পরিবেশ এর উপর জলবায়ুর প্রভাব ও আমাদের করণীয়


পরিবেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আজ একটি বহুল আলোচিত বিষয়। এটা ঠিক যে, বিশ্ব ব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তেনের পিছনে যেমন প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে তেমনি রয়েছে মানব সৃষ্ট কারণ। বরং মানব সৃষ্ট কারণই এখন মূখ্য ভূমিকা পালন করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বাতাস, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, বৃষ্টিপাতের সময় ইত্যাদি নানাবিধ বিষয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠে তার প্রভাব পড়ছে। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে সাথে মেরু অঞ্চলের হিমবাহের আয়তনেরও হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের জীবন যাপন থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রায় সব কিছুতেই এর প্রভাব প্রভাবক হিসাবে কাজ করে। এই পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষ করে বাংলাদেশ কিংবা মালদ্বীপের মতো দেশগুলোর আবহাওয়ার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে সব চাইতে বেশী। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সহ ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র গুলো সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক সমুদ্র গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে। বাংলাদেশের মোট আয়তনের ৩২ শতাংশ উপকূলীয় এলাকা আর ঐ সব এলাকায় বসবাস করে মোট জনসংখ্যার ২৭ শতাংশ। ধারনা করা যায় সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা যদি ১ মিটার বৃদ্ধি পায় তাহলে ২০৫০ সাল নাগাদ দেশের মোট ভুমির ১৮% ডুবে যাবে। ফলে প্রায় ১১% শতাংশ উপকূলবাসী সহায় সম্বলহীন হয়ে উদ্বাস্তু হবে। তাদের জীবন-জীবিকা হুমকীর মুখে পড়বে। সুস্বাস্থ্যের প্রধান নিয়ামক নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনের অভাবে জন গোষ্ঠীর স্বাস্থ্য তথা জীবন চক্রকেও চরমভাবে বিপর্যস্ত করে ফেলবে।

আজকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৪ উদযাপনের প্রারম্ভে আমাদের জিজ্ঞাসা, কেন এই বিপর্যয় এবং এ জন্য কারা দায়ী? সমস্যার সমাধান খুঁজতে হলে এবং আমাদের করণীয় নির্ধারন করতে হলে এই সব বিষয়কে বিবেচনায় এনে বিশ্লেষণ করে আমাদের করণীয় নির্ধারন করতে হবে। বিশেষ করে অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইউরোপে শিল্প বিপ্লব- এর পর এবং পৃথিবীর অন্যান্য ধনী দেশগুলোতে বড় বড় শিল্প স্থাপনের পরে কাঠ ও জীবাশ্ম জ্বালানীর ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত মাত্রায় কার্বন (কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন) নির্গমণ হচ্ছে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ হচ্ছে, এই কার্বন নিঃসরণ। এর প্রতিক্রিয়ার ভূমন্ডল উত্তপ্ত হচ্ছে- উষ্ণতা বাড়ছে। বরফ গলছে, উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে পর্বতের চূড়ায়। এই বরফ গলা পানি সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। মোট কথা পৃথিবীর ধনী দেশগুলো যেমন, আমেরিকা, ব্রিটেন, ইটালী, কানাডা, ফ্রান্স, জাপান, জার্মানী, রাশিয়া যারা জি-৮ গোষ্ঠীভূক্ত অপরদিকে চীন, ব্রাজিল ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশও রয়েছে যাদের কারণে বায়ু মন্ডলে অনবরত কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে এবং “গ্রীন হাউস এফেক্ট” সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন
১৯৭৯ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্রথম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ১৯৮০ সালে অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনাতে। ১৯৮৫ সালে আবার ভিয়েনাতে। ইতিমধ্যে এই ধারণাটি বিশ্বময় ছড়িয়ে গেছে-ক্লোরোফ্লোরো কার্বনের মত গ্যাস গুলো নির্গমণে ওজন স্তরের ক্ষতি হচ্ছে। এরই আলোকে ১৯৮৭ সালে উন্নত দেশের প্রতিনিধিরা কানাডার মন্ট্রিলে মিলিত হয়। ওজন স্তরের ক্ষতি ও দুরাবস্থার বিষয়টি সম্পর্কে একটি খসড়া চুক্তি পত্র তৈরী হয়। তারপর “গ্লোবাল ওয়ার্মিং” নিয়ে ব্রাজিলের রিওডিজেনেরোতে ১৯৯২ সালের জুন ৩ থেকে জুন ১৪ পর্যন্ত সময়ে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক এই জলবায়ু সম্মেলন। এই সম্মেলনে অংশ গ্রহণকারী দেশগুলো স্পষ্টতঃ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় যে, বিপদ আসন্ন। ২০০৫ সালের মধ্যে গ্রীন হাউস গ্যাস এর পরিমান ২০ শতাংশ কমাতে হবে। কাঠ ও কয়লার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
১৯৮০ এর দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকবার এসিড বৃষ্টি হওয়ার পর সালফার ডাই অক্সাইড নির্গমণ কমানোর উদ্দেশ্যে ১৯৯০ সালে আইন করে নির্গমণের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারন করে দেয়া হয়েছিল। এটাকে বলা হতো (ঈঅচ) নিয়ন্ত্রিত সীসা। ১৯৯৭ সালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আলগোর এর প্রভাব ও কর্তৃত্বে জলবায়ু পরিবর্তনকে মুক্তবাজার অর্থনীতির সাথে খাপ খাওয়ানোর উপযোগী করা হয়। ১৯৯৭ সালের ১ ডিসেম্বর জাপানের কিয়াটো শহরে ১৪৯টি দেশের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে “কিয়াটো প্রটোকলে” কার্বন বাণিজ্যের চারটি দ্বার উন্মোচিত হয়।

