রাজউকের ২৩ কর্মচারী ‘কোটিপতি’: অনুসন্ধানে আরও ৩০ দিন সময় চায় দুদক


রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর ১২ জনসহ ২৩ কর্মচারীর বিরুদ্ধে স্বল্প বেতনে চাকুরী করেও অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্যে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ১৬ মে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও খিজির হায়াত এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দ্রুত অনুসন্ধান শেষ করার নির্দেশ দিয়ে ৪৫ দিন সময় বেঁধে দেন। ৩০ জুলাই এ মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা ছিলো।তবে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শেষ করতে আরও এক মাস (৩০ দিন) সময় চেয়েছে দুদক। হাইকোর্টকে দুদক জানায়, ২৩ জন কর্মচারীর সকল রেকর্ডপত্র প্রাপ্তি এবং প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল সময় সাপেক্ষ বিষয়।

সম্প্রতি রাজউকের ২৩ কর্মচারীর সম্পদের বিস্তারিত তুলে ধরে কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে দুদক। অভিযোগ অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে গঠিত টিমের প্রধান করা হয়েছে উপপরিচালক ইয়াছির আরাফাতকে। অন্য সদস্যরা হলেন উপপরিচালক জেসমিন আক্তার ও মো. তানজিব হাসিব সরকার।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে কয়েকজন অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক টিম। বিএনপিকে অর্থায়নের অভিযোগে গত ১৯ জানুয়ারি রাজউকের অফিস সহকারী জাফর সাদিককে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি রাজধানীর আফতাবনগরের ডি-ব্লকের ৫ নম্বর রোডে ২৯ নম্বর প্লটে সাড়ে ৩ কাঠা জমিতে নূর আহমেদ ভিলা নামে আটতলা এবং ৩৩ শান্তিনগরে একটি ফ্ল্যাট থাকার কথা স্বীকার করেন। চাকরির পাশাপাশি রাজউকের প্লট বেচাকেনার মধ্যস্থতা ও ঘুষের টাকায় এসব সম্পদ গড়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান।

১১ বছর ধরে রাজউকের উত্তরা জোনের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন এম এ বায়েজিদ খান। উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কের তিন কাঠার ৫ নম্বর প্লটে ছয়তলা বাড়ি আছে তার। এর বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ২০ ও ২২ নম্বর প্লট দুটির মালিক তিনি। একেকটি প্লটের দাম প্রায় ৬ কোটি টাকা। এই দুই প্লট এক করে ৯ তলা ভবন নির্মাণকাজ চলছে। প্রতি তলায় হবে চারটি ফ্ল্যাট। ভবন নির্মাণে আনুমানিক খরচ ১২ কোটি টাকা।রাজউকের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আবদুল মোমিনের মাসিক বেতন ২৮ হাজার টাকা। মুগদার দক্ষিণ মান্ডার ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর প্লটে প্রায় ৫ কাঠা জমিতে সাততলা বাড়ি আছে তার। এর বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া মতিঝিলে কবি জসীমউদ্দীন রোডে দুটি ফ্ল্যাট আছে। নকশী কাঁথার মাঠ নামে ৯ তলা ভবনের ১ হাজার ৭২৫ বর্গফুটের বি-৬ ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য ২ কোটি টাকা। এ বাসায় থাকেন মোমিন। সাভারের ভাদাইল পুরোনো ইপিজেড সংলগ্ন হোসেন প্লাজার পাশে দুই বিঘা জমি কিনে টিনশেড তুলে পোশাককর্মীদের ভাড়া দিয়েছেন। এর বাজারদর অন্তত ৫ কোটি টাকা। পূর্বাচলে স্ত্রীর নামে একটি প্লট আছে।

পদোন্নতি পেয়ে এমদাদ আলী সম্প্রতি রেখাকার থেকে নকশাকার হয়েছেন। ২৪ হাজার টাকা বেতনের চাকুরে হলেও তার বাড্ডা পুনর্বাসন প্রকল্পে পাঁচ কাঠা জমিতে ছয়তলা বাড়ি আছে। এ ছাড়া ডেমরায় এমদাদ আলীর আরও দুটি সাত কাঠার প্লট আছে। ইমারত পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামানের চাকরির বয়স প্রায় ৪ বছর। তিনি সম্প্রতি দক্ষিণ পীরেরবাগে আমতলা টাওয়ারের ২ কোটি টাকায় ১ হাজার ৬৩০ বর্গফুটের ই-৬ নম্বর ফ্ল্যাটটি কিনেছেন। এ ছাড়া জি প্রিমিও ব্র্যান্ডের গাড়িও (ঢাকা মেট্রো-গ ৩৬-৩৩০৪) কিনেছেন।সার্ভেয়ার মাসুম বিল্লাহর উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর রোডের ২৪ নম্বর প্লটে সাততলা বাড়ি রয়েছে। বাড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ১০ কোটি টাকা।

