সব শিল্পীরই মনের মধ্যে আমৃত্যু অতৃপ্তি থাকবে, আমারও আছে


বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। পুরো নাম ফরিদা আক্তার পপি। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন তিনি। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এই অভিনেত্রী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রাঙ্গনেও প্রশংসিত হন। ববিতা ২৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরপর তিন বছর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নিয়ে গড়েছেন রেকর্ড। এছাড়া ‘অনঙ্গ বউ’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় শ্রেষ্ঠ নায়িকার পুরস্কার পান। সর্বশেষ তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন।

আজ (৩০ জুলাই) এই নন্দিত নায়িকার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনটিতে একমাত্র ছেলের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন তিনি। গত মে মাসের মাঝামাঝিতে একমাত্র ছেলে অনিকের কাছে ছুটে গেছেন।  ববিতা জানান, মা–ছেলে মিলে কানাডার কিচেনার শহরে থাকেন। দিনটিতে মাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার নানা চেষ্টা করেন ছেলে।

ছেলের কাছে গেলে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াতে পারেন ববিতা। ছেলের সঙ্গে জন্মদিনে আনন্দ উদযাপন করলেও ঢাকার অনেক কিছুই মিস করেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে ডিসিআইআইয়ের (ডিসট্রেসড চিলড্রেন অ্যান্ড ইনফ্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল) শুভেচ্ছাদূত হওয়ায় আমার কাছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা আসত। তাদের রান্না করে খাওয়াতাম। ওরা আমাকে গান শোনাত, নেচে দেখাত। আমার জন্য নানা ধরনের উপহার আনত। ওদের খুব মিস করছি। এ ছাড়া চলচ্চিত্রের আমার অনুজ অনেকে স্বাভাবিক সময়ে বাসায় আসত, তাদেরও ভীষণভাবে মিস করব।’

জন্মদিনে নানাজনের নানান উপলব্ধি হয়। বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ববিতারও তেমনটা হয়। কথা প্রসঙ্গে ববিতা বললেন, ‘আমার জন্য সৃষ্টিকর্তা যে বয়সটা নির্ধারণ করেছেন, তা থেকে একটি বছর কমে গেল, এটা মনে হয়। বাস্তবে তো জন্মদিন এলেই জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে ফেলছি, এরপরও আমরা উদযাপন করি। তবে ধুমধাম করে জন্মদিন কখনোই উদযাপন করিনি। আমি মনে করি, এত হইচই করার কিছু নেই। মনে হয়, জীবন একটাই, এখনো অনেক কিছু করার আছে। কী করতে পারলাম না—এসব নিয়ে ভাবি।’

অভিনয় দিয়ে মানুষের মন জয় করা ববিতাকে এখন আর অভিনয়ে দেখা যায় না। তবে তিনি অভিনয় করতে চান। বললেন, ‘আমি তো আমৃত্যু অভিনয়ে থাকতে চাই।’

‘সেই ধরনের গল্প পাই না। মুগ্ধ করার মতো গল্পের প্রস্তাব নিয়ে কেউ আসেননি। একটা কথা কি, কোনো শিল্পীই এক জীবনে সবকিছু পেয়ে গেছেন, এটা হয় না। সব শিল্পীরই মনের মধ্যে আমৃত্যু অতৃপ্তি থাকবে। আমারও আছে। সুনির্দিষ্ট করে বলতে চাই না। তবে কোনো পরিচালক নতুন কোনো ভাবনা নিয়ে আমার কাছে আসেননি।’ –যোগ করলেন ববিতা।

শাহরুখের ‘জওয়ান’ নিয়ে কটাক্ষের শিকার ঋদ্ধি ডোগরা


প্রযোজনার মাধ্যমে হাতেখড়ি ঋদ্ধি ডোগরার। এরপর নৃত্যশিল্পী ও সঞ্চালক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সেখান থেকে ছোট পর্দায় অভিনয়। ক্যারিয়ারে সাফল্যের সিঁড়িতে ওঠার ধাপে বলিউডের ‘বাদশা’ শাহরুখ খানের সঙ্গেও অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। কিন্তু একই সিনেমায় অভিনয় করলেও পরে দেখা কেন মিলল না ঋদ্ধির? ‘জওয়ান’ সিনেমার প্রিভিউ বা প্রথম ঝলক মুক্তির পরেই উঠেছে সেই প্রশ্ন।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের গোড়ায় মুক্তি পেতে চলেছে দক্ষিণী পরিচালক অ্যাটলি পরিচালিত সিনেমা জওয়ান। শাহরুখের পাশাপাশি এই সিনেমায় মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে দক্ষিণী তারকা বিজয় সেতুপতি ও নয়নতারাকেও।জওয়ানের পার্শ্বচরিত্রগুলোও নজরকাড়া। সান্য মালহোত্র, প্রিয়মণি, সুনীল গ্রোভার ও যোগী বাবুকে এ সিনেমার পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে। ক্যামিও চরিত্রে নজর কাড়তে চলেছেন দীপিকা পাড়ুকোনও।

