টবে গোলাপ চাষের নিয়ম


শহরে কিংবা গ্রামে বাড়ির ছাদে বা আশেপাশে শখ করে অনেকেই টবে ফুল চাষ করেন। সেই ক্ষেত্রে বেশির ভাগেরই পছন্দ গোলাপ। আপনি যদি টবে গোলাপ চাষ করতে চান তাহলে আপনাকে গোলাপ চাষ সম্পর্কে কিছু বিষয় জেনে নিতে হবে।

চারা রোপণ
নতুন চারা না লাগিয়ে একবছরের পুরনো চারা লাগাতে পারেন। চারাটি সোজাভাবে গর্তের মধ্যে লাগাতে হবে। চারার শেকড় ভালোভাবে মাটি দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেকে দিতে হবে। জোড় কলমের মাধ্যমে উৎপাদিত চারার জোড়ের স্থানটি মাটি থেকে অন্তত ৩-৪ সেন্টিমিটার উপরের দিকে রাখতে হবে।

গাছ ছাঁটাই
নতুন শাখা ভালোভাবে বিস্তৃত করার জন্য পুরনো ডাল, ক্ষত ও রোগাক্রান্ত ডাল কেটে বাদ দিতে হয়। বড় গোলাপ পেতে হলে গাছ নিয়মিত ছাঁটাই করতে হয়। আশ্বিন মাসকে গাছ ছাঁটাইয়ের উপযুক্ত সময় ধরা হয়।

সার প্রয়োগ
গাছ ছাঁটাইয়ের ১০-১২ দিন আগে সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছ প্রতি ২-৩ কেজি পঁচা শুকনো গোবরের সঙ্গে ৫০ গ্রাম টিএসপি ও ৫০ গ্রাম পটাশ দিতে হবে। টবের উপর থেকে ১০ সেন্টিমিটার মাটি সরিয়ে নিচের মাটি কিছুটা আলগা করে সারগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। এসময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে শিকড়ের কোন ক্ষতি না হয়। হাঁস-মুরগি বা কবুতরের বিষ্ঠা সার হিসেবে গোলাপ গাছে দেওয়া যেতে পারে।

পানি
• চারা লাগানোর পরে চারার গোড়ায় প্রথম দিকে ঘন ঘন পানি দিতে হবে।
• টবের মাটিতে ভালোভাবে চারা গজালে এবং নতুন ডালপালা ছাড়ার পরে খরা মৌসুমে প্রতি ১০ দিন পর পর একবার করে সেচের মতো পানি দিতে হবে।
• প্রত্যেকবার পানি সেচের পরে গাছের গোড়ার মাটি ঝরঝরে করে দিতে হবে।

রোগ প্রতিরোধ
টবে চাষ করার সময় পোকা আক্রমণ করলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন।পরিচর্যা
১. চারার জোড়া জায়গাটির নিচে কোন প্রকার ডালপালা বের হলে ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে দিন।
২. বড় আকারে ফুল পেতে হলে প্রথম দিকে বের হওয়া পুষ্পকুড়ি ভেঙে দিন।
৩. মার্চ-এপ্রিল মাসে পঁচা গোবর এবং কম্পোস্টের মালচ গাছের গোড়ায় দিন।
৪. পুরান ডালে ফুল ভালো হয় না। তাই ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে।
৫. ছাঁটাইকৃত ডালের সামনে ছত্রাকনাশক ঘন করে গুলে লাগিয়ে দিন।
৬. গাছের গোড়া থেকে ২০ সেন্টিমিটার দূরে গোল করে মাটি খুঁড়ে শেকড় বের করে দিন।
৭. ক্ষতিকর পোকামাকড় ধ্বংস করতে এভাবে মাটি খুঁড়ে ৮-১০ দিন রাখতে পারেন।

কীটনাশকের বদলে হাঁস ব্যবহার!


কীটনাশকের বদলে জমিতে হাঁস ব্যবহার করছেন জাপানের কৃষকরা। আর এতে দারুণ ফল পাচ্ছেন তারা। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তৈরি করা একটি প্রতিবেদনে তেমনটিই দেখা যাচ্ছে। মাত্র একদিন আগে পোস্ট করা ভিডিওটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

‘ব্রেড ডাক’ নামে পরিচিতি বিশেষ প্রজাতির একটি হাঁস ফসলের জমিতে কীটনাশকের ভূমিকায় ভীষণ কার্যকরী। তাদেরকে ধান ক্ষেতে ছেড়ে দেন চাষীরা। আর তারা তখন জমির সব পোকামাকড় এবং আগাছা খেয়ে সাফ করে ফেলে। কিন্তু ধান গাছগুলোর কোনো ক্ষতি করে না।

কেবল আগাছা নয়, আগাছার বীজ পর্যন্ত খেয়ে ফেলে এই হাঁসগুলো। তাই পরবর্তী মৌসুমে ওই জমির আগাছা খুব কম হয়। এই পদ্ধতিতে বেড়ে ওঠা ফসল ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও টিকে থাকার লড়াইয়ে অন্যদের চেয়ে শক্তিশালী হয়।