১. নির্বনায়ন ও বন উজার বন্ধ করে কার্বন নির্গমণ কমানো (Reducing emissions from deforestation and forest degradation/ REDD)
২. ভুমি ব্যবহার, ভুমি ব্যবহারের পরিবর্তন ও বনায়ন(Land use,Land use change and forestry/LULUCF)
৩. পরিচ্ছন্ন উন্নয়ন পদ্ধতি(Clean devolopment mechanism/CDM)
৪. কার্বন খেসারতি(Carbon offset)

 

এই গুলোর মোদ্দা কথা হচ্ছে ঃ
(ক) কার্বন উৎপাদনকারী দেশ কার্বন নির্গমণ কমাবে না তবে কার্বন নির্গমণ কমানোর জন্য বিভিন্ন দেশকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে;
(খ) কৃষি বনায়ন বৃদ্ধি ও নির্বনায়ন কমানোর মধ্য দিয়ে গ্রীন হাউস গ্যাস হ্রাস;
(গ) কম কার্বন নির্গমণ প্রযুক্তি গরীব, স্বল্পোন্নত ও এফেক্টেড দেশ গুলোতে দেয়া;
(ঘ) কম কার্বন নির্গমণ কাজে আর্থিক সহায়তা দান ।

যদিও “কিয়াটো প্রটোকল” প্রস্তাবকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাচ্ছিল্য করেছিলো এবং তার প্রেক্ষিতে বিশ্বময় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল তবু আলোচনা চলতে থাকলো। ২০০১ সালে মরক্কোতে, ২০০২ সালে জোহান্সবার্গে, ২০০২ সালের নভেম্বরে দিল্লীতে, ২০০৪ সালে বুয়েন্স আয়ার্সে এবং ২০০৭ সালেও আইপিসিসি চার চারটি সম্মেলন করে। ১৭ বছর লাগাতার কাজ করার পর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ আইপিসিসি-কে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় এ যাবতকালে নানাবিধ তহবিল গঠিত হয়েছে। পৃথিবীর দরিদ্র ও ভুক্তভোগী দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য ( মুলত ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া এবং অভিযোজন করার জন্য) প্রধানত তিনটি তহবিল গঠন করা হয়েছে UNFCC এর অধীনে।

 

ক্স অভিযোজন তহবিল (Adaptation Fund )
ক্স স্বল্পোন্নত দেশ তহবিল (Least devoloped countries fund)
ক্স বিশেষ জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল(Special climate change fund )

