বাসস্থানের সংস্থানে সফল বাংলাদেশ


রেজাউল করিম সিদ্দিকী

বাসস্থান প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে অন্যতম মৌলিক চাহিদা হিসেবে স্বীকৃত। আদিম যুগে মানুষ রুক্ষ প্রকৃতি ও বন্য পশুর আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পাহাড়ের গুহা বা গাছের কোটরে বাস করতো। সভ্যতা বিকাশের সাথে সাথে মানুষের বাসস্থানের পরিবর্তন হতে থাকে। মানুষ কৃষিকাজ, পশুপালন ও ঘরবাড়ি তৈরি করতে শেখে। ঘরবাড়ি নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত উপকরণের ব্যবহার শুরু হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়তে থাকে মানুষের বাসস্থানের চাহিদা। একইসাথে কমতে থাকে ব্যবহারযোগ্য ভূমির পরিমাণ।  বর্তমানে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭শ কোটিরও বেশি। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৫০ সাল নাগাদ তা হবে ৯শ কোটির বেশি। এই বিশাল জনসংখ্যার জন্য মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চত করা ধনী দরিদ্র সকল দেশের জন্যই একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ। উপরন্তু ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট উদ্বাস্তু সমস্যা তো আছেই। সবমিলিয়ে সবার জন্য মানসম্মত বাসস্থান বা আবাসনের ব্যবস্থা করা সত্যিই একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সর্বসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই প্রেক্ষিতে ১৯৮৬ সাল থেকে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে সারাবিশ্বে দিবসটিকে উদযাপন করা হয়। নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিতকরণে এ দিবস উদযাপনের তাৎপর্য অপরিসীম। এবছর দিবসটির প্রাতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে Housing For All: A Better Urban Future. বাংলায় এর অর্থ করা হয়েছে “সকলের জন্য আবাসন: ভবিষ্যতের উন্নত নগর”। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বের আবাসন ব্যবস্থার জন্য এ প্রাতিপাদ্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ হয়েছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো তাদের আবাসন পরিকল্পনায় নগরের প্রতিটি স্তরে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাসযোগ্যতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। আমাদের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সকল
মহানগরীর জন্য মহাপরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এবারের বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য আবাসন সঙ্কট মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ আবাসন গড়ে তোলা এবং পরিবেশ বান্ধব নগরায়নে সকলকে অনুপ্রাণিত করবে। একসময় এদেশের মানুষের গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ আর গোয়াল ভরা গরু ছিল। বেশ সুখে স্বাচ্ছন্দে কাটতো এদেশের সাধারণ মানুষের জীবন। কালক্রমে বহি: শত্রুর আক্রমণ, প্রায় দুইশ বছরের ইংরেজ শাসন-শোষণ, তেইশ বছরের পাকহানাদার শাসকগোষ্ঠীর শোষণ নির্যাতনে এদেশের অধিকাংশ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ে। উপরন্তু বিংশ শতাব্দীতে এসে জনসংখ্যার বিস্ফোরণ, দ্রুত নগরায়ণ ও ভূমির যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে বাসযোগ্য ভূমির পরিমাণ দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে।  ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ হয়ে পড়ে আশ্রয়হীন। তাছারা নদী ভাঙ্গন, ঘুর্ণিঝড়সহ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে আরো অনেকে। সব মিলিয়ে ৫৫ হাজার বর্গমাইল ক্ষুদ্র আয়তনের এই দেশে সবার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা একটা বড়ো চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাধীনতার অব্যাবহিত সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি সারাদেশের বাস্তুহারাদের পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ঢাকার মিরপুরের বাউনিয়াবাদ এলাকায় তাদের বসবাসের জন্য জমি বরাদ্দ দেন। সমুদ্র উপকূলে ঘুর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সরকারি কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নেও গ্রহণ করেন নানাবিধ কার্যক্রম। সারাদেশে রাস্তাঘাট মেরামত, ব্রিজ/কাল্ভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেন। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে গ্রহণ করেন হাজারো প্রকল্প। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে তাঁর সেই যুগান্তকারী কার্যক্রমকেও হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু দেশের আবাসন সংকট নিরসনে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। ফলে ভূমিহীন উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠী যেমন আবহেলিত থেকেছে, তেমনি সরকারি বেসরকারি আবাসন শিল্পের আবস্থাও ছিল রুগ্ন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের আবাসন ব্যবস্থা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ঢাকা ও চট্রগ্রাম মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে ৩৫,৩৬৫ টি প্লট উন্নয়ন এবং ৮৯১২ টি ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ১৮,১০৫ টি প্লট উন্নয়ন এবং ৭,৯৬০ টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। অদূর ভব্যিষতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক সারাদেশে ১৮,১৪৮ টি প্লট উন্নয়ন ও ১,৪১,৬৮৭ টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকায় বসবাসরত বস্তিবাসীদের জন্য ৫৩৩টি ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে এবং আরও ১০,৫৩০টি টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের জন্য ০৯টি প্রকল্পের আওতায় ৩,০৬৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে সরকারি কর্মচারীদের আবাসনের লক্ষ্যে ১৩ টি চলমান প্রকল্পের আওতায় ৬,৮৭৯ টি ফ্ল্যাটের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর বাইরে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীতে ০৪টি প্রকল্পের আওতায় ২,৮৯৬ টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। আরও ০৮ টি প্রকল্পের আওতায় মোট ৮,৮৩৫ টি ফ্ল্যাট নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে (জুলাই ১৯৯৭-জুন ২০০২) ৪৭২১০টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে (জুলাই ২০২০-ডিসেম্বর ২০১০) ৫৮৭০৩টি পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের সাফল্যে ২.৫০ লক্ষ ভূমিহীন, গৃহহীন,ছিন্নমূল ও অসহায় পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১,৯২৩৩৬টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজারে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৬০০টি ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করেছেন। সীমিত সম্পদ, ক্ষুদ্র আয়তন ও বিশাল জনগোষ্ঠীর এই দেশে ১০ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে দেওয়া হয়েছে আশ্রয় এবং তাদের জন্য কক্সবাজারের অদূরে ভাষাণচরে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবাসন খাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যপকভাবে প্রসংসিত হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকায় বসবাসরত বস্তিবাসীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের কাজ অনেক দেশ মডেল হিসেবে অনুসরণ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেশের আবাসন সংকট সমাধানে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের সামনে বর্তমানে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, ভিশন: ২০৪১, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ডেলটা প্ল্যান ২১০০ রয়েছে। এসব পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তাবয়ন করতে পারলে অদূর ভবিষ্যতে এদেশের মানুষের কোন আবাসন সংকট থাকবে না এবং দেশ হবে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি সবার ঐকান্তিক ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ নিবন্ধ