এর ফলে কৃষকরা রাসায়নিক সার ও ব্যবহার করেন না, যা পরিবেশের জন্য খুবই ভালো। কেবল একটাই অসুবিধা, যখন হাঁসগুলো খুব মোটা হয়ে যায়, তখন শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পারায় ধান গাছগুলোকে মাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতি বছর নতুন হাঁসের প্রয়োজন হয়। তবে কেবল জাপানেই নয়, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, এমনকি ইরানেও এ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

এই পদ্ধতিতে চাষবাসের ফলে রাসায়নিকের উপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমানো যায়।

সোমবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ফেসবুক পাতায় ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। প্রতিবেদনের সূত্র হিসেবে ‘বিবিসি’র নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় নয় লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে ভিডিওটি। শেয়ার হয়েছে ৩০ হাজার বার।

দেখুন ভিডিওটি-

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি


বরবটি আমিষ সমৃদ্ধ একটি সবজি। প্রায় সারা বছরই এটি ফলে। তাই একে বারোমাসি সবজিও বলা যায়। তবে গ্রীষ্মকালে এর ফলন ভালো হয়। খুব শীতে ফলন ভালো হয় না। আসুন জেনে নেই বরবটি চাষের নিয়ম-কানুন।

মাটি
দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি বরবটি চাষের জন্য উপযোগী।                                                                              জাত
কেগরনাটকীই অনেকদিন পর্যন্ত বরবটির একটি উন্নত জাত হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। এখন অবশ্য বেশ কয়েকটি জাত চলে এসেছে। লালবেণী, তকি, ১০৭০, বনলতা, ঘৃতসুন্দরী, গ্রীন লং, গ্রীন ফলস এফ-১, সামুরাই এফ-১ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জাত।                                                                    চাষের সময়
কেগরনাটকী জাতটি পৌষ-মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই চাষ করা যায়। মধ্য মাঘ থেকে মধ্য আশ্বিনে চাষ করা যায় ঘৃতসুন্দরী ও গ্রীন লং। মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য আশ্বিন পর্যন্ত চাষ করা যায় ১০৭০ জাতটি। উল্লেখিত জাতগুলোর মধ্যে কেগরনাটকী ও লালবেণী জাতের ফলন সবচেয়ে বেশি। তবে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সাধারণত বীজ বপন করা হয়। তাছাড়া আশ্বিন-অগ্রহায়ণ মাসেও বীজ বপন করা হয়। অন্যান্য সময়ও বোনা যেতে পারে।                                                                                                       বীজের পরিমাণ
প্রতি শতকে ১০০-১২৫ গ্রাম ও প্রতি হেক্টরে ৮-১০ কেজি।