মুলত এই তহবিল গুলোর অর্থের উৎস ধনী দেশগুলো এবং এই অর্থ তাদের জন্য যারা জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের জলবায়ুর পরিবর্তন দৃশ্যমান। সমূদ্র পৃষ্ঠ-স্ফীত হওয়ায় অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খড়া, লবনাক্ততা বৃদ্ধি, বন্যা, আকষ্মিক বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, মরুকরণ, সুপেয় পানির অভাব, মৎস্য সম্পদ হ্রাস, জীবজন্তু- প্রাণী ও পাখির অবলুপ্তি, নদীর তলদেশ, হাওড়-বাওড়, খাল-বিল এর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় দুর্যোগের মাত্রা অস্বাভাবিক ভাবেই বেড়ে গেছে। ১৯৮৮ সালে “Inter governmental panel on climate change” -সংক্ষেপে IPCC এর ভবিষ্যৎ বাণী ছিলো , প্রতি দশকে পৃথিবীর তাপমাত্রা ০.২ থেকে ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৩ থেকে ১০ সে.মি. পর্যন্ত। কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমান দ্বিগুন হলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি থেকে ৪.৫ ডিগ্রি বাড়তে পারে। এই ভাবে চলতে থাকলে ২১০০ সালে বায়ু মন্ডলে কর্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমান ৪০ গুন বাড়বে। অবস্থা কি ভয়াবহ হবে তা চিন্তা করতে পারেন? তারপরও আছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি। সাধারন ভাবে সারা দেশ ব্যাপী নিরাপদ পানির সংকট তীব্রতর হচ্ছে। একই সাথে উন্নয়নের নামে পরিবেশ দূষনের মাত্রা প্রতি নিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি ও স্যানিটেশান অধিকার নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য ঝুঁকি শূন্যের কোঠায় আনতে হবে। এ জন্য দরকার জনসচেতনতা আর সকলের সহযোগিতা। গ্রাম বাংলার প্রায় সর্বত্রই উন্নত খাবর পানির সংকট আছে। ভূ-উপরিস্থ পানি সাধারনত এখন আর নিরাপদ নয়, ভূ-গর্ভস্থ পানি এখনো অনেক নিরাপদ যদিও কোথাও কোথাও আর্সেনিক দোষে দুষ্ট, পরিকল্পনা বিহীন ভাবে কৃষি কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারে কারণে পানির স্তর নেমে যাচ্ছে ফলে পানি ব্যবস্থায় সৃষ্টি হচ্ছে নতুন সংকট; জনস্বাস্থ্য হয়ে পড়েছে হুমকীর সম্মুখীন। পানীয়জল দূষিত হওয়ার কারণে গ্রাম গঞ্জের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে অর্থাৎ ডাইরিয়া, টাইফয়েড ও আমাশয়ে। অপরদিকে বিশুদ্ধ পানির অন্যতম সহজলভ্য উপায় হচ্ছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষন। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে তা করা হয়। অতি সম্প্রতি অষ্ট্রেলিয়া যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে দেখেছি এমন ভাবে বাড়ি ঘর দালান-কোঠা তৈরি করা হয় যেখানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষিত ট্যাংকীতে গিয়ে জমা হয় এবং এভাবেই তারা বৃষ্টির পানি কাজে লাগায়।

উদ্ভূত সংকট উত্তরণে আমাদের করণীয়ঃ

 

১. বনায়ন ও সামাজিক বনায়ন সৃষ্টি করা ।

 

২. পানি সম্পদ প্রকল্পকে যতটা সম্ভব বহুমূখী প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পনা করা ও বাস্তবায়ন।

 

৩. ভূ-উপরিস্থ পানির দূষন রোধ করে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যবহার ও পানীয়জলের চাহিদা পূরণ ।

 

৪. বৃষ্টির পানি সংরক্ষনের ব্যবস্থা চালু ।

 

৫. ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহারে সর্তকতা, গুনমানের পরিবর্তনের পরিবীক্ষণ ।

 

৬. পয়:নিষ্কাশন ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করণ, ময়লা পানি ও আবর্জনা পরিশোধন।

 

৭. মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন ।

 

৮. বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র সংরক্ষন।

 

৯. প্রাকৃতিক জলাশয় নদী-নালা ভরাট না করে পানি প্রবাহ অক্ষুন্ন রাখা।

 