আজ দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই
দিনে স্মরণ করছি প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যদের,
যাঁদের অসাধারণ দূরদর্শিতার ফলে এই দিনে ১৯৪৯ সালে ঢাকার রোজ গার্ডেনে দেশ ভাগের পর প্রথম
রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম আওয়ামী লীগ, পরে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ এবং সব
শেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ হচ্ছে এই উপমহাদেশের একমাত্র
রাজনৈতিক দল, যেটির নেতৃত্বে একটি রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালিদের একটি স্বাধীন
রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। এই স্বাধীনতার জন্য যাঁরা রক্ত দিয়েছেন সেই ৩০ লাখ শহীদের প্রতি গভীর
শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
দেশের একটি কঠিন সময়ের মধ্যে এই বছর ঐতিহাসিক দলটি তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
করছে। হয়তো চিরাচরিত কোনো অনুষ্ঠান হবে না। সাধারণত এদিন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা
শেখ হাসিনা দলের নেতাদের নিয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে
সম্মান জানান। এবার হয়ত হবে না কোনো সভা-সমাবেশ। হতে পারে তিনি কিছু কাজ ভিডিওর মাধ্যমে
করবেন। এমন কঠিন সময় শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বে এর আগে কখনো আসেনি। আওয়ামী লীগের
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময় পালন করা হয়নি, কারণ তখন তা করার পরিবেশ ছিল না।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া যখন আওয়ামী লীগের নাম নেওয়াকে
অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন, তখনো দলের কিছু নিবেদিত প্রাণ নেতা ও কর্মী দিনটিকে
ঘরোয়াভাবে পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগ একবারেই এ দেশেই শুধু নয়, সারা ভারতবর্ষে একমাত্র জাতীয় দল, যার জন্ম
এই মাটিতেই এবং তার একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠিত হয় এক
ইংরেজ বেসামরিক আমলা অ্যালেন অক্টোবিয়াস হিউম দ্বারা ১৮৮৫ সালে। উদ্দেশ্য ভারতীয়দের
সঙ্গে শাসক গোষ্ঠীর সম্পর্কোন্নয়ন। ১৯০৬ সালে ঢাকার নবাব আর বনেদি বিত্তশালীরা গঠন
করেন মুসলিম লীগ তাঁদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। রাশিয়ার বলসেভিক
বিপ্লবের পর ভারতে গঠিত হয় কমিউনিস্ট পার্টি ১৯২০ (মতান্তরে ১৯২৫ সালে) সালে মার্ক্সবাদ-
লেনিনবাদের চিন্তধারার মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া
কম্পানি ভারত দখলপ্রক্রিয়া শুরু করে। পরবর্তী ১০০ বছরে তারা নানা ছলচাতুরি ও বিশ্বাসঘাতকতা
করে বস্তুতপক্ষে সারা ভারতবর্ষ দখল করে নেয়। ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধের পর
(ইংরেজ ঐতিহাসিকরা বলেন সিপাহি বিদ্রোহ) ভারতের শাসনভার কম্পানি থেকে ব্রিটিশ
রাজপরিবারের কাছে চলে যায়। ১৮৫৭ সালের পর ইংরেজরা বুঝতে পারে দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে
ভারতীয়রা তাদেও কারণে যে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তাতে সাধারণ জনগণের মাঝে
ইংরেজদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের এই ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য তারা
বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে ভারতীয়রা শিক্ষাদীক্ষায়
একটু উন্নতি লাভ করলে তারা বুঝতে পারে ইংরেজ শাসকরা কিভাবে এবং কত উপায়ে তাদের শোষণ
করছে। তখন প্রথমে কংগ্রেস এই শোষণ ও শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে। পাকিস্তানের
প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহ বিলাত থেকে পড়া লেখা শেষ করে এসে প্রথমে কংগ্রেসে যোগ দেন; কিন্তু তাদের
সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগের মতো একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে
অনেকটা ছিনতাই করে তাকে একটি রাজনৈতিক প্লাটফরমে রূপান্তর করেন।
জিন্নাহ অত্যন্ত চালাক ও ধূর্ত ছিলেন। আর ছিলেন চরম ক্ষমতালোভী। ভারত ভেঙে
পাকিস্তান সৃষ্টি হলে তিনি একাধারে পাকিস্তানের বড়লাট ও সংসদের প্রেসিডেন্ট (স্পিকার)
হয়েছিলেন। খুব করুণ অবস্থায় জিন্নাহর মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর শেষ দিনগুলো জানতে হলে পড়তে হবে

তাঁর বোন ফাতেমা জিন্নাহর লেখা জিন্নাহর জীবনী ‘মাই ব্রাদার’। পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী
লিয়াকত আলী খানের মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাস ভূমি চাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল তাঁদের বিশাল
পারিবারিক জমিদারি রক্ষা করা। এই জমিদারি পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
বাংলার মুসলমানরা এই পাকিস্তান আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন এটি চিন্ত করে, নিজেদের
জন্য একটি পৃথক আবাস ভূমি হলে তাঁদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হবে। পলাশীর
যুদ্ধের পর বাঙালি মুসলমানরা শিক্ষাদীক্ষাসহ সব কিছুতেই পিছিয়ে পড়েছিল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে
কৃষি ভূমির মালিক ছিল হিন্দু জোতদার জমিদার, মহাজনরা। বেশির ভাগ মুসলমান তাদের জমিতে
বর্গাচাষ করত। নিজেদের জন্য একটি স্বাধীন আবাস ভূমির স্বপ্ন দেখে তারা নিজেদের
ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিল।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান সৃষ্টি হলে তারা দেখেছিল তাদের সেই
স্বপ্ন ছিল ভ্রান্ত আর অনেকটা কল্পনা বিলাস। মুসলমানদের জন্য যখন পৃথক আবাস ভূমি নিয়ে
ইংরেজ শাসকদের সঙ্গে জিন্নাহ দেনদরবার করছেন, তখন ১৯৪০ সালের লাহোর মুসলিম লীগের
সম্মেলনে প্রস্তাব উত্থাপিত হয় যে উপমহাদেশে যেসব প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল,
প্রতিটি পৃথক রাষ্ট্র হবে এবং পরবর্তীকালে প্রয়োজনে কনফেডারেশনও করতে পারে। বর্তমান
পাকিস্তানের কোনো প্রদেশই তখন মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ ছিল না একমাত্র অবিভক্ত বাংলা
ছাড়া। জিন্নাহর এক প্রতারণার মাধ্যমে ১৯৪৬ সালে দিল্লিতে মুসলিম লীগের এক বিশেষ কাউন্সিল
সভায় লাহোর প্রস্তাবকে পরিবর্তন করে মুসলমানদের জন্য একাধিক নয়, একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার
প্রস্তাব করে, যার