কৃষিভিত্তিক শিল্প উদ্যোগ


কৃষি খাতে আমাদের অকল্পনীয় উন্নতি হয়েছে। যেমন ফাও -এর ২০১৫ সালের তথ্য মতে, বিশ্বে খাদ্যশস্য উৎপাদনে দশম, শাকসবজির উৎপাদনে তৃতীয়, বিভিন্ন ফলের উৎপাদনে ২৮তম, মাছ উৎপাদনে মিঠাপানিতে চতুর্থ আর সমুদ্রে ২৫তম। পশু উৎপাদনের সংখ্যা প্রায় চার কোটি। ফলে ভারত এপ্রিল ২০১৫ থেকে গরু দেয়া বন্ধ করার পরও দেশে পশু ঘাটতি তেমন নেই। উন্নত জাতের হাঁস-মুরগির চাষও বৃদ্ধি পেয়েছে কল্পনাতীত। ফলে ডিমের দৈনিক উৎপাদন সোয়া দুই কোটি পিস । দুধের উৎপাদনও বেড়েছে অনেক। চামড়ার উৎপাদন বর্তমানে বার্ষিক ২৪ কোটি বর্গফুটের অধিক। অর্থাৎ দেশ কৃষিপণ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ম্ভর হয়েছে। বিশেষ করে চাল। কিছু রফতানিও হচ্ছে। দেশ-বিদেশে পাটজাত পণ্য ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে সুদিন ফিরে আসছে। অর্থাৎ কৃষি খাতই শুধু টেকসই উন্নতির পথে রয়েছে। আর দেশটি কৃষিভিত্তিকও। তবুও কৃষি খাতকে অবহেলায় রেখে শিল্পের দিকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার ফলাফল শুভ হয়নি। তাই এখন দেশের অর্থনীতির মূল শক্তি হচ্ছে শুধু কৃষি, গার্মেন্ট ও প্রবাসী আয়। শেষের দু’টির অবস্থাও নিম্নগামী। সহজে ঊর্ধ্বগামী হবে না। তাই সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণে অনুমেয়- দেশের টেকসই উন্নতি, সার্বিক উন্নতি, বেকারত্ব হ্রাস, মানুষের শহরমুখী হওয়া বন্ধ, রফতানি বহুমুখীকরণ ইত্যাদির জন্য কৃষির উন্নতি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠার দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক। ব্র্যাক ও ডিএফএআইডির যৌথভাবে গবেষণা রিপোর্টেও বলা হয়েছে, ‘কৃষি খাতে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে দেশে দারিদ্র্য কমে শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ। আর অকৃষি খাতে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে দারিদ্র্য কমে শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ।’ স্মরণীয় যে, কৃষির ব্যাপক উন্নতি হলেও শুধু ধান-চাল উৎপাদনে স্বয়ম্ভর হওয়ার পথে। আর খাদ্যের অন্য পণ্যের উৎপাদন চাহিদার অনেক কমই রয়েছে। যেমন- সব মসলা, মাছ, গোশত, ডিম, দুধ ইত্যাদি। যা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণিত প্রতিবেদন মতে, ২০৩০ সাল নাগাদ এসবে ঘাটতি হবে ১৫-২০ শতাংশ। তাই সুষম খাদ্যের যা প্রয়োজন, তার প্রতিটিই উৎপাদনে স্বয়ম্ভর হওয়ার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে পুষ্টিগুণ অনুসারে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ বিদেশী দামি ফলের চেয়ে অনেক বেশি। এটা এবং শস্যদানা, মাছ, গোশত ইত্যাদির মধ্যে কোনটির পুষ্টিগুণ সর্বাধিক- এ ব্যাপারে সরকারিভাবে সার্বক্ষণিক প্রচার করা দরকার। তাহলে মানুষ সচেতন হয়ে ব্যবহার করবে। পুষ্টিহীনতা দূর হবে। অপর দিকে, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই দেশে। তাই ফসলের ভরা মওসুমে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। অনেকে পেশা ত্যাগ করছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর।
দ্বিতীয়ত, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের অভাবে বিরাট অংশ নষ্টও হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় ধান-চালের গুদাম, ফলমূল প্রক্রিয়াজাতকরণের কারখানা, শাকসবজির সংরক্ষণাগার, মাছের হিমাগার, আলু পাউডার করে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা নির্মাণ করা দরকার। তাহলে কোনো কৃষিপণ্যই নষ্ট হবে না। সারা বছর ব্যবহার করা যাবে। রফতানি বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া ফসল ওঠার সাথে সাথে তা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ক্রয় করা, সারা দেশে সমন্বিত খামার তৈরি এবং পশু ও হাঁস-মুরগি পালন আরো বৃদ্ধি করার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রখ্যাত ফুড কোম্পানি ম্যাগডোনাল্ড ভারতের কৃষি খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তারা সরাসরি কৃষককে ঋণ দিয়ে ফসল ফলিয়ে তাদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ক্রয় করে বাজারজাত করছে। এতে কৃষক ও ভোক্তা সবাই উপকৃত হচ্ছে। মধ্যস্বত্বভোগী ও ভেজাল দূর হয়েছে। এরূপ ব্যবস্থা কয়েক বছর আগে পাবনায় শুরু করেছিল বিটিসি। তারা কৃষককে ঋণ দিয়ে মুখি কচুর চাষ করিয়ে তা ওঠার পর ক্রয় করে ব্রিটেনে রফতানি করত। কিন্তু এখন সে কার্যক্রম আছে কি না জানি না। না থাকলে তা পুনরায় সারা দেশেই সব ফসলের ক্ষেত্রে করার জন্য বিটিসিকে উদ্বুদ্ধ করা দরকার। ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসা কর্মসূচির আওতায়ও এটা করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এটা এ দেশেও চালু করা প্রয়োজন। কারণ, এসব যত বেশি হবে, ততই মঙ্গল। আরো উল্লেখ্য, কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় সেচ দরকার। কিন্তু দেশের অর্ধেক নদী মরে গেছে ভারত পানি না দেয়ায়। যেটুকু নদী আছে, তারও অর্ধেক দখল হয়েছে। যেটুকু পানি আছে, তাও দূষিত হয়ে পড়েছে। অন্যসব ওয়াটার প্লেসও মজে গেছে। তাই সারফেস ওয়াটার ধরে রাখার জন্য সব ওয়াটার প্লেস সংস্কার বা পুনঃখনন করা দরকার। তাহলে বৃষ্টি ও বর্ষার পানি সংরক্ষিত থাকবে, যা সেচ ও অন্য কাজে ব্যবহৃত হবে। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস পাবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে। উপরন্তু যেকোনো মূল্যেই হোক সব নদী দখল ও দূষণমুক্ত করা অপরিহার্য। এ ছাড়া কৃষিভিত্তিক শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটানো আবশ্যক। নতুবা ফসলের নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন ও ব্যাধিমুক্ত হবে না। কৃষি উপকরণের মূল্যহ্রাস ও প্রাপ্তি সহজতর, প্রয়োজনীয় ঋণ ও সুদ স্বল্প করা, কৃষি যন্ত্রপাতির সর্বাধুনিক ব্যবহার এবং তা সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চালানো দরকার।

নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ


পাবদা মাছ বাংলাদেশের ছোট মাছের মধ্যে অন্যতম। মিঠাপানির এ মাছ নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়ে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। পাবদা অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু মাছ। বর্তমানে পাবদা মাছ আমাদের দেশে প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাই কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পাবদা মাছ রক্ষা করা সম্ভব। তাই নিজেই চাষ করুন পাবদা মাছ।