১০. চলাচলের অযোগ্য নৌপথ সচল রাখা ও পানি দূষন রোধ করা ।

 

১১. পর্যটন সংক্রান্ত সুবিধাদির উন্নয়ন করে জলাশয় হ্রদ, বিল, হাওড়/বাওড়, দিঘী, সমুদ্র সৈকত ইত্যাদি স্থানে বিনোদন সুবিধা রাখা ।

 

১২. অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক এবং পরিবেশগত দিক থেকে নিরাপদ বিবেচিত হলে “ক্ষুদ্র পানি বিদ্যুৎ উন্নয়য়ন প্রকল্প” গ্রহন ।

 

১৩. প্রাকৃতিক পরিবেশের “ক্ষয়রোধ ও সংরক্ষন” টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য তাই আর্দ্র ভূমি, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও বনাঞ্চলের উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষন।

 

১৪. উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে লাগসই প্রযুক্তি নির্বাচন ও প্রয়োগ ।

 

১৫. জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য এবং পদ্ধতি সম্পর্কে বিষয়বিশেষজ্ঞ, পরিকল্পনাবিদ, রাজনীতিবিদ ও জনগনের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা ।

 

১৬. বন্যা নিয়ন্ত্রন ও ব্যবস্থাপনায় ঐক্যমত্য সৃষ্টি ও স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহন ।

 

১৭. পানি সম্পদে মালিকানা স্বত্ত্বের উন্নয়ন, বন্টন, ব্যবহার, সংরক্ষন, ক্ষয়রোধ সংক্রান্ত আইন সংশোধন ইত্যাদি ।

 

 

এ তালিকা আর দীর্ঘ করতে চাইনা । মুলত দরকার পরিবেশ বান্ধব কার্যক্রম গ্রহন ও বাস্তবায়ন যার কোন বিকল্প নেই।
এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- “Raise your voice , not the sea level ”

অর্থাৎ “ হতে হবে সোচ্চার সমুদ্রের উচ্চতা বাড়াবো না আর।”

 

 

অধ্যাপক মির্জা মহীউদ্দিন আহমেদ

 

 

তথ্যসূত্র
১. পুঁজিবাদী বিশ্ব সভ্যতা ও জলবায়ু
-ম. আব্দুর রহমান রানা
২. পরিবেশ সংরক্ষনে উপকূলীয় বনায়নের ভুমিকা
-ড. মোহাম্মদ কামাল হোসাইন
৩. কার্বন বানিজ্য: প্রাকৃতিক সম্পদ দখলে নিতে নুতন বাণিজ্য রাজনীতি
-গৌরাঙ্গ নন্দী ও হাসান মেহেদী
৪. মাসিক পরিবেশ ও প্রতিবেশ-এ প্রকাশিত আইন নীতি কৌশল: জাতীয় পানি নীতি
৫. বিদগ্ধ জনের সাথে আলোচনা ও পত্র পত্রিকা।

গাছের পাতায় নিকেল


নিউ ক্যালিডোনিয়া দ্বীপপুঞ্জে এমন সব গাছপালা আছে, যারা মাটি থেকে নিকেল শুষে পাতায় জমা করতে পারে৷ এখন নিকেলের খনির ‘ক্ষত’ বা কলঙ্ক সারানোর চেষ্টা চলেছে ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছের চাষ করে৷

সুদূর নিউ ক্যালিডোনিয়া দ্বীপপুঞ্জে সম্পূর্ণ অন্য ধরনের এক উদ্ভিদ জগৎ গড়ে উঠেছে৷ এখানে যা কিছু জন্মায়, তার সব কিছু এখানকার, বিশ্বের অন্যত্র তা পাওয়া যাবে না৷

মুখ্য দ্বীপটির নাম ‘গ্রঁদ ত্যার’৷ পরিবেশবিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফ্যান ডের এন্ট এখানকার কিছু উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করছেন, যাদের আশ্চর্য সব বৈশিষ্ট্য আছে৷ অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টনি ফ্যান ডের এন্ট বলেন, ‘‘এটা হলো একটা বড় ‘পিকেনান্দ্রা আকুমিনাতে’, এর নীল-সবুজ কষের ২৫ শতাংশই হল নিকেল৷ কষে যে সবুজ রঙটা দেখা যায়, সেটাই হলো নিকেল৷ এটা হল মানুষের চেনা সবচেয়ে আশ্চর্য জৈবিক তরল পদার্থ৷ সত্যিই অসাধারণ যে, একটি জীবন্ত, সজীব গাছের কষে এই পরিমাণ ধাতু থাকতে পারে৷’’