ফলে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় । অথচ কলকাতায় যেসব মুসলমান
বাঙালি একাধিক পৃথক আবাস ভূমির জন্য আন্দোলন করছিলেন (তরুণ শেখ মুজিব তখন রাজপথের
একজন কর্মী) তাঁদের ধারণা ছিল অবিভক্ত বঙ্গ পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র হবে, কারণ তখন সমগ্র
ভারতবর্ষে এই বঙ্গই একমাত্র মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ ছিল। বাংলার মুসলিম লীগ নেতারা
মেনে নিলেন, কারণ তাঁদের ধারণা, স্বাধীন হলে বদলে যাবে তাঁদের ভাগ্য। তখন বঙ্গের প্রধানমন্ত্রী
(মুখ্যমন্ত্রী) ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যিনি পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের সভাপতি
হয়েছিলেন (ভারপ্রাপ্ত)। কিছুদিনের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও।
পাকিস্তানের বাঙালি মুসলমানদের মোহ ভাঙতে বেশিদিন সময় লাগেনি। ১৯৪৮ সালের মার্চ
মাসে জিন্নাহ ঢাকা এসে রমনা রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় ইংরেজিতে ঘোষণা করলেন,
পাকিস্তানের ৬ শতাংশ মানুষের ভাষা, যারা মূলত উত্তর প্রদেশ ও বিহার থেকে পাকিস্তানে মোহাজের
হিসেবে এসেছে তাদের ভাষা উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, যার অর্থ হচ্ছে রাতারাতি
বাকি ৯৪ শতাংশ মানুষ সরকারি সব কাজকর্ম থেকে বঞ্চিত হয়ে গেল। এর প্রথম প্রতিবাদ সেই
জনসভায়ই হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হলে জিন্নাহর সংবর্ধনা সভায় তিনি
আবারও একই কথা বলেন। এবার উপস্থিত ছাত্ররাই, যাঁর মধ্যে তরুণ শেখ মুজিবও ছিলেন জিন্নাহর
এই বক্তব্যে প্রতিবাদ করেন। বস্তুতপক্ষে ১৯৪৮ সালেই শুরু হয় বাঙালির জাতীয় মুক্তির
আন্দোলনের সূত্রপাত। আন্দোলন করতে চাই সংগঠন। শেখ মুজিব অন্য ছাত্রনেতাদের নিয়ে গঠন
করলেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। ছাত্রদের সংগঠন নিয়ে কোনো রাষ্ট্রীয় আন্দোলন বেশি
দূর নিয়ে যাওয়া কঠিন মনে হয়েছিল তরুণ ছাত্রনেতাদের। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্ম হয় পূর্ব
পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল শেখ মুজিবের। সভাপতি
মওলানা ভাসানী, আর সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিব। শুরু থেকেই
আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার আদায় ও সেই লক্ষ্যে
পাকিস্তানের এই অংশসহ প্রতিটি প্রদেশের স্বায়ত্তশাসন।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি এ বছর ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবে এক ভিন্ন
পরিস্থিতিতে। এ বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষ। অনেক বড় ধরনের বছরব্যাপী
অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সব কিছু এখন অনেকটা তোলা আছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তো
আর তোলা থাকতে পারে না। এই ৭১ বছরে এই দলটি হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও যা অর্জন করেছে
তা এই উপমহাদেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দল অর্জন করতে পারেনি। ভেঙেছেও একাধিকবার।
নিষিদ্ধ হয়েছে অন্তত ছয়বার। ১৯৫৪, ১৯৫৬ বা ১৯৭০ নির্বাচনের প্রদেশ কিংবা কেন্দ্রে জয়লাভ
করেও পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক আমলাদের ষড়যন্ত্রের কারণে ক্ষমতায় যেতে পারেনি।
১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে অনেকের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা
রাজপথে বুকের রক্ত দিয়েছেন। ১৯৭১ সালে এই দলটির নেতৃত্বে বাঙালি নিজের মাতৃভূমি স্বাধীন
করার জন্য যুদ্ধে গিয়েছিল। এই দলই জাতিকে উপহার দিয়েছিল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির
পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম বড় কীর্তি ১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তির
সনদ ছয় দফা ঘোষণা, যার ভিত্তিতে ১৯৭০-এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ যখনই নির্বাচনে বিজয় লাভ করেছে তখনই মানুষ কিছু পেয়েছে। ১৯৭০-এর
নির্বাচনের পর বাঙালি একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে। কিন্তু সেই স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু বেঁচে ছিলেন
সাড়ে তিন বছর। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পুরো
পরিবারকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে। বেঁচে যান বিদেশে থাকা তাঁর দুই কন্যা আজকের
ক্রান্তিকালের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছোট বোন শেখ রেহানা। দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুর
জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দলটিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছিলেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের অর্জন আছে অজস্র। কিন্তু অনেক সময় কাছের মানুষরাই
অনেক কিছু পণ্ড করে দিয়েছেন। আশা করব ৭১তম জন্ম বার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুকন্যা সব প্রতিকূল
পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দেশকে আরো উন্নত শিখরে নিয়ে যাবেন। এই দিনে জাতির জনক
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতাকর্মীদের প্রতি অভিবাদন।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার প্রতি রইল ভালোবাসা। বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে
বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা এক বিস্ময়কর স্থানে নিজেদের জন্য জায়গা করে
নিয়েছেন। সেই স্থানটুকু তাঁদের জন্য নির্ধারিত যেমন ভাবে অনিবার্য ছিল আওয়ামী লীগের জন্ম।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

লেখক : আবদুল মান্নান, সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
২১.০৬.২০২০
পিআইডি নিবন্ধ

করোনা সচেতনতায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

 ভাইরাস জীব না জড় পদার্থ অথবা উভয় পদার্থ এটা নিরুপণ করা কঠিন। কেননা, কখনো জীব কখনো জড় পদার্থ হিসেবে বিজ্ঞানীরা এদের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। জীবের সংস্পর্শে এলে এরা জীব আর জড় পদার্থের কাছে এরা জড় পদার্থ হিসেবে গণ্য হয়। এদিক বিবেচনা করলে এরা আবার উভয় পদার্থ বটে।

করোনাভাইরাস আসলে একটি ভাইরাসের গোত্র বা পরিবারের নাম। এই পরিবারের মধ্যে ছয়টি ভাইরাস আগে থেকেই রয়েছে এবং নতুন করোনাভাইরাস অর্থাৎ কোভিড-১৯ সহ করোনাভাইরাস পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা এখন সাত। যাদের মধ্যে চারটি ভাইরাসের লক্ষণ সাধারণ সর্দি কাশির মতোই। তবে মার্স এবং সার্চ সবচেয়ে প্রাণঘাতী ছিল।নতুন করোনাভাইরাস দিয়ে সৃষ্ট রোগের নামকরণ করা হয়েছে কোভিড-১৯। সর্বপ্রথম ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এখন পর্যন্ত মার্স এবং সার্চের মতো প্রাণঘাতী নয়। করোনাভাইরাস মানুষের শুধু ফুসফুসে আঘাত হানতে পারে। ফুসফুস বিকলাঙ্গ করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে প্রবেশ করে নাক, কান, চোখ ও মুখ দিয়ে। প্রবেশের সময় খাদ্যনালীতে না গিয়ে শ্বাসনালী হয়ে ফুসফুসে অতিসহজে যায়। সে বুঝতে পারেখাদ্যনালী ভিজে বিধায় শ্বাসনালী বেছে নেয়। অন্যান্য ভাইরাস জ্বরের মতোই কোভিড-১৯ এর শুরুর দিকে লক্ষণগুলো হলো জ্বর, ক্লান্তি ভাব, শুষ্ক কাশি। এছাড়া শরীর ব্যথা, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা-ব্যথা, পাতলা পায়খানাও থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে তীব্রতা বাড়ে এবং মৃদু থেকে তীব্র শ্বাস কষ্ট দেখা যায়।