জওয়ান সিনেমার প্রথম ঝলকে মুখ্য চরিত্রের পাশাপাশি সমস্ত পার্শ্বচরিত্রের মুখ দেখানো হলেও সেই তালিকা থেকে কি তবে বাদ পড়ে গেলেন ঋদ্ধি? জওয়ান সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছেন ঋদ্ধিও।প্রথম ঝলক হিসেবে জওয়ান সিনেমার যে ভিডিওটি মুক্তি পেয়েছে সেখানে দর্শক এক মুহূর্তের জন্যও দেখা পেলেন না ঋদ্ধির। তা নিয়ে নেটিজেনদের কটাক্ষের শিকার হয়েছেন তিনি।

এক টুইটার ব্যবহারকারী ঋদ্ধিকে উদ্দেশ করে লেখেন, প্রথম ঝলকে শাহরুখ খানকে ৩০ বার দেখে ফেললাম। কই আপনার দেখা পেলাম না তো? তার উত্তরে যদিও চুপ করে ছিলেন না ঋদ্ধি। তিনি টুইট করে লেখেন, আপনি শাহরুখকে ৩০ বার দেখতে পেয়েছেন। আর কী-ই বা চাই?

ঋদ্ধির এক অনুরাগী দুঃখপ্রকাশ করে টুইট করেন, অসংখ্য বার জওয়ান সিনেমার প্রিভিউ দেখলাম। কিন্তু আপনাকে একটি বারের জন্যও দেখতে পেলাম না। এর উত্তরে ঋদ্ধি টুইটারে লেখেন, আপনি সিনেমাটিও অসংখ্যবার দেখুন।বারবার নেটিজেনদের মন্তব্য চালাকির সঙ্গে এড়িয়ে গেছেন ঋদ্ধি। এর মধ্যে আরও এক ভক্তের প্রশ্ন, প্রিভিউতে তো আপনি নেই। সিনেমায় থাকবেন তো? ঋদ্ধি জানান, প্রথম ঝলকেও তিনি রয়েছেন। কিন্তু ঠিক কোন জায়গায় তা শুধু তিনিই জানেন।

ঋদ্ধির এক অনুরাগী আবার একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, প্রিভিউতে এক নারীকে দেখা গেছে এক শিশুকে ধরে থাকতে। ওই নারীই কী আসলে আপনি? তার উত্তরে শুধু একটি হাসির ইমোজি। তা হলে নীরব থেকেও সায় দিলেন ঋদ্ধি?একাধিক হিন্দি ধারাবাহিকে কাজ করলেও ‘অসুর’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন ঋদ্ধি। ১৯৮৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে জন্ম তার। বাবা-মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে একই ছাদের তলায় থাকতেন তিনি।

স্কুলের গণ্ডি পার করার পর দিল্লির এক কলেজে মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন ঋদ্ধি। তার পর নাচের বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন তিনি।এক প্রতিষ্ঠিত চ্যানেল সংস্থার একটি শোতে সহ-প্রযোজনার কাজের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন ঋদ্ধি। ২০১২ সালে একটি বিশেষ শোর সঞ্চালনার দায়িত্বেও ছিলেন। কিন্তু ২০০৭ সাল থেকেই ছোট পর্দায় কাজ করতে শুরু করেন ঋদ্ধি।

২০১০ সালে একটি ধারাবাহিকে অভিনয়ের সূত্রে ঋদ্ধির আলাপ হয় তার সহ-অভিনেতা রাকেশ বশিষ্ঠের সঙ্গে। একই বছর ‘মর্যাদা: লেকিন কব তক?’ ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন ঋদ্ধি ও রাকেশ।কাজের সূত্রে আলাপ হলেও ঋদ্ধি ও রাকেশের সম্পর্ক পূর্ণতা পায় ২০১১ সালে। সাত পাকে বাঁধা পড়েন দু’জনে। কিন্তু ২০১৯ সালে বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন তারা।

রাকেশের সঙ্গে বিচ্ছেদ প্রসঙ্গে ঋদ্ধি এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা দু’জন একে অপরের খুব ভাল বন্ধু। আমরা শুধুমাত্র দম্পতি হিসাবে একসঙ্গে থাকছি না। দু’জনের বন্ধুত্বে চিড় ধরবে না।২০১৩ সালে ‘সাবিত্রী’ ধারাবাহিকে অভিনয় করার পর ছোট পর্দায় পরিচিতি তৈরি হয় ঋদ্ধির। নাচের একটি জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোতেও অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় তাকে।