পুকুর নির্বাচন

এ মাছ চাষের জন্য ৭-৮ মাস পানি থাকে এমন ১৫-২০ শতাংশের পুকুর বা জলাশয় নির্বাচন করুন। তবে পুকুরটি বন্যামুক্ত হতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

মাছ বাছাই

পাবদা মাছের পুরুষ ব্রুড বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পুরুষ মাছটি আকারে তুলনামূলকভাবে স্ত্রী মাছের চেয়ে ছোট। পুরুষ মাছের প্রজনন ঋতুতে পেট চাপা থাকে এবং পুরুষ মাছের বুকপাখনা খাঁজকাটা থাকে। স্ত্রী ব্রুড বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রী মাছটি আকারে তুলনামূলকভাবে পুরুষ মাছ থেকে বড় হয়। স্ত্রী মাছের প্রজনন ঋতুতে পেট ফোলা ও নরম থাকে এবং স্ত্রী মাছের বুকপাখনা তেমন খাঁজকাটা থাকে না।

পুকুর প্রস্তুত

শুকনো মৌসুমে পুকুর থেকে জলজ আগাছা পরিষ্কার ও পাড় মেরামত করুন। তবে ছোট মাছ চাষের ক্ষেত্রে পুকুর শুকানো উচিত নয়। তাই বারবার ঘন ফাঁসের জাল টেনে রাক্ষুসে মাছ ও ক্ষতিকর প্রাণী অপসারণ করে নিন। এরপর প্রতিশতকে ১-২ কেজি পাথুরে চুন প্রয়োগ করুন। মাটির গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে চুনের মাত্রা কম-বেশি হতে পারে। পোনা ছাড়ার আগে সার প্রয়োগ করুন, যাতে পুকুরে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মাতে পারে। এছাড়া প্রতিশতকে ৪-৬ কেজি গোবর, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০০ গ্রাম টিএসপি প্রয়োগ করতে পারলে ভালো হয়। মনে রাখবেন, পানির রং সবুজ বা বাদামি-সবুজ হলে পোনা ছাড়ার উপযুক্ত সময়।

পোনা মজুদ

ভালো জাতের সুস্থ, সবল ও সঠিক পোনা সঠিক সংখ্যায় মজুদ করতে হবে। পুকুরে পোনা ছাড়ার আগে পরিবহনকৃত পোনা পুকুরের পানির তাপমাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। এর জন্য ১০ লিটার পানি ও ১ চামচ পটাসিয়াম পারম্যাংগানেট অথবা ১০০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করতে হবে। এরপর তাতে ১-২ মিনিট গোসল করিয়ে পোনা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। শতাংশ প্রতি ৩-৪ গ্রাম ওজনের সুস্থ্য-সবল ২০০-২৫০টি পোনা মজুদ করা যেতে পারে।

খাদ্য ও সার

চুন প্রয়োগের ৩ দিন পর প্রতিশতাংশে ৭-৮ কেজি গোবর প্রয়োগ করতে হবে। সম্পূরক খাদ্য হিসেবে দেহ ওজনের ৫-১০ ভাগ হারে ২৫-৩০% আমিষ সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন ২ বার প্রয়োগ করতে হবে। প্রাকৃতিক খাবার উৎপাদনের জন্য ১৫ দিন অন্তর ৪ কেজি গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে।

মাছ আহরণ

পুকুরের মাছ ৭-৮ মাসের মধ্যে ৩০-৩৫ গ্রাম ওজনের হলে আহরণ করা যাবে।

আরও তিনটি নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন


বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) রোপা আমন মৌসুমে চাষাবাদ উপযোগী তিনটি নতুন উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে।

এ জাতগুলো হচ্ছে, ব্রি ধান ৭৯, ব্রি ধান ৮০ এবং ব্রি হাইব্রিড ধান ৬। গত ৫ এপ্রিল জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় এগুলোকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন ধানের জাত হিসেবে চাষাবাদের অনুমোদন দেয়া হয়।

রোববার বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের প্রযুক্তি সম্পাদক ও প্রধান আবুল কাসেম এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, উদ্ভাবিত নতুন ধানগুলোর মধ্যে ব্রি ধান ৭৯ এর মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি ১৮ থেকে ২১ দিন বন্যার পানিতে ডুবে থাকলেও ফলনের তেমন ক্ষতি হয় না। আর এতো দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কবলে না পড়লে স্বাভাবিক অবস্থায় এটি হেক্টর প্রতি ৭ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

এর জীবনকাল আকস্মিক বন্যা সহনশীল অন্য একটি জাত ব্রি ধান ৫২ এর চেয়ে পাঁচ দিন আগাম। ব্রি ধান ৮০ এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি সুগন্ধযুক্ত সরু চালের জাত এবং রফতানি সম্ভাবনাময়।

এর বীজের রং খড়ের মতো এবং দেখতে এটি থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় জেসমিন ধানের অনুরূপ। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ব্রি ধান ৮০ এর ফলন হেক্টরে ৪ দশমিক ৫ টন থেকে ৫ টন পর্যন্ত পাওয়া যায়।