আবার কারো কারো ক্ষেত্রে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরও কোনো রকম লক্ষণ প্রকাশ পায় না বা মৃদু লক্ষণ থাকতে পারে।  করোনাভাইরাস আর সাধারণ ফ্লু বা সাধারণ সর্দি-কাশির উপসর্গগুলোর মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে। কোভিড-১৯ এর প্রধান উপসর্গ জ্বর, কাশি। তবে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু হলে গলা ব্যথার মতো উপসর্গও থাকে। আবার নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অনেকের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট থাকতে পারে, যা ফ্লুতে দেখা যায় না। ফলে পরীক্ষা না করে কোভিড-১৯ আছে কিনা তা বোঝা মুশকিল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত কণার মধ্যে এই ভাইরাসটি থাকে।

আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে তিন ফুটের মধ্যে কেউ থাকলে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। বাতাসে এই ভাইরাসটি ছড়ায় না, বরং শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত কণার মাধ্যমে ছড়ায়। কণাটি ভারি হওয়ায় এটি বাতাসে ভেসে বেড়াতে পারে না, তাই এটি মাটি, মেঝে বা অন্য কোনো বস্তুর ওপর পড়ে । সেখান থেকে স্পর্শের মাধ্যমে অন্য কারোর করোনা সংক্রমণ হতে পারে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ যে কারোর হতে পারে। তবে ইমিউনিটি সিস্টেম যাদের দুর্বল বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম যেমন ডায়াবেটিস, কিডনি বিকল, হৃদরোগী, অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন যারা, বিশেষ করে বৃদ্ধরা সাধারণত মারাত্মক করোনা ঝুঁকিতে থাকেন। ধূমপায়ী পুরুষদের মধ্যে এই ভাইরাসের মারাত্মক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। ধূমপানের ফলে শ্বাসনালী ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কিছুটা কম থাকে বিধায় এরা শ্বাসনালী ও ফুসফুসকে আক্রমণ করে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবাদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। যেকোনো বয়সের মানুষই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

শিশুদের শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সাধারণত কমই হয়ে থাকে। আক্রান্ত বাবা-মা বা পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে এবং বারবার তাদের সংস্পর্শে এলে শিশুদের ঝুঁকি বাড়ে। তবে শিশুদের মধ্যে যাদের অ্যাজমা রয়েছে বা অন্য কোনো জন্মগত বা দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে, তাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আশার কথা, করোনাভাইরাস আক্রান্ত ৮০ শতাংশ রোগীই ভালো হয়ে যায়, এমনকি কোনো চিকিৎসা না নিলেও অথবা ঘরে বসে সর্দিজ্বরের মতো চিকিৎসা নিলেও। এ ভাইরাসে আক্রান্ত ২০ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে এবং ২ থেকে ৩ শতাংশকে আইসিইউতে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। যাঁদের রোগের প্রকোপ কম, তাঁদের সুস্থ হতে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

তাপমাত্রার সঙ্গে করোনার সম্পর্ক নেই। প্রথম দিকে ধারণা করা হতো, শীতপ্রধান দেশে এর বিস্তার বেশি, তবে দেখা যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সব দেশেই এই ভাইরাসের বিস্তার বাড়ছে। মূলত ৭০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রায় এই ভাইরাস টিকতে পারে না, বাস্তবে এত তাপমাত্রা কোনো দেশেই নেই।  কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচিকাশির সময় মুখে হাত দিলে বা কফ-থুথু হাতে লেগে গেলে, ওই হাত দিয়ে যা কিছু ধরা হবে যেমন- টেবিল, চেয়ার, দরজার হাতল, কিবোর্ড ইত্যাদিতে ভাইরাস থেকে যেতে পারে এবং এগুলো যে কেউ স্পর্শ করলে সেখান থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। যেকোনো বস্তুর ওপরে এ ভাইরাস বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আর সে কারণে ঝুঁকি এড়াতে ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়ার বিকল্প নেই। আক্রান্ত ব্যক্তি মাস্ক ছাড়া হাঁচি-কাশি দিলে ভাইরাস বেরিয়ে মেঝে, চেয়ার বা টেবিলসহ নির্জীব জিনিসে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো ৪৮ ঘণ্টার মতো বেঁচে থাকতে পারে। তখন অন্য কেউ সেই জিনিসগুলোকে স্পর্শ করে সেই হাত দিয়ে তার চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলে জীবাণুগুলি দেহে প্রবেশ করে এবং ওই ব্যক্তিটিকে সংক্রমিত করতে পারে। এজন্য হাত না ধুঁয়ে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়।