২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য ম্যারেড ওম্যান’ ওয়েব সিরিজে তার অভিনয় সবার মনে ধরে। ক্যারিয়ারে লম্বা লাফ দিয়েছেন ঋদ্ধি। শাহরুখের সঙ্গে একই সিনেমায় অভিনয় করে নিজের ক্যারিয়ারে একটি মাইলফলক গড়ে তুলেছেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুরাগী মহলও তৈরি করে ফেলেছেন ঋদ্ধি। এখন পর্যন্ত ইনস্টাগ্রামে তার অনুরাগী সংখ্যা ১৮ লাখের গণ্ডি পার করেছে।

শাহরুখকে চিনতেনই না ‘পাঠান’ সিনেমার অভিনেত্রী


ভারত তো বটেই, ‘পাঠান’ সিনেমার ঝড় বইছে বিশ্বের বেশ কিছু দেশে। শাহরুখ বন্দনায় মেতেছেন লাখ লাখ ভক্ত। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো— এই শাহরুখ খানকে চিনতেনই না তার সহ-অভিনেত্রী র‌্যাচেল অ্যান মুলিনস। হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এই মার্কিন অভিনেত্রী।

কথার শুরুতে র‌্যাচেল বলেন, আমি যখন পাঠান সিনেমায় কাজ করতে রাজি হই, তখন সিনেমাটির বিষয়ে কিছুই জানতাম না; এমনকী সিনেমাটির নামও না। কিন্তু মুম্বাইয়ে যখন সিনেমাটির শুটিংয়ে অংশ নিই, তখন দেখি যশরাজ ফিল্মসের ওয়ারড্রব ট্রাঙ্কে দীপিকা পাড়ুকোনের নাম। তারপর জানতে পারি, এটি একটি বড় প্রজেক্ট।

শাহরুখ খানের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে র‌্যাচেল বলেন, ‘শাহরুখ খানের সঙ্গে কাজ শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত তার বিষয়ে কিছুই জানতাম না। সিনেমাটির একজন সহকারী পরিচালক আমাকে জানান, শাহরুখ খান অনেক বড় তারকা। শুটিংয়ের প্রথম দিনই আমরা একসঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়েছি। তার আর আমার জন্মদিনও এক।’

‘পাঠান’ সিনেমায় যুক্ত হওয়ার গল্প জানিয়ে র‌্যাচেল বলেন, ‘সিনেমাটিতে অভিনয়ের জন্য যখন আমাকে ফোন করা হয়, ওই সময়ে আমি মালদ্বীপে ছিলাম। জরুরি ডাকে সাড়া দিয়ে মুম্বাই যাই। আমার অডিশন নিয়েছিলেন রবি আহুজা।’

‘পাঠান’ মুক্তির পর ভক্তদের কাছ থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এ প্রশ্নের জবাবে র‌্যাচেল বলেন, ‘এই সিনেমার জন্য মানুষের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তদের সাড়া পেয়ে আমি হতবাক।’মার্চেন্ডাইজিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন র‌্যাচেল। ১২ বছর বয়সে মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। ‘পাঠান’ ছাড়াও ভারতীয় ওয়েব সিরিজ ‘হুজপা’-তে অভিনয় করেছেন র‌্যাচেল। এতে আরো অভিনয় করেন বলিউড অভিনেত্রী তনয়া মানিকতলা, প্রণালী, বরুণ শর্মা প্রমুখ। ২০২১ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লাইভে মুক্তি পায় এটি।

নিরব-মাহি প্রথমবার একসঙ্গে


অভিনেতা নিরব ও অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি অনেকদিন ধরেই যুগপৎভাবে কাজ করে আসছেন। কিন্তু চলচ্চিত্রে বা বিজ্ঞাপনে একত্রে দেখা যায়নি এই জুটিকে। তবে এবার সে খালি জায়গাটার একটি অংশ পূর্ণ হতে যাচ্ছে। দুজনে যুগলবন্দি হয়ে আসছেন বিজ্ঞাপনচিত্রে।

সম্প্রতি নির্মাতা অনন্য মামুনের একটি বিজ্ঞাপনে জুটি হয়েছেন তারা। এর শুটিং হয়েছে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে। বুধবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ হয় সেখানে। একটি ফ্যাশন হাউজের বিজ্ঞাপন এটি।

নিরব বলেন, প্রথমবার মাহির সঙ্গে বিজ্ঞাপনে কাজ করলাম। এর গল্প ও নির্মাণশৈলীতে সিনেমাটিক বিষয়ও আছে। এতে অভিনয় করে খুবই ভালো লেগেছে। চলচ্চিত্রে দুজনকে একত্রে কবে নাগাদ দেখা যাবে? এ প্রশ্নের জবাবে কালের কণ্ঠকে নিরব বললেন, দেখা যাবে