সুপারভাইজার খালেদ মোশাররফ তালুকদার রুবেলের রয়েছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ৭ কাঠা জমিতে পাঁচতলা বিলাসবহুল বাড়ি। ঢাকার মাদারটেকে নিজের ফ্ল্যাট, করোলা ফিল্ডার গাড়ি। সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে মার্কেট রয়েছে। রাজউক শ্রমিক লীগের সভাপতি বেঞ্চ সহকারী বাশার শরীফকে নথি গায়েব করার অভিযোগে গত ২৫ আগস্ট চাকরিচ্যুত করা হয়। ঢাকার মানিকনগর পুকুরপাড়ে তার ২ হাজার ৬০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, আধুনিক টয়োটা নোয়া গাড়ি (নম্বর ঢাকা মেট্রো-ছ ১৯-০৪১৪) রয়েছে। ঢাকায় বাড়ি করেননি রাজউকের নিম্নমান সহকারী কাম-মুদ্রাক্ষরিক ইউসুফ মিয়া। তবে গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মিঠানগর ইউনিয়নের মলিহাস গ্রামে করেছেন তিনতলা বাড়ি। করেছেন শখানেক গরুর দুটি খামার। ৬৬, শান্তিনগর হোল্ডিংয়ের সি-৫ নম্বরে আলিশান ফ্ল্যাট আছে অফিস সহকারী বেলাল হোসেন চৌধুরীর। মিরপুরের পীরেরবাগে একটি বাড়ি রয়েছে নকশাকার শহীদউল্লাহ বাবুর। রয়েছে একটি গাড়িও। কনিষ্ঠ হিসাব সহকারী মোহাম্মদ হাসানের বাড্ডায় একটি ছয়তলা বাড়ি ও আফতাবনগরে প্লট রয়েছে। রেকর্ডকিপার মো. ফিরোজের উত্তরা মডেল টাউনের ১২ নম্বর সেক্টরে ছয়তলা বাড়ি রয়েছে। আফতাবনগরে ৫ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ছয়তলা বাড়ি আছে কনিষ্ঠ হিসাব সহকারী মোহাম্মদ হাসানের।

রামপালের কয়লা আনা জাহাজের বিরুদ্ধে আটকাদেশ প্রত্যাহার হাইকোর্টের


ইন্দোনেশিয়া থেকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৩১ হাজার টন কয়লা নিয়ে মোংলা সমুদ্রবন্দরে আসা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি পানাগিয়া কানালার বিরুদ্ধে আটকাদেশ প্রত্যাহার করেছেন হাইকোর্ট। ফলে এই জাহাজে থাকা কয়লা খালাসে কোনো বাধা নেই।

শনিবার (১৫ জুলাই) সম্পূরক কার্যতালিকা তৈরি করে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতের বেঞ্চ অফিসার সূত্রে জানা যায়, বিদেশি জাহাজে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কয়লা আনা হয়েছে, এ বিষয়টি নজরে আসায় জাতীয় স্বার্থে হাইকোর্ট আগের আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এদিকে উভয়পক্ষ সমঝোতার আবেদন আদালতে দাখিল করবে বলে জানা গেছে।

আদালতের এই আদেশ কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে মোংলা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। এসময় আদালতে বাদীপক্ষের  আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।এর আগে গত বুধবার (১২ জুলাই) ইন্দোনেশিয়া থেকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৩১ হাজার টন কয়লা নিয়ে মোংলা সমুদ্রবন্দরে আসা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি পানাগিয়া কানালার বিরুদ্ধে একটি মামলায় আটকাদেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পরবর্তী নির্দেশের আগ পর্যন্ত মোংলা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষকে জাহাজটির এনওসি প্রদানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

এই জাহাজের নামে দুই কোটি ৯৯ লাখ ৪৫ হাজার ১৮২ দশমিক ৬৬ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে হাইকোর্ট বিভাগে চীনের সিসিএক্স শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি মো. আবুল হাসানের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী আটকাদেশ দেন।

পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত জাহাজটি যাতে মোংলা বন্দর ত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়।এর আগে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ৩১ হাজার টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বহির্নোঙর হাড়বাড়িয়া ১১-তে ভেড়ে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটি।

সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মায়ের স্বীকৃতি দিলেন হাইকোর্ট


এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষাসহ সব ফরম পূরণে সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মাকেও স্বীকৃতি দিয়ে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট আইনুন্নাহার লিপি ও অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।পরে অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার  বলেন, আজকের রায়ের ফলে এসএসসি, এইচসি পরীক্ষার ফরম পূরণ, পাসপোর্টের ফরম পূরণসহ সব ফরম পূরণে বাবা অথবা মা অথবা অথবা আইনগত অভিভাবকের নাম লেখা যাবে। এই রায়ের ফলে বাবা-মায়ের উভয়ের নাম লেখার বাধ্যবাধকতা থাকলো না। শুধু মায়ের নাম লিখেও ফরম পূরণ করা যাবে।

এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মা স্বীকৃতি পাবেন কি না- এ বিষয়ে শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।রিটের পক্ষের আইনজীবীরা জানান, ২০০৭ সালের এপ্রিল মাসে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পূর্বে শিক্ষার্থী তথ্য ফরমে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে বাবার নাম পূরণ করতে না পারার কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী ঠাকুরগাঁওয়ের এক তরুণীকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রবেশপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। উল্লেখ্য যে, মা ও সন্তানকে কোনোরূপ স্বীকৃতি না দিয়ে বাবার চলে যাওয়ার পর ওই তরুণী তার মায়ের একার আদর স্নেহে বড় হয়েছিলেন।

পরে এ ঘটনার যথাযথ অনুসন্ধানের ওপর প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং সন্তানের অভিভাবক হিসেবে মায়ের স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২০০৯ সালের ২ আগস্ট তিনটি মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন- বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এবং নারীপক্ষ যৌথভাবে জনস্বার্থে রিট দায়ের করে।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৩ আগস্ট বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহম্মেদ এবং বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মানবাধিকার, সমতার পরিপন্থি ও বিশেষভাবে শিক্ষার অধিকারে প্রবেশগম্যতার বাধাস্বরূপ বিদ্যমান বৈষম্যমূলক এ বিধানকে কেন আইনের পরিপন্থি এবং অসাংবিধানিক হিসেবে ঘোষণা করা হবে না- এই মর্মে রুল জারি করেন।

একইসঙ্গে বর্তমানে কোন কোন শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বাবা ও মা উভয়ের নাম সম্পর্কিত তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে হয় তার একটি তালিকা এবং যেসব যোগ্য শিক্ষার্থী তাদের বাবার পরিচয় উল্লেখ করতে অপারগ তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সে সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরে ২০২১ সালের ৬ জুন ব্লাস্ট আবেদনকারীদের পক্ষে একটি সম্পূরক হলফনামা আদালতে দাখিল করে। রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় ঘোষণার জন্য ২৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।

অবৈধ উপায়ে সেমাই তৈরি, ৬০ হাজার টাকা জরিমানা


নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সেমাই তৈরির বেকারিতে অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মেসার্স মদিনা নামক ওই সেমাই তৈরির বেকারিতে অবৈধ প্রক্রিয়ায় সেমাই উৎপাদনের অপরাধে ৫০ হাজার টাকা ও প্যাকেটের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ উল্লেখ না করায় ১০ হাজার টাকাসহ মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানের দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: সেলিমুজ্জামান। অভিযানে সহায়তা করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।

মো: সেলিমুজ্জামান জানান, মদিনা বেকারিকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় সেমাই উৎপাদনের অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৪৩ ধারায় ৫০ হাজার টাকা ও সেমাইয়ের প্যাকেটের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ উল্লেখ না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৩৭ ধারায় ১০ হাজার টাকাসহ মোট ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ এবং আদায় করা হয়েছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে যারাই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও ভেজাল উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধেই ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে গণমাধ্যম-সুশীলদের অন্তর্ভুক্তি দাবি : টিআইবি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের ঘটনা বিলম্বে হলেও স্বীকার করে আইনটির নিবর্তনমূলক ধারাগুলো সংশোধনীর বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের বক্তব্যকে সতর্ক সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