বুকের দুধের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর কোনো তথ্য বা প্রমাণ এখনো নেই। তবে আক্রান্ত মা অবশ্যই দুধ-খাওয়ানোর সময় মাস্ক পরবেন, ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ও স্তন ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চা-কোলে থাকা অবস্থায় হাঁচিকাশি দিবেন না। করোনায় নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা হলেও নতুন এই করোনাভাইরাসের বিপরীতে নিউমোনিয়ার ভ্যাক্সিন যেমন নিউমোকক্কাল ভ্যাক্সিন বা হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ ‘বি’ এর ভ্যাক্সিন কাউকে সুরক্ষা দেবে না। তবে কেউ আগে থেকে এই ভ্যাক্সিন নিয়ে থাকলে তা তার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হবে। যেসব দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রয়েছে, সেই সব দেশ থেকে আগতদের সবারই ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকা উচিত। কোয়ারেন্টাইন মানে হলো, এই ১৪ দিন তিনি নিজে ঘরের বাইরে যাবেন না, আবার বাড়িতে অন্য কারো সঙ্গে মিশবেন না। ঘরে অবস্থানকালে পরিবারের অন্যদের সংস্পর্শও এড়িয়ে চলতে হবে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা রোগীর খাবার ঘরের দরজার বাইরে রেখে আসতে হবে, কেউ ভেতরে ঢুকবে না। ঘরের বাইরের অন্য কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে নিজে না গিয়ে কারো সহায়তা নেওয়াই ভালো। ঘরে পোষা প্রাণী থাকলে তাদের সংস্পর্শে না যাওয়াই ভালো। এক কথায় নিজে
নিজেকেই অন্যদের থেকে পৃথক করে রাখা। এতে পরিবারের বা সমাজের অন্যরা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে না। কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় যদি কারোর জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ইত্যাদি করোনার মতো লক্ষণ উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে আইইডিসিআর-এর হটলাইনে যোগাযোগ করার নির্দেশনা রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বা বিদেশ থেকে আগত বা তার সংস্পর্শে থাকা কারো যদি জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় তাদের পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা প্রয়োজন। তাই যাদের রোগের লক্ষণ নেই তাদের পরীক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই। এতে রোগ শনাক্ত হবে না। করোনা মানেই মৃত্যু নয়। বরং সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু হলে, আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে শিশুসহ সবাই ক্রমশঃ সুস্থ হয়ে ওঠে। এজন্য দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত। ভালো হবে প্রতিদিন সুষম খাবার, টাটকা শাকসব্জি ও ফলমুল খেতে পারলে। এছাড়াও নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। ধূমপান ও মদ্যপান একদম নয়।আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যকে রক্ষার জন্য বাধ্যতামূলক মাস্ক পরবেন, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ বা নাক থেকে ভাইরাস বা জীবাণু অন্য মানুষের ছড়িয়ে না পড়ে। পাশাপাশি আক্রান্ত বা কোয়ারেন্টাইনে রাখা রোগীদের সেবাদানকারী ডাক্তার, নার্সসহ অনান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। তাছাড়া বিদেশ ফেরত যাদেরকে বাড়িতে নিজেদের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা এবং তাদের সেবাদানকারী পরিবারের লোকজন এবং আশেপাশের লোকজন শুধুমাত্র একই ঘরে থাকার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। তবে শুধু মাস্ক পরলেই হবে না, সেই সঙ্গে কিছু নিয়মও মানতে হবে। যেমন কিছুক্ষণ পর পর সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোঁয়া অব্যাহত রাখতে হবে, নিয়মিত মাস্ক পরিবর্তন করতে হবে, ব্যবহারের পর মাস্ক যেখানে সেখানে না ফেলে ঢাকনাযুক্ত পাত্রে ফেলতে হবে এবং পরবর্তীতে তা পুড়িয়ে ফেলা ভালো।আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে টিস্যু ব্যবহার করবেন এবং সেই টিস্যু পুড়িয়ে ফেলতে হবে, যাতে সেখান থেকে ভাইরাস না ছড়ায়। কেউ যদি রুমাল ব্যবহার করেন, তাহলে সেই রুমাল ও হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিবেন। ভালোভাবে হাত না ধুলে সেখান থেকে ভাইরাস ছড়াবে। তাই সব সময় সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে দুই হাত ধুয়ে নেবেন অথবা চাইলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা
যায়। হাতের কাছে কিছু না থাকলে কনুইয়ের ভাজে নাক-মুখ ঢাকতে হবে। অপরিষ্কার হাতে নাক, মুখ ও
চোখ স্পর্শ করবেন না। বাইরে থেকে ঘরে ঢুকে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে তারপর অন্য কিছু ধরবেন। কারণ
এই হাত দিয়ে যা কিছু ধরা হবে সেখানেই ভাইরাস থেকে যেতে পারে। টেবিল, চেয়ার, দরজার হাতল,
কিবোর্ডে ভাইরাস থেকে যেতে পারে। সেখান থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারে। তাই এগুলো পরিষ্কার রাখতে
হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাওয়া দরকার। ডিম পোচ করে না খেয়ে ভালোভাবে ভাজি করে
খাওয়া উচিত। ফলমূল ভালো করে ধুয়ে খেতে হবে, কোনো সবজি দিয়ে সালাদ করার আগে সেগুলো
ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। অনেকের গৃহপালিত পশু-পাখি থাকে। কোনো পশু-পাখি অসুস্থ হয়ে পড়লে বা
রোগাক্রান্ত মনে হলে সেটিকে সরিয়ে নিতে হবে। সেই প্রাণীকে কেউ স্পর্শ করলে ভালোভাবে হাত
ধুয়ে নিতে হবে। কুশল বিনিময়ের ক্ষেত্রে করমর্দন, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন। জনসমাগম এড়িয়ে
চলুন। যথাসম্ভব ঘরে বা বাড়িতে থাকুন, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই ভালো।
করোনাভাইরাস নিয়ে ভয় পাবেন না, আতঙ্কিত হবেন না। ভয়ের পরিবর্তে মানুষ যদি অধিকতর সচেতন থাকে, তাহলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করা কঠিন কিছু নয়। এই ভাইরাস একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে সংক্রমণের সুযোগ যদি না পায়, তাহলে তা ছড়াবে না। আবার দ্রুত সময়ের মধ্যে শনাক্ত করা গেলে ব্যবস্থাপনা কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। নতুন এই করোনাভাইরাসের জন্য এখনো কোনো টিকা বা চিকিৎসা উদ্ভাবন না হলেও আনুষঙ্গিক অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। আর করোনাভাইরাসের ব্যাপারে সচেতনতাই সর্বাপেক্ষা উত্তম প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

মাইদুল ইসলাম প্রধান

৬০০ বছরের মধ্যে পৃথিবী আগুনের গোলায় পরিণত হবে : স্টিফেন হকিং


 ৬০০ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে পৃথিবী। ২৬০০ সাল নাগাদ এই দুনিয়া পরিণত হবে বিশাল এক আগুনের গোলায়, যাবতীয় সৃষ্টি পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। ভবিষ্যদ্বাণী করলেন বৈজ্ঞানিক স্টিফেন হকিংয়ের।

বেজিংয়ে এক সমাবেশে এই দাবি করেছেন বিশ্বনন্দিত এ বিজ্ঞানী। তাঁর বক্তব্য, পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শক্তির ব্যবহার। ফলশ্রুতি, বিশ্বের ধ্বংস হয়ে যাওয়া।

হকিংয়ের কথায়, সমাধান একটাই। মানুষকে পৃথিবীর বাইরে তাকাতে হবে। এমন গ্রহে বসতি স্থাপনের কথা ভাবার সাহস করতে হবে, যেখানে আগে মানুষের পায়ের চিহ্ন পড়েনি।
দীর্ঘদিন ধরে হকিংয়ের পরিকল্পনা, এই সৌরজগতের বাইরে নিকটতম গ্রহে সফর করার, দেখার, সেখানে মানুষের জীবনধারণের উপায় আছে কিনা। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেছেন তিনি।

এই সৌরজগতের নিকটতম তারার জগত আলফা সেন্টাউরি। পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব ৪ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সম্ভবত এই আলফা সেন্টাউরির মধ্যে পৃথিবীর মত গ্রহ রয়েছে যাতে প্রাণীজগতের বসবাস সম্ভব। হকিংয়ের ইচ্ছে, ছোট কোনও মহাকাশযানে করে এখনই আলোর গতিতে ওই আলফা সেন্টাউরিতে পাড়ি দেওয়ার যাতে ২০ বছরের মধ্যে সেখানে পৌঁছনো যায়। তাঁর হিসেব, ওরকম একটি মহাকাশযান মঙ্গলে পৌঁছে যাবে ১ ঘণ্টার কম সময়ে, কয়েকদিনের মধ্যে প্লুটোতে। নাসার ভয়েজারের পাশ দিয়ে যাবে ১ সপ্তাহের মধ্যে, ২০ বছরের মধ্যে ছুঁয়ে ফেলবে আলফা সেন্টাউরি। তারপর পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখা হোক, এখান থেকে মানুষ নিয়ে গিয়ে সত্যিই সেখানে বসতি গড়া সম্ভব কিনা। সূত্র : কলকাতা২৪*৭

যদি কাগজে লেখো নাম…


‘যদি কাগজে লেখো নাম কাগজ ছিড়ে যাবে/পাথরে লেখো নাম পাথর ক্ষয়ে যাবে/হৃদয়ে লেখো নাম সে নাম রয়ে যাবে/হৃদয় আছে যার সেই তো ভালোবাসে/প্রতিটি মানুষেরই জীবনে প্রেম আসে।’

প্রবোধ চন্দ্র দে। ডাক নাম মান্না দে। ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সেরা সঙ্গীত শিল্পীদের একজন। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটিসহ অজস্র ভাষায় তিনি ষাট বছরেরও অধিক সময় সঙ্গীত সাধনা করেছেন। বৈচিত্র্যের বিচারে হিন্দি গানের ভুবনেও সবর্কালের সেরা গায়কদের একজন তিনি। ২০১৩ সালের আজকের (২৪ অক্টোবর) এ দিনে উপমহাদেশের বিখ্যাত এই সঙ্গীতজ্ঞ ব্যাঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে মারা যান। মহান শিল্পীকে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