মাহি বলেন, আমি ইদানীং গড়পড়তা কোনও কাজে নিজেকে জড়াচ্ছি না। এই বিজ্ঞাপনটিতে কাজ করে ভালো লেগেছে। অনন্য মামুন ভাইয়ের পরিচালনায় এর আগে একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম। সব মিলিয়ে বিজ্ঞাপনটি দর্শকের ভালো লাগবে।

এদিকে, নিরব সিনেমার অভিনয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়াও একটি কুকিং শো নিয়ে সারা বাংলাদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে, মাহি অভিনয়টা কমিয়ে দিয়েছ্নে। চালু করেছেন তার নতুন রেস্তোরাঁ।

মা হচ্ছেন কাজল


গত বছরের ৩০ অক্টোবর দীর্ঘদিনের প্রেমিক গৌতম কিচলুকে বিয়ে করেছিলেন দক্ষিণি নায়িকা কাজল আগারওয়াল। বর্তমানে জোর গুঞ্জন চলছে, মা হতে যাচ্ছেন তিনি। বেশ কিছুদিন ধরেই কাজলের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবরে সরগরম সিনেমা দুনিয়া। মাঝপথে তিনি ‘আচারিয়া’ ও ‘ঘোস্ট’ সিনেমার শুটিং বন্ধ করে দেওয়ায় এই আলোচনা এখন আরও তুঙ্গে।

জানা গেছে, নির্মাতাকে কাজল জানিয়েছেন, কিছুদিনের বিরতি নিয়ে আবার শুটিংয়ে ফিরবেন। আবার শোনা যাচ্ছে, মা হওয়ার পরই শুটিং ফ্লোরে ফিরবেন ‘সিংহম’ তারকা।অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণেই নাকি নতুন কোনো সিনেমার কাজ নিচ্ছেন না কাজল। তাই তার অন্তঃসত্ত্বার গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। মাতৃত্বের সময়টি পুরোপুরি উপভোগ করতেই সিনেমা থেকে তিনি দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা অনেকের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এখন আগের মতো সক্রিয় দেখা যায় না কাজলকে।

কাজল আগারওয়ালের বোন নিশা এক সাক্ষাৎকারে মজা করেই বলেছিলেন, ‘আমি চাই, কাজলের কোলে খুব তাড়াতাড়ি একটা বাচ্চা আসুক। আমি এ কথা ওকে ওর বিয়ের সময়ই বলে দিয়েছিলাম। এর পেছনে আমার একটি স্বার্থও আছে। কারণ, ও যদি মা হতে দেরি করে, তাহলে আমার ছেলের সঙ্গে ওর বাচ্চার বয়সের বেশ ব্যবধান হয়ে যাবে।’

করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে কবরী


করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ঢাকাই সিনেমার মিষ্টি মেয়ে খ্যাত অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী। শারীরিক কিছু জটিলতা থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।আজ বুধবার (০৭ এপ্রিল) কবরীর ব্যক্তিগত সহকারী নূর উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, গত সোমবার ম্যাডামের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর ওনাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

কবরীর অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। তবে তাকে সাধারণ বেডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যোগ করেন নূর উদ্দিন।প্রসঙ্গত, সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ১৯৬৪ সালে ‘সুতারাং’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে নাম লেখান নারায়ণগঞ্জের মেয়ে কবরী। এরপর ‘বাহানা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘রংবাজ’, ‘সারেং বউ’, ‘সুজন সখী’সহ অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।

সিনেমা প্রযোজনাও করেছেন। পরিচালক হিসেবেও তৈরি করেছেন সিনেমা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর হাত দিয়েছেন দ্বিতীয় সিনেমা নির্মাণে। ‘এই তুমি সেই তুমি’ নামের ছবিটি পরিচালনার পাশাপাশি এর কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ রচনা করেছেন কবরী। সরকারি অনুদানের এ ছবিতে অভিনয়ও করবেন তিনি। কবরী পরিচালিত প্রথম সিনেমার নাম ‘আয়না’।

পায়েল সরকার বিজেপিতে গেলেন


বিজেপিতে যোগ দিলেন অভিনেত্রী পায়েল সরকার। বুধবার নাড্ডার উপস্থিতিতেই আজ বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন পায়েল।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে দল বদলের পালা অব্যাহত।

রুদ্রনীল ঘোষ থেকে যশ দাশগুপ্তরা যখন বিজেপিতে যোগ দেন, সেই সময় জোড়াফুল শিবিরে যোগ দেন অভিনেতা সৌরভ দাস থেকে কাঞ্চন মল্লিক, সায়নী ঘোষরা।