ব্রি হাইব্রিড ধান ৬ এর ফলন হেক্টর প্রতি ৬ থেকে সাড়ে ৬ টন। এটি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও যশোর অঞ্চলে কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে।

আমন এবং বোরো উভয় মৌসুমে এটি চাষ করার উপযুক্ত। এ জাতের ধান গাছের কাণ্ড শক্ত বিধায় ঢলে পড়ার আশঙ্কা নেই। এ জাতের জীবনকাল ১১৫ থেকে ১২০ দিন।

ইউরিয়ার প্রয়োজন মেটায় জীবাণু সার


জীবাণু সার একটি অনুজীবঘটিত সার। এ সার ডাল ও তেল জাতীয় ফসল যেমন- মসুর, ছোলা, মুগ, মাসকলাই, বরবটি, সয়াবিন, চীনাবাদাম প্রভৃতিতে নাইট্রোজেন তথা ইউরিয়ার প্রয়োজন মেটায়। ইউরিয়ার বিকল্প হিসেবে জীবাণু সারটি উদ্ভাবন করেছে বিনা। যা এখন উৎপাদিত হচ্ছে এবং কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে।

গুণাগুণ
১. বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে ফসলের সর্বাধিক প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান নাইট্রোজেন জোগান দেয়। ফলে ফসলের ফলন বৃদ্ধি পায়। দানায় আমিষের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
২. হরমোন নামের এক প্রকারের উদ্ভিদ বৃদ্ধিকারী জৈব-রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যা গাছের বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক।
৩. এ সারের জীবাণু ফাইটোটক্সিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যা ফসলের রোগব্যাধির জীবাণুকে ধ্বংস করে, ফলে রোগবালাই কম হয় ও ফলন বৃদ্ধি পায়।
৪. মাটির গুণাবলী উন্নত করে। মাটি চাষবাদের ফলে সাধারণত অম্লবৈশিষ্টের হয়ে যায়। এ সকল জীবাণুর ক্রিয়ার ফলে কিছু রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ ঘটে যা মাটির পিএইচের বৃদ্ধি সাধন করে। ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।                                                                                                                ব্যবহার পদ্ধতি
* প্রতিকেজি বীজের সাথে ৫০ গ্রাম চিটাগুড় মিশিয়ে বীজের গায়ে আঠালো আবরণ তৈরি করতে হবে।
* আঠালো আয়রণযুক্ত বীজের প্রতিকেজিতে ৫০ গ্রাম হারে জীবাণু সার মেশাতে হবে। যাতে প্রতিটি বীজের গায়ে জীবাণু সারের একটি কালো আবরণ তৈরি হয়।
* এ কালো জীবাণু সার আবরণযুক্ত বীজ ঠান্ডা সময়ে অর্থাৎ গরমের দিনে সকাল ৯টার আগে ও বিকেল ৪টার পর বপন করা উচিত। তাতে কোন জীবাণু অধিক তাপে মারা যাবে না এবং ভালো ফলন পাওয়া যাবে। বপনের পর জমিতে ভালোভাবে মই দিতে হবে যেন বীজগুলো মাটির নিচে চলে যায়।
* বালাইনাশক বা কীটনাশক মেশানো বীজ ধুয়ে সামান্য শুকিয়ে জীবাণু সার প্রয়োগ করতে হবে।প্রাপ্তিস্থান
ময়মনসিংহে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) প্রধান কার্যালয়। এছাড়া বিনা উপকেন্দ্র রংপুর, ঈশ্বরদী, মাগুরা, সাতক্ষীরা, কুমিল্লা এবং বিনা অ্যানেক্স ফার্ম জামালপুরে পাওয়া যাচ্ছে। অথবা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের জেলা ও উপজেলা অফিসে যোগাযোগ করলে দেশের যেকোন স্থানের কৃষক এ সার পাবেন।

বাংলাদেশে আঙুর উৎপাদন সম্ভব!


বাংলাদেশে ফল চাষের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে। কেননা দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফল উৎপাদনের অনুকূলে। বাড়ির আঙিনায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, রাস্তার পাশে, পুকুর পাড়, খাস ও পতিত জমিতে ফলদ বৃক্ষ রোপণ করলে প্রতিটি বাড়ি হবে পুষ্টিতে ভরপুর। সৃষ্টি হবে ছোট-বড় ফল বাগানের এবং সমাজে আসবে উন্নয়নের ছোঁয়া। এ ক্ষেত্রে যুবসমাজ আঙুর চাষের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের পথ খুঁজে পেতে পারে।

বাংলাদেশের অনুকূল জলবায়ু বিভিন্ন ধরনের ফল উৎপাদনের জন্য বিশেষ সহায়ক। একই গাছে সারা বছর অথবা বছরে ২-৩ বার ফল ধরে এমন ফলের গাছের সংখ্যা কম। তবে একই গাছে বছরে ২-৩ বার ফল ধরে এমন ফলের মধ্যে আঙুর অন্যতম। ফলে বাংলাদেশে আঙুর চাষের সম্ভাবনার কথা চিন্তা করা হয়।