১৯১৯ সালের ১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন মান্না দে। তার বাবার নাম পূর্ণ চন্দ্র দে ও মায়ের নাম মহামায়া দে। মান্না দে’র সঙ্গীতে যাত্রায় বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা ছিল। তারপর সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পান চাচা সঙ্গীতে বিশেষভাবে দক্ষ শিক্ষক কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র কাছ থেকে। তিনিই তাকে খুব বেশি অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করেছেন। কাকা কৃষ্ণ চন্দ্র দে ও উস্তাদ দাবির খানের কাছ থেকে গানের শিক্ষা লাভ করেন তিনি।মান্না দে তার শিশু পাঠ গ্রহণ করেছেন ‘ইন্দু বাবুর পাঠশালা’ নামে একটি ছোট প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তারপর তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুল এবং স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক করেন। স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়ার সময় সহপাঠীদেরকে গান শুনিয়ে তিনি আসর মাতাতেন। ওই সময়ে মান্না দে আন্তঃকলেজ গানের প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে তিন বছর তিনটি আলাদা শ্রেণিবিভাগে প্রথম হয়েছিলেন।

১৯৪২ সালে চাচা কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র সঙ্গে তৎকালীন বোম্বে দেখতে আসেন। সেখানে শুরুতে তিনি চাচার সহকারী হিসেবে এবং পরে শচীন দেব বর্মণের অধীনে কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি অন্যান্য স্বনামধন্য গীতিকারের সান্নিধ্যে আসেন। এক সময় স্বাধীনভাবে নিজেই কাজ করতে শুরু করেন। ওই সময় তিনি বিভিন্ন হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত পরিচালনার পাশাপাশি উস্তাদ আমান আলি খান ও উস্তাদ আব্দুল রহমান খানের কাছ থেকে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নেন।

১৯৪৩ সালে ‘তামান্না’চলচ্চিত্রে গায়ক হিসেবে মান্না দে’র অভিষেক হয়। এতে সুরাইয়ার সঙ্গে একটি দ্বৈত সংগীতে কণ্ঠ দেন মান্না দে। গানটির সুরকার ছিলেন তার চাচা। ওই সময়ে গানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ১৯৫০ সালে ‘মশাল’ ছবিতে শচীন দেব বর্মণের সুরে ‘ওপার গগন বিশাল’ নামে একক গান গেয়েছিলেন। গানটির কথা লিখেছিলেন কবি প্রদীপ। ১৯৫২ সালে মান্না দে বাংলা এবং মারাঠী ছবিতে একই নামে এবং গল্পে ‘আমার ভূপালী’ গানটি গান। আর এর মাধ্যমেই তিনি নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করেন এবং জনপ্রিয় গায়ক হিসেবে সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছ থেকে কদর পেতে থাকেন।

পরে মান্না দে ভীমসেন জোসি’র সঙ্গে একটি জনপ্রিয় দ্বৈত গান ‘কেতকী গুলাব জুহি’ গান। এ ছাড়াও ‘শোলে’ সিনেমায় তিনি কিশোর কুমারের সঙ্গে ‘ইয়ে দোস্তী হাম নেহী তোড়েঙ্গে’ এবং ‘পডোসন’ সিনেমায় ‘এক চতুর নার’ গানটি গান।

মান্না দে শিল্পী ও গীতিকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়সহ আরো বেশকিছু গীতিকারের সঙ্গে বাংলা ছবিতে গান গেয়েছিলেন। দ্বৈত সঙ্গীতে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে ‘শঙ্খবেলা’ সিনেমায় ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’ গান করেছেন। তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীতসহ প্রায় ৩৫০০ গান গেয়েছেন। তার জনপ্রিয় বাংলা গানগুলোর মধ্যে রয়েছে-কফি হাউজের সেই আড্ডাটা, আবার হবে তো দেখা, এই কূলে আমি আর ওই কূলে তুমি, তীর ভাঙা ঢেউ আর নীড় ভাঙা ঝড়, যদি কাগজে লেখো নাম, সে আমার ছোট বোন, পৌষের কাছাকাছি রোদ মাখা সেইদিন, কতদিন দেখিনি তোমায়, খুব জানতে ইচ্ছে করে, আমি সারারাত, এ নদী এমন নদী, মাঝরাতে ঘুম, এই আছি বেশ, এই রাত যদি, কি এমন কথা, ক’ফোঁটা চোখের জল, দীপ ছিল শিখা ছিল, যদি হিমালয়-আল্পসের সমস্ত জমাট বরফ ও শাওন রাতে।

১৯৫৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর কেরালার মেয়ে সুলোচনা কুমারনকে বিয়ে করেন মান্না দে।তাদের সংসারে দুই মেয়ে শুরোমা ও সুমিতা। মান্না দে পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় মুম্বাইয়ে কাটানোর পর মৃত্যুর আগে ব্যাঙ্গালুরুর কালিয়ানগর শহরে বাস করেন।এ ছাড়া তিনি কলকাতায়ও বাস করেছেন।

সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার ১৯৭১ সালে তাকে ‘পদ্মশ্রী’, ২০০৫ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ এবং ২০০৯ সালে ‘দাদাসাহেব ফালকে’ সম্মাননায় অভিষিক্ত করে। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে রাজ্যের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রদান করে। এ ছাড়াও তিনি ১৯৬৯ সালে হিন্দী চলচ্চিত্র ‘মেরে হুজুর’ ছবির গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার; শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পী (পুরুষ), ১৯৭১ সালে বাংলা চলচ্চিত্র ‘নিশি পদ্মে’ ছবির গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পী (পুরুষ)ও ১৯৮৮ সালে রেনেসাঁ সাংস্কৃতিক পরিষদ, ঢাকা থেকে মাইকেল সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।

২০০৫ সালে আনন্দ প্রকাশনী থেকে বাংলাভাষায় তার আত্মজীবনী ‘জীবনের জলসাঘরে’ প্রকাশিত হয়। পরে এটি ইংরেজিতে ‘মেমরীজ কাম এলাইভ’, হিন্দীতে ‘ইয়াদেন জি ওথি’ এবং মারাঠী ভাষায় ‘জীবনের জলসাঘরে’ নামে অনুদিত হয়েছে। ২০০৮ সালে তার জীবন নিয়ে ‘জীবনের জলসাঘরে’ নামে একটি তথ্যচিত্র মুক্তি পায়।

চ্যালেঞ্জ নিয়ে ১শ’ মরিচ খেয়ে যা হল যুবকের!