যা নিয়ে বিস্তর গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। ‘বামপন্থী’ মনোভাবাপন্ন সায়নী ঘোষ যখন বুধবার তৃণমূলে কংগ্রেসে যোগ দেন, সেই সময় একের পর এক মিমে ভরে যায় সামাজিক মাধ্যম। এরপরই সায়নীকে নিয়ে পালটা মুখ খোলেন শ্রীলেখা মিত্র।

যদিও তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে সায়নী এখনও প্রকাশ্য মুখ খোলেননি। তবে তৃণমূলে যোগ দিয়ে ‘বাংলা ঘরের মেয়েকেই চায়’ বলে মন্তব্য করেন সায়নী। কাঞ্চন মল্লিক, মনোজ তিওয়ারি, সায়নী ঘোষদের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর এবার গেরুয়া শিবিরে নিজের নাম লেখালেন অভিনেত্রী পায়েল সরকার। জিনিউজ

চি‌কিৎসার জন্য কার্গো বিমানে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ফারুক


রাজধানীর এক‌টি বেসরকা‌রি হাসপাতালে কয়েক‌দিন ধ‌রে চি‌কিৎসাধীন ‌ঢাকাই ছবির মিয়াভাই খ্যাত অভিনেতা ও সংসদ সদস্য আকবর হো‌সেন পাঠান ফারুক।রক্তে সংক্রমনের কারণে ফারুকের শা‌রীরিক অবস্থা ক্রমান্বয়ে অবন‌তির দিকে যাচ্ছে বলে জা‌নিয়েছেন তার স্ত্রী ফারহানা ফারুক। তাই তাকে উন্নত চি‌কিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিতে চাইছিলেন।

অব‌শে‌ষে ডাক্তারদের পরাম‌র্শে তা‌কে আগামীকাল জরুরিভা‌বে সিঙ্গাপুর নেয়া হ‌চ্ছে। ‌বে বি‌শেষ কো‌নো ফ্লাইট বা এয়ার অ্যাম্বু‌লে‌ন্সে নয়।পণ্যবাহী কার্গো বিমানে করেই তি‌নি আগামীকাল সকালের এক‌টি ফ্লাইটে দেশ‌টিতে যাবেন বলে নি‌শ্চিত করেছেন ফারুকের স্ত্রী ও তার ব্যক্তিগত সহকারী।

রোববার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো বিমানের একটি ফ্লাইটে করে এ অভিনেতাকে দেশটির মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়া হবে। তার সঙ্গে স্ত্রীও যাবেন।এ প্রস‌ঙ্গে ফারহানা ফারুক বলেন, করোনাভাইরা‌সের কারণে এখনও যাত্রীবাহী বিমানের ফ্লাইট নিয়মিত নয়। এদিকে অপেক্ষা করার মতো সময়ও আমা‌দের হাতে নেই।

উনার শরীর বেশ অসুস্থ। তাই কার্গো বিমানে করেই সিঙ্গাপুর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কয়েক‌দিন ধরেই মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, তারা অনুমতি দেয়ার পরই রওয়ানা দি‌চ্ছি।

ত‌বে কা‌র্গো বিমা‌নে ক‌রেই কেন সিঙ্গাপুর যে‌তে হ‌চ্ছে, এয়ার এম্বু‌লেন্স নয় কেন? এমন প্রশ্নের জবা‌বে ফারুক ব‌লেন, আমি তো বি‌শেষ কেউ নই। সারাজীবন অভিনয় করে‌ছি। রাজনী‌তি ক‌রে‌ছি দেশ‌কে ভা‌লো‌বে‌সে, বঙ্গবন্ধু‌কে ভা‌লো‌বে‌সে।

আমার সামর্থ অনুযায়ী আমি চলা‌ফেরা করার চেষ্টা ক‌রে‌ছি। তাছাড়া এয়ার অ্যাম্বু‌লে‌ন্সের খরচের বিষয়‌টিও দেখ‌তে হ‌বে। সিঙ্গাপুর গি‌য়ে কী প‌রিমান অর্থ লাগ‌বে সেটার বিষ‌য়েও সতর্ক থাক‌তে হ‌বে।তাই আগে থে‌কেই সব চিন্তার ম‌ধ্যে রাখ‌ছি। তাই কা‌র্গো আর অন্য বিমা‌নের স‌ঙ্গে তফাৎ খুঁজ‌ছি না এখন। আমার যাওয়াটা জরুরি, তাই যেভা‌বে পার‌ছি দ্রুত যা‌চ্ছি।

সংসদ সদস্য হি‌সে‌বে সরকারের পক্ষ থে‌কে কী কো‌নো সহায়তা করা হ‌চ্ছে না? জান‌তে চাই‌লে তি‌নি ব‌লেন, সরকারী পর্যায় থে‌কে আমার চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ সচেতন র‌য়ে‌ছেন সবাই। সকাল-বিকাল খোঁজ নিচ্ছেন, শা‌রীরিক অবস্থা জান‌তে চাইছেন।