 বাংলাদেশে আঙুর চাষ তেমন একটা হয় না। ফলটি বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। অথচ আঙুর উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে এদেশে কখনও কখনও  ক্ষুদ্রাকারে গবেষণা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও তার ধারাবাহিকতা পরবর্তীতে লক্ষ্য করা যায়নি। তবে দেশে দু’চারজন সখের বশে আঙুর গাছ রোপণ করেছেন। কিন্তু রোপণের পরবর্তী কার্যক্রমগুলো সুষ্ঠুভাবে অনুসরণ না করায় উৎপাদন সম্ভব হয়নি। আর হলেও তা প্রখর অম্লতার কারণে মুখে দেওয়া সম্ভব হয় না।আঙুর উৎপাদনে প্রযুক্তিগত অজ্ঞতার কারণেই ফলটি এদেশে প্রসারতা লাভ করেনি। তাছাড়া এদেশের অনেকেরই ধারণা যে, এদেশে বিরাজমান আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে আঙুর উৎপাদন সম্ভব নয়। এই ধারণা নিতান্তই ভুল। কারণ ফলটির ওপর কোনরূপ গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই দু’চারজনের সাধারণ মতামতের ওপর ভিত্তি করে ফলটির প্রসারতায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই আঙুরের ওপর গবেষণার ক্ষেত্রে কেউ বিনিয়োগে আগ্রহী নয়।

বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও মালয়েশিয়ার জলবায়ু আমাদের দেশের জলবায়ুর চেয়ে খুব একটা ভিন্নতর নয়। তাছাড়া মাটির প্রকৃতি ও গুণগত বৈশিষ্ট্য প্রায় একই রকম। তা সত্ত্বেও ওইসব দেশ আঙুর উৎপাদন করে নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে প্রচুর পরিমাণে বিদেশে রফতানি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আশাবাদ ব্যক্ত করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

আমাদের দেশের জলবায়ু এবং তাপমাত্রা আঙুর চাষের উপযোগী। আঙুর চাষের জন্য গড় তাপমাত্রা দরকার ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি উত্তমভাবে বাংলাদেশে বিরাজমান। আঙুর পাকার সময় বৃষ্টি না হলে ভালো। যেহেতু আঙুর জুন মাসে পাকে তাই বৃষ্টি কোন সমস্যা নয়। তবে আগাম বৃষ্টি হলে গাছের গোড়ায় যাতে পানি না জমে এবং শিলাবৃষ্টি ক্ষতি করতে না পারে; সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বিজ্ঞানভিত্তিক অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশি আবহাওয়ায় সারা বছর ফল ধরে (দু’বার ফল ধরে) এমন ফলের উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তাদের বাণিজ্যিক চাষের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা জরুরি। একথা মনে রেখে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি আঙুর চাষের ওপর একটি গবেষণা প্রকল্প ১৯৯৯-২০০০ সালে হাতে নেয়। এ কার্যক্রমের আওতায় দেশের প্রান্ত থেকে দেশি-বিদেশি জাত সংগ্রহ করে একাডেমির ২নং নার্সারিতে ২০০০-২০০৩ সাল পর্যন্ত ট্রায়াল দেওয়া হয় এবং আশাব্যঞ্জক জাতগুলো ২০০৪ সালে ১নং নার্সারিতে স্থানান্তর করা হয়। বাগান স্থানান্তরের কারণে ২০০৭ সালে ৩টি, ২০০৮ সালে ৫টি এবং ২০০৯ সালে ৬টি, ২০১০ সালে ৭টি, ২০১১ সালে ৮টি, ২০১২ সালে ১০টি জাত এবং ২০১৩ সালে ১১টি জাতের মোট ৫৫টি গাছের মধ্যে ৪৪টি গাছে ফুল-ফল ধরে এবং অদ্যাবধি চলমান আছে।

শীতকালে আঙুরের পাতা ঝরে যায় এবং গাছ সুপ্তাবস্থায় শীতকাল অতিবাহিত হয়। আবার বসন্তের আগমনে (ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে) নতুন লতাপাতা গজানোর সঙ্গে সঙ্গে মুকুল আসে এবং পরবর্তীতে তা ফলে রূপান্তরিত হয়। জুন মাসের ১ম সপ্তাহে আরডিএ-১১ এবং অন্যান্য জাত ৩য় সপ্তাহের মধ্যে পাকা শেষ হয়। আঙুর চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী স্থান- যেখানে পরিমিত বৃষ্টি অথচ মাটিতে পানি দাঁড়ায় না। অপরদিকে আবহাওয়া শুষ্ক ও উষ্ণ থাকে। আঙুর পাকার সময় বৃষ্টি হলে আঙুরের গুণাগুণসহ  আকৃতি নষ্ট হয়ে যায় এবং আঙুর ফেটে যায়। আঙুরের বড় শত্রু শালিক ও বুলবুলি পাখি। আঙুর না পাকতেই কমপক্ষে ১০% আঙুর পাখি খেয়ে ফেলে এবং বৃষ্টির কারণে পঁচে যায়।

