হজ হবে কি হবে না এ নিয়ে সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

মহানবীর (সা.) নির্দেশনা মেনে ভাইরাস ঠেকানঃ মার্কিন গবেষক


তরুণ মার্কিন গবেষক ড. ক্রেইগ কন্সিডাইন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর নির্দেশনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির একজন গবেষক হিসেবে কর্মরত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমিউনোলজিস্ট ডা. অ্যান্থনি ফসি এবং মেডিক্যাল রিপোর্টার ডা. সঞ্জয় গুপ্তের মতো বিজ্ঞ চিকিৎসকরা করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হোম কোয়ারেন্টিনের কথা বলেছেন।

একই সঙ্গে সুস্থ লোকদের জন্য জনসমাগম এড়িয়ে একাকী জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এসব উপায়ই করোনা থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

অথচ আপনারা কি জানেন মহামারির সময়ে সর্বপ্রথম কে এই কোয়ারেন্টাইনের উদ্ভাবন করেছেন? আজ থেকে প্রায় ১৩শ বছর আগে ইসলাম ধর্মের নবী মোহাম্মাদই (সা.) পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ‘কোয়ারেন্টিন’-এর ধারণা দেন।

তাঁর সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনও সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ছিল না। তবে তিনি এসব রোগব্যাধিতে করণীয় সম্পর্কে তার অনুসারীদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন এককথায় তা ছিল দুর্দান্ত! তাঁর মূল্যবান সেই পরামর্শ মানলেই করোনার মতো যেকোনও মহামারী থেকে যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করা যায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি (মহানবী) বলেছেন, “যখন তুমি কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনতে পাও তখন সেখানে প্রবেশ কোরো না। পক্ষান্তরে প্লেগ যদি তোমার অবস্থানস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে ওই জায়গা ত্যাগ কোরো না।”

তিনি আরও বলেছেন, “সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ মানুষের থেকে দূরে থাকবে।”

এভাবে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিস্থিতিতে ইসলামের নবী মোহাম্মাদ (সা.) তাঁর অনুসারীদের বিশেষ করে রোগব্যাধিতে আক্রান্ত লোকদের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধ করতেন।

এ ব্যাপারে তাঁর অমূল্য কিছু কথামালা হল, ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ’, ‘ঘুম থেকে জেগেই দুই হাত ধৌত করো। কেননা ঘুমের মধ্যে তোমার হাত কোথায় স্পর্শ করেছে তুমি জান না’, ‘খাওয়ার আগে ও পরে ধৌতকরণের মধ্যেও বরকত রয়েছে’ ইত্যাদি।

মোটকথা, তাঁর অনুসারীরা যেকোনও পরিস্থিতির সম্মুখীন হোক তা থেকে পরিত্রাণের ব্যাপারেই তিনি তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। ধর্মীয় ক্ষেত্রে তিনি যেমন ব্যাপক অবদান রেখে অমর হয়ে আছেন, ঠিক তেমনই মানুষের জীবনযাপন বিষয়ক মহামূল্যবান যে পরামর্শ তিনি দিয়ে গেছেন তা আজও অনুকরণীয়।

সুত্রঃ কালের কন্ঠ