এমনটাও আমা‌কে বলা হ‌য়ে‌ছে, আমার কিছু লাগবে কী না? কিন্ত যতক্ষণ আমার সামর্থ্য আছে ততক্ষণ কিছু নি‌তে চাই না। আমি সবার কাছে শুধু দোয়া চাই।যেন সুস্থ হয়ে আবারও যা‌তে মানু‌ষের সেবায় ফিরতে পারি। য‌দি কখনও বিপ‌দে প‌ড়ে যাই তাহ‌লে সেটা তখনই জান‌তে পার‌বেন। এখনই আমি হতাশ হ‌তে চাই না।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট শরী‌রে জ্বর নি‌য়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন ফারুক। সেখা‌নে তখন ক‌’রো’নাসহ নানাবিধ পরীক্ষা করা হ‌য়ে‌ছিল। পরীক্ষায় ক‌রোনা নে‌গে‌টিভ এসেছিল।ত‌বে শা‌রীরিক সমস্যার কারণ কী সেটা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়‌নি। এরপর কিছুটা সুস্থ হ‌য়ে ২৬ আগস্ট বাসায় ফি‌রে যান। বাসায় গি‌য়ে আবার জ্বরে আক্রান্ত হন। ফের ৩১ আগস্ট আবারও একই হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ সময় আবারও তার ক‌রোনা পরীক্ষা করা হয় এবং সেটাও নে‌গে‌টিভ আসে। একই সময় টাইফয়েড, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার নমুনাও পরীক্ষা করা হয়। এগু‌লোর ফলাফলও ছিল নেগেটিভ। কিন্তু জ্বর কিছু‌তেই কম‌ছিল না।এরপর পা‌রিবা‌রিক সিদ্ধা‌ন্তে তা‌কে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ হাসপাতা‌লেও পরীক্ষা নী‌রিক্ষা ক‌রে রোগ নিরুপণ এবং শা‌রিরীর অবস্থার উন্ন‌তি না হওয়ায় সেখান থে‌কেই ডাক্তাররা তা‌কে সিঙ্গাপুর নেয়ার পরামর্শ দেন ব‌লে জানা গে‌ছে। সেই প্রে‌ক্ষি‌তে আগামীকাল উন্নত চি‌কিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যা‌চ্ছেন এই অভিনেতা ও সংসদ সদস্য।

হিরো আলমের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক’ প্রস্তাবের অভিযোগে তরুণীর জিডি


আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের বি’রু’দ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনৈতিক প্রস্তাব ও প্রাণনা’শের হু’ম’কির অ’ভি’যোগে শারমীন আক্তার সাথী নামে এক তরুণী সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় এই জিডি করা হয়। তবে হিরো আলম বিষয়টিকে একেবারে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে মাত্র কয়েজন মানুষ। আমি দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করবো।’

পেশায় নার্স ওই তরুণীর লিপিবদ্ধ জিডি নম্বর ১১৭২। তরুণী দাবি করেন, অনন্ত জলিলের নতুন ছবিতে কাজের সুযোগের কথা বলে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে বসে সে। সাথী শখের বসে মাঝেমধ্যে স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মিউজিক ভিডিও করেন।

তবে হিরো আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এমনটি করা হচ্ছে। আপনি দেখবেন, ঐ স্ক্রিনশট আমার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে যায়নি। আমি ব্যবহার করি Hero alom bogura নামের অ্যাকাউন্ট।

কিন্তু মেয়েটির কাছে মেসেজ গিয়েছে Hero alom নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে। আর আমি ওই মেয়েটির সাথে কথা বলেছি, সে তো এখনো নিশ্চিত না কার সাথে চ্যাট করেছে। এতে সে জিডি করে ফেলল?’

সাধারণ ডায়েরিতে তরুণী অ’ভি’যোগ করেছেন, ‘হিরো আলম বগুড়া নামে ফেসবুক থেকে একাধিকবার আমার ফেসবুকে ( সাথী আক্তার) অশ্লীল ভাষায় বিভিন্ন কু-প্র’স্তাব দিতে থাকেন।

আমাকে বিভিন্নভাবে সমাজের কাছে হেয় করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে হিরো আলম আমাকে ফোন করে প্রাণ’না’শের হু’ম’কি দিতে থাকেন।’

সাথী আক্তার নামে ওই তরুণী বলেন, ‘হিরো আলমের দ্বিতীয় স্ত্রী নুসরাত আমার পরিচিত। আপনি তার সাথে কথা বললেই বুঝতে পারবেন, আসলে সে ওই রকম প্রস্তাব দিতে পারে কি না।