আঙুর গরম রৌদ্রময় আবহাওয়া পছন্দ করে। বিশেষ করে আঙুর পাকার সময় তাপমাত্রা বেশি ও রৌদ্রময় থাকার কারণে আঙুর খুব মিষ্টি হয়েছে। আঙুর সাধারণত আর্দ্র আবহাওয়া পছন্দ করে না এবং ঘন কুয়াশা, তুষারপাত সহ্য করতে পারে না। গাছে ফুল ফোটার সময় উজ্জ্বল আলো এবং স্বল্প তাপমাত্রা অধিক উৎপাদনের সহায়ক। আঙুর চাষে যেসব সমস্যা পরিলক্ষিত হয়, তারমধ্যে অন্যতম হলো রোগ। যথা- পাউডারি মিলডিউ, ডাউনিমিলডিউ ইত্যাদি। রোগের প্রাদুর্ভাব সাধারণত গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে বেশি দেখা যায়। রোগগুলোর হাত থেকে রক্ষা পেলেই আশানুরূপ উৎপাদন সম্ভব।

আসুন তবে, আঙুর চাষে আমরা এগিয়ে আসি। দেশের বেকারত্ব নিরসনে ভূমিকা রাখুক আঙুর চাষ। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন।

টবে গোলাপ চাষের নিয়ম


শহরে কিংবা গ্রামে বাড়ির ছাদে বা আশেপাশে শখ করে অনেকেই টবে ফুল চাষ করেন। সেই ক্ষেত্রে বেশির ভাগেরই পছন্দ গোলাপ। আপনি যদি টবে গোলাপ চাষ করতে চান তাহলে আপনাকে গোলাপ চাষ সম্পর্কে কিছু বিষয় জেনে নিতে হবে।

চারা রোপণ
নতুন চারা না লাগিয়ে একবছরের পুরনো চারা লাগাতে পারেন। চারাটি সোজাভাবে গর্তের মধ্যে লাগাতে হবে। চারার শেকড় ভালোভাবে মাটি দিয়ে সম্পূর্ণ ঢেকে দিতে হবে। জোড় কলমের মাধ্যমে উৎপাদিত চারার জোড়ের স্থানটি মাটি থেকে অন্তত ৩-৪ সেন্টিমিটার উপরের দিকে রাখতে হবে।

গাছ ছাঁটাই
নতুন শাখা ভালোভাবে বিস্তৃত করার জন্য পুরনো ডাল, ক্ষত ও রোগাক্রান্ত ডাল কেটে বাদ দিতে হয়। বড় গোলাপ পেতে হলে গাছ নিয়মিত ছাঁটাই করতে হয়। আশ্বিন মাসকে গাছ ছাঁটাইয়ের উপযুক্ত সময় ধরা হয়।

সার প্রয়োগ
গাছ ছাঁটাইয়ের ১০-১২ দিন আগে সার প্রয়োগ করতে হবে। গাছ প্রতি ২-৩ কেজি পঁচা শুকনো গোবরের সঙ্গে ৫০ গ্রাম টিএসপি ও ৫০ গ্রাম পটাশ দিতে হবে। টবের উপর থেকে ১০ সেন্টিমিটার মাটি সরিয়ে নিচের মাটি কিছুটা আলগা করে সারগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। এসময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে শিকড়ের কোন ক্ষতি না হয়। হাঁস-মুরগি বা কবুতরের বিষ্ঠা সার হিসেবে গোলাপ গাছে দেওয়া যেতে পারে।

পানি
• চারা লাগানোর পরে চারার গোড়ায় প্রথম দিকে ঘন ঘন পানি দিতে হবে।
• টবের মাটিতে ভালোভাবে চারা গজালে এবং নতুন ডালপালা ছাড়ার পরে খরা মৌসুমে প্রতি ১০ দিন পর পর একবার করে সেচের মতো পানি দিতে হবে।
• প্রত্যেকবার পানি সেচের পরে গাছের গোড়ার মাটি ঝরঝরে করে দিতে হবে।

রোগ প্রতিরোধ
টবে চাষ করার সময় পোকা আক্রমণ করলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জৈব কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন।পরিচর্যা
১. চারার জোড়া জায়গাটির নিচে কোন প্রকার ডালপালা বের হলে ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে দিন।
২. বড় আকারে ফুল পেতে হলে প্রথম দিকে বের হওয়া পুষ্পকুড়ি ভেঙে দিন।
৩. মার্চ-এপ্রিল মাসে পঁচা গোবর এবং কম্পোস্টের মালচ গাছের গোড়ায় দিন।
৪. পুরান ডালে ফুল ভালো হয় না। তাই ডালপালা ছাঁটাই করতে হবে।
৫. ছাঁটাইকৃত ডালের সামনে ছত্রাকনাশক ঘন করে গুলে লাগিয়ে দিন।
৬. গাছের গোড়া থেকে ২০ সেন্টিমিটার দূরে গোল করে মাটি খুঁড়ে শেকড় বের করে দিন।
৭. ক্ষতিকর পোকামাকড় ধ্বংস করতে এভাবে মাটি খুঁড়ে ৮-১০ দিন রাখতে পারেন।