একই সঙ্গে এই বক্তব্যের কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে নিবর্তনমূলক এই আইনটি মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি-না তা পর্যালোচনা ও সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটিতে গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। আইনের চোখে সবাই সমান- এই নীতির কার্যকারিতা নিশ্চিতে শুধু সাংবাদিক নয়, দেশের সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার না করার দাবিও জানিয়েছে টিআইবি।

টিআইবি বলছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার ও দুর্ব্যবহার হয়েছে বলে স্বীকার করে বিশ্বের সেরা চর্চাসমূহ অনুসরণ করে আইনের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন আইনমন্ত্রী। ভিন্নমত, বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে আইনের এমন ধারাগুলো পর্যালোচনা করে সংশোধনীর ব্যাপারে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে অবশেষে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় বলে উল্লেখ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

আজ (শুক্রবার) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের শুরু থেকেই এই আইনটির বেশ কিছু ধারা বিশেষ করে ২৫ ও ৩১ নিয়ে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল। মুক্ত চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য এটি খড়গহস্ত হওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার কর্ণপাত করেনি। এর অপব্যবহার রোধে আইনমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেটিরও বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং অল্প দিনেই আইনটি ভিন্নমত দমন ও ভয়ের পরিবেশ তৈরির কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ও সরকারের প্রশাসন যন্ত্রের কাছে। এমন বাস্তবতায় আইনটির অপব্যবহাররোধে যেকোনো ধরনের সংশোধনে গঠিত কমিটিতে সকল অংশীজন, বিশেষ করে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। নয়তো নতুন উদ্যোগটিও ভেস্তে যাবার শঙ্কা মোটেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করলে সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হবে না- এমন সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও অন্তর্ভূক্তিমূলক নয় উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আর্টিকেল নাইনটিনের তথ্যানুযায়ী, ডিজিটাল নিরাপত্তা ২০২১ সালের ১১ মাসে মামলা হয়েছে ২২৫টি, যেখানে চারশোর বেশি মানুষকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ১৬৬ জনকেই আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে। আবার এসব মামলার বড় অংশই হয়েছে ক্ষমতাসীনদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তির জন্য। অর্থাৎ আইনটি শুধু গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধই নয়, সাধারণ নাগরিকের ভিন্ন চিন্তা ও সরকারের সমালোচনা রোধে ব্যবহারের সুস্পষ্ট নজির তৈরি করেছে। যার বড় উদাহরণ এই আইনের করা মামলায় কারাগারে থাকা লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু। সুতরাং শুধু সাংবাদিক নয়, সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের নীতি থেকে সরে আসতে হবে।

একইসঙ্গে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার না করার যে সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর আলোচনার পর মৌখিকভাবে থানাগুলোতে জানানো হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছে, তা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করার ও সবার জন্য সমানভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

শপথ নিলেন নতুন প্রধান বিচারপতি


শপথগ্রহণ করেছেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান।সদ্য নিযুক্ত প্রধান বিচারপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, বিচারপতি, সিনিয়র আইনজীবীসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। এদিন শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরপর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট, আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সচিব (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. গোলাম সারওয়ার প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

২০১৩ সালের ২৮ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। এর আগে ২০০৭ সালে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতির পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি। ২০০৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী নিয়োগ পান।

হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর জন্ম ১৯৫৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। তার বাবা মরহুম আবদুল গোফুর মোল্লা ও মা মরহুমা নূরজাহান বেগম। ১৯৭২ সালে খোকসা জানিপুর পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৭৪ সালে সাতক্ষীরার সরকারি পিসি কলেজ থেকে আইএসসি সম্পন্ন করেন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এমএ পাস করেন। পরে ধানমন্ডি ল’কলেজ থেকে এলএলবি পাস করে ১৯৮১ সালে ঢাকা জজ কোর্টে আইন পেশায় নিযুক্ত হন।

১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তার বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকীও আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে অবসরে যান। বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

উল্লেখ্য, দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বহুল আলোচিত পদত্যাগের পর ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শপথগ্রহণ করেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ৪৭ মাস প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন শেষে ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর অবসরে যান সৈয়দ মাহমুদ হৈাসেন। এর মাধ্যমে তার স্থলাভিষিক্ত হলেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