আমাকে প্রথমে একবার বাজে ইঙ্গিত দিয়ে মেসেজ দিয়েছিল, আমি সেটা ইগনোর করেছিলাম। পরে সে আমাকে অনন্ত জলিলের ছবিতে কাজের সুযোগ করে দেবে, কলকাতায় নিয়ে কাজ দেবে-এমন কথা বলে আমাকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়।’

হিরো আলম বলেন, ‘আমি এমন কেন করব। আমার বিরুদ্ধে একটা চক্র এই কাজ করছে। তারা আমার পেছনে লেগে আছে। আমি তাদের বি’রু’দ্ধে ব্যবস্থা নেবো।’

হিরো আলম অবশ্য ফেসবুক লাইভে এসে তাঁর বি’রু’দ্ধে আনীত অ’ভি’যোগের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া তার পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে সেসব কথাও বলেন। এ ছাড়া হিরো আলম আসলেই Hero alom bogura নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন।

এ ছাড়া তার HERO ALOM নামের একটি ফেসবুক পেজ রয়েছে। তবে এর আগে হিরো আলম্ন ওরফে আশরাফুল আলমের একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় ও হ্যাকড হয়।

২০১৬ সালে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন আশরাফুল আলম ওরফে ডিশ আলম ওরফে হিরো আলম। বগুড়ার এরুলিয়া গ্রাম থেকে ঢাকা এসে ক্রমশ নিজের জায়গা করে নেন আলম।

২০১৭ সালে হিরো আলম অভিনীত প্রথম ছবি মার ছক্কা মুক্তি পায়। ২০১৮ সালে তিনি বিজু দ্য হিরো নামে একটি বলিউড চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। এ ছাড়া বাংলাদেশে বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

বহু প্রস্তাব ফিরিয়ে তরুণ মডেলের সঙ্গে গীতার প্রেম


মুম্বাইয়ের এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া গীতা কাপুর আজ বলিউডের প্রথম সারির ড্যান্স কোরিওগ্রাফার। ছিল না বলিউডি কানেকশন, ছিল না কোনো খানদানি তকমাও। নিজের ইচ্ছাশক্তির উপর ভর করেই জুনিয়র আর্টিস্ট থেকে হয়েছেন গীতা মা। তার জীবনে প্রেম এসেছে, ভেঙেছেও। কেমন ছিল সেই যাত্রাপথ?

১৯৭৩ সালের ৫ জুলাই গীতার জন্ম। ছোট থেকেই নাচতে ভালোবাসতেন। শিখতেনও নিয়মিত। কিন্তু তথাকথিত নৃত্যশিল্পী হওয়ার ইচ্ছা কোনো দিনই ছিল না।কারণ, বিমানসেবিকা হতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই মতো প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। কিন্তু ছোটবেলাতেই দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়ায় তিন বার বিমান সেবিকার পরীক্ষা দিয়েও শারীরিক পরীক্ষার সময় বাদ পড়ে যান। এদিকে সংসারের দায়িত্বও বাড়ছিল।

বাধ্য হয়েই মাত্র ১৫ বছর বয়সে গীতা যোগদান করেন বলিউডের বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার ফারাহ খানের নাচের গ্রুপে। কলেজে পড়ার সময়েই গীতার কাছে ছোট ছোট কাজের অফার আসতে থাকে। নিজেও কাজ করতে শুরু করেন জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে। শ্রীদেবীর ‘খুদা গাওয়া’, অনিল কাপুরের ‘নায়ক’ ছবিতে খুব ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন তিনি। একইসঙ্গে চলছিল নাচের তালিমও।

ফারাহর সঙ্গে গীতার পরিচয়টাও খানিক অদ্ভুত। ফারাহর গায়ে বলিউডের গন্ধ রয়েছে। গীতার গায়ে নেই। তা সত্ত্বেও তাদের আলাপ হল কী করে? সে এক মজার কাণ্ড। ফারাহর নাচ দেখে গীতার বাবা একদিন মেয়ের সামনেই প্রশংসায় ফেটে পড়েন। ভীষণ রেগে যান গীতা। মনে মনে হিংসfও হয়। বাবা অন্য কোনও মেয়ের নাচ তার থেকে ভালো বলবে, তা কী করে হয়? এর কিছু দিন পরেই গীতার কাছে একটি অনুষ্ঠানে নাচের প্রস্তাব আসে।

জানা যায়, ওই অনুষ্ঠানে যার মূলত নাচ করার কথা ছিল, তিনি হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ায় গীতার ডাক পড়ে। গীতাও মন-প্রাণ ঢেলে দেন সেই শোতে। তার বাবাও মেয়ের নাচ দেখে মুগ্ধ। এমনকি যে শিল্পীর আদপে সেই অনুষ্ঠানটি করার কথা ছিল তিনিও গীতাকে অভিবাদন জানান।