ধানের দামে কৃষক খুশি, চালের দামে ভোক্তা


ধানের ভালো দাম পেয়ে খুশি প্রান্তিক কৃষকরা। রাজধানীর পাশের জেলা মানিকগঞ্জ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কিন্তু ঈদের আগে জেলা শহরটির দুধবাজারে চাল কিনতে আসা ভোক্তাদের ভ্রু কুচকে তাকানোই বলে দেয় তারা পড়েছেন বিড়ম্বনায়। রাজধানীতেও ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে প্রায় একইরকম প্রতিক্রিয়া।

কারণ আগের তুলনায় কেজি প্রতি ৮-১০ টাকা বেশি দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে তাদের।

তবে কৃষকরা জানিয়েছেন, বাজারে চালের দাম নিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে অসন্তুষ্টির জন্য তারা দায়ী নন। তাদের (কৃষক) এবং ভোক্তার মধ্যে ব্যাপারী, মিল মালিকদের মতো অতি মুনাফা প্রত্যাশি একটি শ্রেণী রয়েছে।

কৃষকরা মনে করেন এজন্যই বাজারে বেড়েছে চালের দাম। তারা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করলে চালের সর্বনিম্ন দাম ৩৫-৩৮ টাকার বেশি হতো না।

 

ধানের দাম পেয়ে খুশি চরমকিমপুরের কৃষকরা
মানিকগঞ্জের চরমকিমপুর গ্রামের কৃষক মো.আব্দুল্লাহ জানান, এবারের বৃষ্টিপাত তাদের সেচ এবং বালাইনাশকের খরচ কমিয়েছে। ৫-৬ হাজার টাকা খরচে প্রতি বিঘা থেকে ২২-২৪ মণ ধান উঠেছে গোলায়।মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম্যও গত মৌসুমের তুলনায় সহনীয় মাত্রায় ছিলো। কারণ গতবার বেঁধে দেয়া দরে কেউ ধান বিক্রি করতে পারেনি। গত মৌসুমে ১ মণ ধান বিক্রি করে কৃষক বড়জোর ৭’শ থেকে সাড়ে ৭’শ টাকা পেয়েছিলো। কিন্তু এবার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা পেয়েছে তারা।

 

মকিমপুর থেকে যে বাজারে যেতে মাত্র আধ ঘণ্টা লাগে সেই বাজারে (দুধবাজার) চাল কিনতে আসা নিম্নবিত্তের ভোক্তারা আছেন বিপাকে।

 

রাজশাহী-২৮ জাতের চাল কিনে দোকান থেকে বের হওয়া গোবিন্দ ঘোষ বলেন,‘ আগে যে চাল খেতাম ৪০-৪২টাকায় এখন সেটা ৫৬ টাকায় কিনতে হচ্ছে।’

ঈদের আগে প্রতিবারই বাজার দর মাত্রা ছাড়িয়ে যায় অভিযোগ করেন চাল কিনতে আসা আব্দুল মান্নান।

অবসরপ্রাপ্ত এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন,‘ গতবছরের চেয়ে এবার একই চাল ১০-১২ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।’

ইরি-বোরো ২৮ ও ২৯ সহ অন্যান্য চালের দাম যে হঠাৎ মাত্রা ছাড়িয়েছে সেটা স্বীকার করে নিলেন দুধবাজারের চাল বিক্রেতা মিজানুর রহমান ও বজলু মিয়া।

তারা জানান, খুচরা আড়তে চালের দাম ক্রেতাদের নাগালে রাখতে হলে মিল মালিকদের দিকে সরকারের কঠোর নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ দরকার। কারণ তাদের জন্য বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পায় অথচ ভোক্তার সামনে বিড়ম্বনাময় পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাদের।

 

খুচরা বিক্রেতারাও অস্বস্তিতে
চাল বিক্রেতা মিজানুর বলেন,‘কয়েক মাস আগেও যে চাল ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম, সেই চাল এখন ৪৬-৪৮ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। মিল মালিকদেরকে ট্রাক প্রতি লাখ টাকার বেশি দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে আমাদের।’

মানিকগঞ্জসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে খুচরা বাজারে মোটা চাল প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৪৮টাকা। পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ৫০টাকায়। বিরি-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায়। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মিনিকেট। প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৬০ টাকায়। কোথাও কোথাও চালের মান ভেদে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের দামের এই উচ্চগতিতে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার চালের আমদানির ওপর ট্যারিফ ২৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, প্রতি কেজিতে চাল ৬ টাকা কমে যাবে। প্রতি কেজিতে চাল যদি ৬ টাকা কমে যায় তাহলে মোটা চাল প্রতি কেজিতে বিক্রি হবে ৪২ টাকায়। পাইজাম বিক্রি হবে ৪৪ টাকায়। বিরি-২৮ ৫৪ পরিবর্তে বিক্রি হবে ৪৮ টাকায়। বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের চাল মিনিকেট বিক্রি হবে আনুমানিক ৫৪ টাকায়।