নিকেল সাধারণত উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর পক্ষে অত্যন্ত বিষাক্ত, এমনকি মানুষের পক্ষেও৷ কাজেই এ ধরনের কোনো গাছের বেঁচে থাকারই কথা নয়৷ অথচ পিকেনান্দ্রা ছাড়া এখানকার অন্যান্য গাছেও নিকেল আছে৷ এই গাছগুলো মাটি থেকে সরাসরি নিকেল শুষে নেয় ও তাদের কোষে তা জমা করে৷ ফ্যান ডের এন্ট এই সব গাছেদের ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ বলেন ও তাদের নমুনা তরল নাইট্রোজেনে ধরে রেখে পরে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করেন৷

‘পাতায় কতটা নিকেল আছে’
ফ্যান ডের এন্ট জানালেন, ‘‘আমরা পর্যায়ক্রমে নিউ ক্যালেডোনিয়ার সর্বত্র সংগৃহীত বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা পরীক্ষা করে দেখি, তাদের পাতায় কতটা নিকেল আছে৷ এভাবে আমরা তাদের শনাক্ত ও সংগ্রহ করে, পরে ওই ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছের চাষ করে ফসল ঘরে তুলতে পারি৷ ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছপালা নিয়ে গবেষণা করার জন্য নিউ ক্যালিডোনিয়াই সম্ভবত বিশ্বের সেরা জায়গা, কেননা এখানে ৬৫টির বেশি প্রজাতির ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ উদ্ভিদ পাওয়া যায়৷’’

এই গাছগুলো এখানে গজাতে পেরেছে দ্বীপটির ভূতাত্ত্বিক উপাদানের কারণে৷ এখানকার মাটিতে এত নিকেল ও অন্যান্য ধাতু আছে যে, অধিকাংশ গাছপালা এখানে বাড়তে পারে না৷ কিন্তু ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’-রা ভালোই থাকে৷

নিকেলের রীতিনীতি
নিউ ক্যালিডোনিয়ার মাটি এমনই নিকেল-সমৃদ্ধ যে, নিকেলের খনি হলো নিউ ক্যালিডোনিয়ার অর্থনীতির একটা বড় অংশ৷ এর ফলে দ্বীপপুঞ্জটির নৈসর্গিক দৃশ্য যেন নানা প্রকাশ্য ক্ষতে ভরা৷

মাইনিং কোম্পানিগুলো বিভিন্ন পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে৷ এই সব কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিশেষ বিশেষ ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’-এর সাহায্যে খনির চারপাশের জমির নবায়ন করা৷

কিন্তু এই বিধ্বস্ত এলাকায় এই জাদুকরি গাছপালাগুলোও দাঁত ফোটাতে কষ্ট পায়৷ মাটিতে এত লোহা আর নিকেল আছে যে, এই মাটি পাথরের মতো শক্ত৷ গাছ লাগানোর জন্য কর্মীরা স্পেশাল ড্রিল দিয়ে মাটিতে গর্ত করেন৷

নিউ ক্যালিডোনিয়ার বৃহত্তম খনিতে ওপেনকাস্ট বা খোলা খনি পদ্ধতিতে আকর সংগ্রহ করা হয়, যার অর্থ, ক্ষেত্রবিশেষে গোটা পাহাড় কেটে খনির কাজ চলে৷ পড়ে থাকে বিষাক্ত হেভি মেটালের ভাঙাচোরা স্তূপ৷ গবেষকরা এই খনিতে একটি চমকপ্রদ পরীক্ষা চালাচ্ছেন: তারা এখানে ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছপালা লাগানোর পরিকল্পনা করছেন – শুধু মাটিকে বিষমুক্ত করার জন্যই নয়, বরং তাদের পাতা সংগ্রহ করে তা থেকে নিকেল বের করার জন্যে৷