সেই শিল্পী আর কেউ নন, ফারাহ খান। নাচ দেখে তিনি নিজেই গীতাকে তার দলে যোগ দেয়ার প্রস্তাব দেন। গীতাও পুরনো হিংসা ভুলে যোগ দেন সেখানে। ফারাহর জন্যই ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবির ‘তুঝে ইয়াদ না মেরি আয়ি’ গানটি কোরিওগ্রাফ করার সুযোগ পান গীতা। নিজে অভিনয়ও করেন।

এরপর দিল সে ছবির ‘ছাঁইয়া ছাঁইয়া’-সহ আরও বেশ কিছু ছবিতে কোরিওগ্রাফার হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। বাড়তে থাকে পরিচিতও। কিন্তু ফারাহর দলের অংশ হয়ে কাজ করা আর বেশিদিন ভালো লাগছিল না তার। গীতা চাইছিলেন বলিউডে নিজের পরিচয় তৈরি করতে। যেমন ভাবা সেই কাজ। গীতা বেরিয়ে আসেন ফারাহর গ্রুপ থেকে। কিন্তু এটা বলিউড। এখানে শুধু মাত্র গুণ থাকলেই হয় না। একই সঙ্গে দরকার নেটওয়ার্কিং, যা গীতার ছিল না। ফলে ব্যর্থ হয়ে তিনি আবার ফিরে আসেন ফারাহর কাছেই।

ফারাহও তাকে ফেরাননি। কাছে টেনে আবার কাজ দিতে শুরু করেন। এদিকে ফারাহ সিনেমা পরিচালনার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লে তার নাচের গ্রুপের অনেকটা দায়িত্বই গীতার কাঁধে এসে পড়ে। এর পর আর থামেননি গীতা। ‘ম্যায় হু না’, ‘থোড়া প্যায়ার থোড়া ম্যাজিক’, ‘হে বেবি’-সহ বিখ্যাত প্রযোজনা সংস্থাগুলোর ছবির ড্যান্স কোরিওগ্রাফ করার দায়িত্ব তখন তার উপর। পরিচিত বাড়তে থাকে ক্রমশ।

এরই মধ্যে ফারাহর ভাই সাজিদ খান প্রেমের প্রস্তাব দেন গীতাকে। কিন্তু গীতা তা ফিরিয়ে দেন। শুধু সাজিদ খানই নন, ইন্ডাস্ট্রির অনেক নামি দামি পরিচালক, অভিনেতাও তাকে বিয়ে করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। কিন্তু সেখানেও সটান না বলে দেন গীতা। তিনি চেয়েছিলেন নিজের কেরিয়ার সাজাতে, আরও পোক্ত করতে।

টাকা পয়সার অভাব কাটিয়ে উঠছিলেন, ইন্ডাস্ট্রির মানুষজনও তাকে ক্রমশ চিনতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ? নায়ক-নায়িকাদের নাচের পেছনে যে আরও বেশ কিছু মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম থাকে সেই কনসেপ্টটাই তো অজানা ছিল সে সময়। ঠিক এই সময়েই গীতার জীবনে আশীর্বাদের মতো আসে রিয়ালিটি শো ‘ডান্স ইন্ডিয়া ডান্স’-এ বিচারকের আসন। গীতাও রাজি হয়ে যান। ছোট পর্দার মাধ্যমেই জায়গা করে নেন দর্শকের বসার ঘরে।

এই সময়েই শোনা যায়, গীতা নাকি প্রেম করছেন। কিন্তু কার সঙ্গে? উঠতি মডেল এবং কোরিওগ্রাফার রাজীব। যদিও সে কথা গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দেন গীতা। বলেন তারা বন্ধু। একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় হাজির হলেও কখনও এই সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি। গীতার বয়স ৪৬। তিনি আজও অবিবাহিত। বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই বলেন, এখনও সময় আসেনি।

কিন্তু তা সত্বেও গীতা মা হয়ে গেলেন কী করে? গীতার নাচের অ্যাকাডেমিতে এক ছাত্র, নাম ফিরোজ। তিনিই প্রথম তাকে মা বলে ডাকতে শুরু করেন। যেভাবে পরম মায়ায় কাজ শেখাতেন গীতা, তা যেন একেবারে মায়ের মতোই। ব্যস সেখান থেকেই শুরু। রিয়ালিটির শো’র মঞ্চ হোক বা সাধারণ জনগণ, সবার কাছেই আজ তিনি ‘গীতা মা’। আকাশ ছুঁতে চেয়েছিলেন গীতা, ছুঁলেনও। তবে বিমানসেবিকা হয়ে নয়, নাচের মধ্য দিয়ে পৌঁছে গেলেন উন্নতির শিখরে।