চটকদার ও লোভনীয় বিজ্ঞাপন বন্ধে হাইকোর্টের রুল


ভোক্তা-গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে চটকদার, লোভনীয় ও অসত্য বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধে কর্তৃপক্ষের নিস্ক্রিয়তা কেনো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ ধরনের বিজ্ঞাপনদাতাদের বিরুদ্ধে কেনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন তামজিদ হাসান পাপুল ও রবিউল আলম।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তথ্য সচিব, বাণিজ্য সচিব, সংস্কৃতি সচিব এবং ভোক্তা অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর লোভনীয় বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে নিয়ে চ্যালেঞ্জ রিট দায়ের করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী কামরুল ইসলাম।

 

৪৬০ কোটির মালিক সেই কম্পিউটার অপারেটর ফের রিমান্ডে


১৩০ টাকা দিন মজুরিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করে ৪৬০ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া নুরুল ইসলামের ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসমিন আরা এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরআগে এদিন পূর্বের একদিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মোহাম্মদপুর থানায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ফের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে শুনানি শেষে বিচারক আসামির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত বুধবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণের জাল টাকা ও বিদেশি মুদ্রাসহ নুরুল ইসলামকে আটক করে র‌্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ জাল টাকা, তিন লাখ ৮০ হাজার মিয়ানমারের মুদ্রা, চার হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ও নগদ দুই লাখ এক হাজার ১৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, ২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে চুক্তিভিত্তিক দৈনিক ১৩০ টাকা বেতনে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি নেন নুরুল ইসলাম (৪১)। এ চাকরির সুবাদে স্থানীয় সিন্ডিকেট করে দালালি, পণ্য খালাস, বৈধ পণ্যের আড়ালে অবৈধ মালামাল এনে অল্প সময়ের মধ্যে ৪৬০ কোটি টাকার মালিক বনে যান তিনি। ঢাকায় তার ছয়টি বাড়ি ও ১৩টি প্লট রয়েছে। এছাড়া সাভার, টেকনাফ, সেইন্টমার্টিন, ভোলাসহ বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে মোট ৩৭টি প্লট, বাগানবাড়ি, বাড়ি, চারটি রিক্সার গ্যারেজ, ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকা রয়েছে। অবৈধভাবে তার অর্জিত সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা।

জনগণের টাকা ফেরত না দিলে কারাগারে দেব: খেলাপিদের হাইকোর্ট


আপনারা টাকা তুলে নিয়েছেন। আর যারা পিপলস লিজিংয়ে টাকা জমা রেখেছিল, তারা না খেয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। পিপলস লিজিংয়ের টাকা জনগণের টাকা, চোর-বাটপারদের টাকা না। আগে টাকা দিন, পরে কথা বলুন। তা না হলে ভেতরে (কারাগারে) ঢুকানো হবে। ঋণখেলাপি ও তাদের আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চের বিচারক মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ ঋণখেলাপিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এসব কথা বলেন।

এ সময় শুনানি করেন আইনজীবী ড. সাঈদা নাসরিন। তার মক্কেলের কাছে পিপলস লিজিং কত টাকা পাবে জানতে চাইলে আদালতকে তিনি বলেন, তার কাছে ৩৮৪ কোটি টাকা পিপলস লিজিংয়ের পাওনা রয়েছে। এ সময় আদালত বলেন, আগে টাকা দেবেন, তারপর ইনস্টলমেন্টের আবেদন করবেন। না হলে কারাগারে ঢুকাব। এটা জনগণের জমানো টাকা। চোর-বাটপারদের টাকা না।

আদালত আরও বলেন, ‘আমরা দেখছি হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে এ কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রেখে টাকা উদ্ধার করা যায় কিনা। আমানতকারীরা আজকে খেয়ে না খেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। আমরা চেষ্টা করছি ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের।’ আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে ৫ লাখ টাকা এবং তার বেশি ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়া ১৩৭ জনের সশরীরে আদালতে হাজিরার দ্বিতীয় দিন ছিল আজ।

মুক্তিযোদ্ধাদের নামের পূর্বে ‘বীর’ লেখার বিধান করে গেজেট প্রকাশ


সকল ক্ষেত্রে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের পূর্বে ‘বীর’ শব্দ ব্যবহারের বিধান করে গেজেট প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোঃ মতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত গেজেটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ এর ধারা ২(১১) এ মুক্তিযোদ্ধাগণকে “বীর মুক্তিযোদ্ধা” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
উক্ত আইনের সাথে সঙ্গতি রেখে এবং একাদশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৩তম বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল ক্ষেত্রে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের পূর্বে ‘বীর’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে।

এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।