খনি বর্জ্যের উপর ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছের চাষ
ফ্যান ডের এন্ট বললেন, ‘‘আমি এখানে নিউ ক্যালিডোনিয়ান অ্যাগ্রোনমিক ইনস্টিটিউটের ব্রুনো ফোলিয়ানির সাথে কাজ করছি, যিনি খনি বর্জ্যের উপর নিকেল ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ বসানোর এই পরীক্ষার আয়োজন করেছেন৷ আমরা খনি বর্জ্য ফেলার একটা জায়গার উপর দাঁড়িয়ে রয়েছি – দেখছেনই তো, গাছপালাগুলো ভালোই বাড়ছে৷’’

ফোলিয়ানি জানালেন, ‘‘এই গাছটি নিকেল সংগ্রহ করে৷ এর পাতায় যে নিকেল আছে, আমরা সে বিষয়ে আগ্রহী৷ অর্থনৈতিক বিচারে পোষাতে গেলে, আমাদের সর্বোচ্চ পরিমাণ ‘বায়োমাস’ সংগ্রহের পন্থা বার করতে হবে৷ আমরা একাধিক ধরনের সার ব্যবহার করছি, অন্যান্য গাছপালার সঙ্গে ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছের চাষ করার চেষ্টা করছি৷ শুধু এই একটি প্রজাতি নয়, বরং সব ধরনের গাছ লাগালে প্রকৃতি বাকিটা করে দেয়, প্রাকৃতিকভাবেই সারিয়ে দেয়৷’’

এই প্রযুক্তিকে বলে ‘ফাইটোমাইনিং’, অর্থাৎ গাছপালা ব্যবহার করে খনির কাজ৷ এটা যদি কার্যকরি হয়, তাহলে মাইনিং কোম্পানিগুলো সম্ভবত এই ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছপালায় বিনিয়োগ করতে রাজি হবে – লাভের জন্যও বটে আবার তারা পরিবেশের যে ক্ষতি করেছে, তার কিছুটা পূরণ করার জন্যও বটে৷ কিন্তু ফাইটোমাইনিং প্রথাগত মাইনিং-এর বিকল্প হয়ে দাঁড়াতে পারবে না, কারণ ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছগুলো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিকেল পাওয়া যায় না৷

যার অর্থ, নিকেল মাইনিং-এর ধ্বংসলীলা আরো কিছুদিন ধরে চলবে৷ মাইনিং কোম্পানিগুলো মাটি খুঁড়ে ও পাথরের স্তর সরিয়ে আকরিক নিকেল বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে৷ কিন্তু নিকেল শুষে নেয়া ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছগুলোর কল্যাণে পরিবেশের ক্ষতি অন্তত কিছুটা লাঘব হবে৷

প্রকৃতিকে সবুজ-শ্যামলে ভরিয়ে দিতে কাজ করছে সরকার : পরিবেশমন্ত্রী


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি বলেছেন, দেশের প্রকৃতিকে সবুজ-শ্যামলে ভরিয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার।তিনি বলেন, জনগণের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে এ বছরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২১-এর প্রতিপাদ্য মুজিববর্ষে অঙ্গীকার করি, সোনার বাংলা সবুজ করি নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দেশকে আমরা সবুজে-শ্যামলে ভরে দিতে সক্ষম হব।মো. শাহাব উদ্দিন আজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২১ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২১ উদযাপনের প্রাক-প্রস্তুতিমূলক এক আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ পরিবেশ উন্নয়নে দেশের সর্বত্র ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে।তিনি বলেন, এই বৃক্ষরোপণ অভিযান গতিশীল রাখার জন্য জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন এবং পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন ২০২০, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ও জাতীয় পরিবেশ পদক ২০১৯ ও ২০২০ প্রদান সহ সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে চেক বিতরণ করা হবে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত সচিব ( উন্নয়ন) আহমদ শামীম আল রাজী, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) মো. মনিরুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. একেএম রফিক আহাম্মদ, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শকুন সংরক্ষণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে : পরিবেশ মন্ত্রী