ইন্ডিয়ান, মোগলাই, চাইনিজ থেকে ইটালিয়ান, জাপানিজ– খাবার যাই হোক না কেন যেখানে ঝাল সেখানেই স্বাদ। যারা ঝাল খেতে ভালবাসেন, তারাই এর কদর জানেন।

কিন্তু অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভাল নয়। ঝাল তো একদমই নয়। এই শিক্ষা হাতেনাতে পেলেন ইন্দোনেশিয়ার এক ভিডিও ব্লগার ওরফে ভ্লগার। তিনি ঝাল খাওয়ার ফল পেলেন হাতেনাতে।
ভিডিও ব্লগার হওয়ার সুবাদে অনেক বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বেন সুমাদিভিরিয়ার। কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা তাঁর সারা জীবন মনে থাকবে। কী করেছিলেন এই ভ্লগার? চ্যালেঞ্জ নিয়ে ১০০টি ঝাল বার্ড’স আই চিলি সম্বলিত নুডলস খেয়ে ফেলেছিলেন তিনি। আর ঝালের চোটে হয়ে গিয়েছিলেন বধির। টানা দু’মিনিট এমন অবস্থা ছিল তাঁর। কানে কিছু শুনতে পাচ্ছিলেন না ইন্দোনেশিয়ার ওই যুবক। ঝাল সইতে না পেরে শেষে পুরো মাথাই ঠাণ্ডা পানিতে চুবিয়ে দেন। তখন কিছুটা রেহাই মেলে। তারও কিছুক্ষণ পরে সব ঠিক হয়।

কিন্তু কেন এমনটা হল বেনের? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মুখগহ্বরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কান ও নাক। ঝালের চোটে যেমন নাক দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে, তেমনই কানও বন্ধ হয়ে যেতে পারে সাময়িকভাবে। ঠিক ঠাণ্ডা লাগলে যেমনটা হয়। আর বেন খেয়েছিলেন ১০০টি বার্ড’স আই চিলি সম্বলিত নুডলস। যা বিশ্বের অন্যতম ঝাল লঙ্কা হিসেবে বিবেচিত হয়।

হালাপিনোর থেকেও ৪৫ গুণ বেশি ঝাল। সে কারণেই তাঁর এমন অবস্থা হয়েছে। আর অতিরিক্ত ঝাল খেয়ে মুখগহ্বরের পাশাপাশি খাদ্যনালী ঝলসে যাওয়ারও প্রবল সম্ভাবনা থাকে। তাই ঝালপ্রিয় খাদ্যরসিকদের একটু সাবধানে চলার পরামর্শই দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আর কেউ মানুন আর না মানুন, বেন তো এবার থেকে এই পরমর্শ নিশ্চয়ই মেনে চলবেন!

ঈদ বাজার: জমে উঠেছে শেষ সময়ের কেনাকাটা


রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিংমলের গেটে আসলে বোঝা কঠিন যে নাড়ির টানে ঢাকা ছেড়েছেন অনেক মানুষ! প্রবল ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকেও মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যেতে হবে আপনাকে। একই দৃশ্য চোখে পড়লো নিউমার্কেট, গাউসিয়া, চাঁদনীসহ সব মার্কেটেই। ঈদের শেষ সময়ের কেনাকাটার জন্য মানুষ ভিড় করছেন মার্কেটগুলোতে।
শেষ সময়ের কেনাকাটা করতে মানুষ ভিড় করছেন মার্কেটে
বাসাবো থেকে ৫ বছরের মেয়েকে নিয়ে নাজমা খানম এসেছিলেন গাউসিয়া মার্কেটে। জানালেন মেয়ের জামা কিনেছেন আগেই। এখন চুলের ব্যান্ড ও চুড়ির মতো ছোটখাট কেনাকাটাগুলো সারতে এসেছেন। একই কথা জানালেন মিরপুরের বাসিন্দা হোসনে আরা। তবে ভিড়ের জন্য পছন্দের জিনিস খুঁজতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন। জামার সঙ্গে মিলিয়ে কানের দুল ও গলার সেট কিনছিলেন বীথি। জানালেন, গাউসিয়ার এখানে অনেক ধরনের গয়না থাকে। ফলে পছন্দ করে কেনা সহজ। তবে ভিড় অনেক বেশি। সালোয়ার কামিজের খোঁজে নিউমার্কেটের দোকান ঘুরছিলেন দুই বোন সুমি ও তানিয়া। ‘শেষ সময়ে আসলে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। এজন্যই প্রতি বছর রোজার শেষের দিকে কেনাকাটা করি’- বলেন তানিয়া।

 

কম দামে বিক্রি করার বিষয়টি স্বীকার করলেন গাউসিয়ার তৈরি পোশাক বিক্রেতা আবদুল্লাহ। ‘ঈদের আগে আগে সবাই ক্রেতা না ফেরানোর চেষ্টা করে। একটু কম দামে হলেও বিক্রি করে দেয়। অনেকে আবার স্টক ক্লিয়ার করতে ডিসকাউন্টও দেয়’- বললেন তিনি। হকার্স মার্কেটের শাড়ি বিক্রেতা নাজমুল করিম জানালেন, চাঁদরাতে কেনা দামেও বিক্রি করা হয় শাড়ি।

 

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের আড়ংয়ে ঘর সাজানোর পণ্য কিনছিলেন গুলশানের বাসিন্দা তানজিলা। তিনি জানালেন কেনাকাটা বেশিরভাগই শেষ। এখন কেবল শেষ মুহূর্তের টুকিটাকি প্রস্তুতি। ‘শেষ কয়েকদিন মার্কেট ঘুরে কাটাতে বেশ ভালোই লাগে’এমন কথা জানান ধানমন্ডির জেনেটিক প্লাজায় আসা মিম। এত ভিড়ে ঠিকমতো কেনাকাটা করা যায়? ‘ভিড় মানেই উৎসবের আনন্দ। সবাই কিনছে, ঘুরছে। এই উৎসবের আমেজটা যেমন ভালো লাগে, তেমনি ঘোরাঘুরি করতে করতে চোখে পড়ে যায় প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই যেটা কিনা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম কিনতে’ বলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী। জেনেটিক প্লাজা ও সীমান্ত স্কয়ার মার্কেটে চাঁদরাতে মেহেদি উৎসব চলে। এইসব উৎসব ঘুরে মেহেদি লাগাতেও পছন্দ করেন তিনি।

 

গাউসিয়া মার্কেটের সামনে চুলের ব্যান্ড বিক্রি করছিলেন হকার চান মিয়া। তিনি জানালেন শেষ দুইদিন ধরেই বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। বাকি দিনগুলোতেও এমন বিক্রির প্রত্যাশাই করছেন। সীমান্ত স্কয়ারে কেনাকাটা করছিলেন আলতাফ চৌধুরী। তিনি জানান, অফিসের কারণে কেনাকাটার সময় পাননি। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পর তাই এসেছেন ঈদের কেনাকাটা করতে। পরিবারের সবার জন্যই উপহার কিনবেন আগামীকাল পর্যন্ত।

বসুন্ধরা সিটির তৈরি পোশাক বিক্রেতা শমসের বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন। জানালেন, পুরো রমজানে যে ব্যবসা হয়, তার অর্ধেকই হয় সাতাশ রোজার পরে। এ সময় মানুষ কাপড় দেখতে নয়, কিনতে আসেন। ফলে রোজার শেষ সময়টা ব্যবসায়ীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

‘সিএনজি’তে শিমগাছ


চালকের আসনের পাশের জানালা বেয়ে লকলকিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশার ছাদে উঠে গেছে লতা। শিম গাছ একটু দ্রুতই বাড়ে। তাই অল্পদিনের মধ্যেই ঝুপিয়ে যাবে, বোঝাই যাচ্ছে। কিন্তু অটোরিকশায় শিম গাছ কেন? উত্তর এল, ‘খালি শিম গাছ না তো, আরো নয় পদের গাছ আছে।’

যিনি উত্তর দিলেন তিনি এই বাহনটির চালক। নাম মোহাম্মদ জাকির, বাড়ি বরগুনা। বললেন, ‘এই সিএনজির মধ্যে হরিতকি গাছ আছে, পাতাবাহার আছে কয়েক রকমের।’

চালকের আসন থেকে নামতেই দেখা গেলো এক চুলও বাড়িয়ে বলেননি জাকির। তার বসার দুই পাশে নানা রকম গাছ লাগানো। প্লাস্টিকের বোতলের ভেতর পানি দিয়ে পাতাবাহার, ডান পাশের জানালার সাথে প্লাস্টিকের ছোট বড় আরো বেশ কিছু বোতল দিয়ে টব বানানো। তাতেও চারা গাছ আছে বেশ কয়েকটি।

তাইবলে অটোরিকশায় গাছ? তাও আবার ১০ জাতের? কেন? প্রকৃতি যে কারো কারো উপর ভর করে তার প্রমাণ মোহাম্মদ জাকির। গাছের প্রতি তার ভালোবাসা রীতিমত পাগলামির পর্যায়ে চলে গেছে।

 

মোহাম্মদ জাকির জানালেন গাছের প্রতি ভালোবাসা তার আজীবনের। সেই ভালোবাসার টানে নার্সারি করেছিলেন তিনি। সেটাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। তবে গাছের প্রতি তার ভালোবাসা যতটা, ক্রেতাদের ততটা না। ব্যবসায় লাভ হতো না তেমন।

সংসার চালানোর তাগিদে বিকল্প খুজতে হলো তাকে। ঢাকায় এসে অটোরিকশা চালানো শিখলেন। এখন ভাড়া নিয়ে চালান। কিন্তু গাছের প্রতি তার ভালোবাসা কমেনি একটুও। আর সেই ভালোবাসা থেকেই অটোরিকশায় সাজিয়েছেন গাছে গাছে।

ভেতরেই থাকে বোতল ভরা পানি। মাঝে মাঝে অটো থামিয়ে জিড়িয়ে নেয়ার ফাঁকে গাছে পানিও দিয়ে দেন। গাছের পাতায় লেগে থাকা ধুলো মুছে দেন। রাস্তার লোকজন ভিড় করে দেখে এই গাছপাগলা অটোচালকের কাণ্ড।

গাড়ি জোরে টানলে গাছ নষ্ট হয় না?- জানতে চাইলে জাকির বললেন, ‘নাহ, গাছের একটা পাতাও পড়ে না। দেখেন না কি সুন্দর বড় হইছে। ছাদে তার দিয়া মাচা বানায়া দিছি।’

 

-মালিক কিছু বলে না?

-কয় না আবার? কইছে আমার সিএনজির ছাদ নষ্ট কইরা ফালাইতেছো তুমি।

-আপনি কী বলেন?

-আমি কইছি ছাদ নষ্ট হইলে আমি সারায় দিমু। তবু গাছ ফালামু না।’

বৃক্ষ নিধনের যুগে মোহাম্মদ জমিররা উহাদরণই বটে।

আসবেন ঘুরবেন কিন্তু ছবি তুলতে পারবেন না


ফিচার ডেস্ক: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখলে চোখ ফেরানো মুশকিল। সুইজারল্যান্ডের বেরগানে গেলে মনে হবে যেন স্বর্গরাজ্যে চলে এসেছেন। কিন্তু এ অভূতপূর্ব দৃশ্যের ছবি আপনাকে নিজের স্মৃতিতেই ধরে রাখতে হবে। কারণ এখানে গিয়ে ছবি তোলার কোনো উপায় নেই।

‘বেরগান’-এ ছবি তোলা নিষিদ্ধ। ফেসবুক ডিপি তো নয়ই। কোনো সেলফিও তোলার সুযোগ পাবেন না। কিন্তু নিষিদ্ধ হওয়ার কারণটি অদ্ভুত। বেরগান এতই সুন্দর যে, এর ছবি তুলে অন্য কাউকে দেখালে সেই ব্যক্তির আপনার ওপর খুব হিংসা হবে। এমনই কারণ দেখিয়ে ছবি তোলা নিষিদ্ধ হয়েছে বেরগানে। switzerland05
বেরহগানে প্রবেশের মুখে তাই পর্যটকদের উদ্দেশে লেখা, ‘আমাদের এখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ছবি তোলা এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে অন্যকে অসুখী করার কারণ হবে কারণ তারা নিজেরা এখানে আসতে পারছেন না।’

বেরগানের বাসিন্দারাও এ সিদ্ধান্তের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। তারাও চান, ফোন বা ক্যামেরার মাধ্যমে নয়, নিজের চোখে পর্যটকরা বেরগানের রূপকথার মতো সৌন্দর্য উপভোগ করুক।

যদিও পর্যটকরা এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণেই আরও বেশি পর্যটক আসা শুরু করেছেন রূপকথার এ রাজ্যে।
সূত্র: জাগোনিউজ

ঘরে তৈরি করুন ফ্লাওয়ার ভাস


ফিচার ডেস্ক: ফুল তো এমনিতেই সুন্দর। আর এই সুন্দর জিনিসটিকে সুন্দর একটি পাত্রে রাখলে সৌন্দর্য আরো বেড়ে যাবে। বাড়বে ঘরের সৌন্দর্যও। তাই চাইলে আপনি আপনার মনের মতোই করে বানিয়ে নিতে পারেন ফ্লাওয়ার ভাস। যদি বানাতে না জানেন তাহলে জেনে নিন ফ্লাওয়ার ভাস বানানোর সহজ পদ্ধতি-

যা প্রয়োজন
১. একটি কাঁচের বোতল
২. কাঁচি
৩. রং-বেরঙের দড়ি
৪. সাদা রং
৫. এক টুকরা লেইস
৬. আঠা

কীভাবে বানাবেন
vaasপ্রথমেই বোতলের গায়ে কিছু আঠা লাগিয়ে যেকোন রঙের রশি দিয়ে প্যাঁচাতে শুরু করুন। কিছুক্ষণ প্যাঁচানোর পর রশিটি কেটে শেষপ্রান্তে আঠা লাগিয়ে আটকে নিন। এরপর অন্য রঙের রশি নিয়ে আবার বোতলে আঠা লাগিয়ে রশিটা আগের মতই পেঁচিয়ে নিন। এর পরের সব রশিই আগের মত লাগিয়ে নিন। কোন রঙের রশি লাগাতে চান বা কতটুকু লাগাতে চান সেটা পছন্দ অনুযায়ী করে নিতে পারেন। তবে সব রশির শেষপ্রান্ত যেন পেছনে থাকে।
vaasএছাড়া অন্য পদ্ধতিতেও বানাতে পারেন। দ্বিতীয় নিয়মটি হচ্ছে- প্রথমে বোতলটি ভালোভাবে পরিষ্কার করে এর বাইরে ব্রাশ দিয়ে রঙ করে নিন পুরোটা। প্রথম লেয়ার দেয়ার পর একটু শুকালে আরো ২ লেয়ার করে রং করুন। এবার সাদা রঙের একটি লেইস নিয়ে বোতলের চারপাশে আঠা দিয়ে লাগিয়ে এর উপর আরেকবার রং লাগিয়ে নিন। রং ভালোভাবে শুকানোর জন্য সময় দিন।
সূত্র: জাগো নিউজ