প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী বি’লু’প্তপ্রায় প্রজাতি শ’কু’ন সংরক্ষণে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনতিনি আজ শনিবার তার সরকারি বাস ভবন থেকে আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বন অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী শ’কু’নের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দিন দিন উপকারী এই পাখিটি প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বি’লু’প্তপ্রায় এই শকুনকে বাঁচাতে গণসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার শকুন সংরক্ষণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, নানা কারণে ৯৯ শতাংশ শকুন বিলুপ্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে মাত্র ২৬০টি শকুন রয়েছে। তাই সরকার শ’কু’নের সংখ্যা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। এ সময় তিনি শকুন সংরক্ষণ ও প্রজাতিটি সংখ্যা বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি,মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. মো. বিল্লাল হোসেন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু ও গ্লোবাল থ্রেটেন্ড স্পিসিজ অফিসার ও রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রটেকশন অব দ্য বার্ডসর প্রোগ্রাম ম্যানেজার ক্রিস বাইডেন।

গাছের পাতায় নিকেল


নিউ ক্যালিডোনিয়া দ্বীপপুঞ্জে এমন সব গাছপালা আছে, যারা মাটি থেকে নিকেল শুষে পাতায় জমা করতে পারে৷ এখন নিকেলের খনির ‘ক্ষত’ বা কলঙ্ক সারানোর চেষ্টা চলেছে ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছের চাষ করে৷

সুদূর নিউ ক্যালিডোনিয়া দ্বীপপুঞ্জে সম্পূর্ণ অন্য ধরনের এক উদ্ভিদ জগৎ গড়ে উঠেছে৷ এখানে যা কিছু জন্মায়, তার সব কিছু এখানকার, বিশ্বের অন্যত্র তা পাওয়া যাবে না৷

মুখ্য দ্বীপটির নাম ‘গ্রঁদ ত্যার’৷ পরিবেশবিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফ্যান ডের এন্ট এখানকার কিছু উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করছেন, যাদের আশ্চর্য সব বৈশিষ্ট্য আছে৷ অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্টনি ফ্যান ডের এন্ট বলেন, ‘‘এটা হলো একটা বড় ‘পিকেনান্দ্রা আকুমিনাতে’, এর নীল-সবুজ কষের ২৫ শতাংশই হল নিকেল৷ কষে যে সবুজ রঙটা দেখা যায়, সেটাই হলো নিকেল৷ এটা হল মানুষের চেনা সবচেয়ে আশ্চর্য জৈবিক তরল পদার্থ৷ সত্যিই অসাধারণ যে, একটি জীবন্ত, সজীব গাছের কষে এই পরিমাণ ধাতু থাকতে পারে৷’’

নিকেল সাধারণত উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর পক্ষে অত্যন্ত বিষাক্ত, এমনকি মানুষের পক্ষেও৷ কাজেই এ ধরনের কোনো গাছের বেঁচে থাকারই কথা নয়৷ অথচ পিকেনান্দ্রা ছাড়া এখানকার অন্যান্য গাছেও নিকেল আছে৷ এই গাছগুলো মাটি থেকে সরাসরি নিকেল শুষে নেয় ও তাদের কোষে তা জমা করে৷ ফ্যান ডের এন্ট এই সব গাছেদের ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ বলেন ও তাদের নমুনা তরল নাইট্রোজেনে ধরে রেখে পরে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করেন৷

‘পাতায় কতটা নিকেল আছে’
ফ্যান ডের এন্ট জানালেন, ‘‘আমরা পর্যায়ক্রমে নিউ ক্যালেডোনিয়ার সর্বত্র সংগৃহীত বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা পরীক্ষা করে দেখি, তাদের পাতায় কতটা নিকেল আছে৷ এভাবে আমরা তাদের শনাক্ত ও সংগ্রহ করে, পরে ওই ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছের চাষ করে ফসল ঘরে তুলতে পারি৷ ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছপালা নিয়ে গবেষণা করার জন্য নিউ ক্যালিডোনিয়াই সম্ভবত বিশ্বের সেরা জায়গা, কেননা এখানে ৬৫টির বেশি প্রজাতির ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ উদ্ভিদ পাওয়া যায়৷’’

এই গাছগুলো এখানে গজাতে পেরেছে দ্বীপটির ভূতাত্ত্বিক উপাদানের কারণে৷ এখানকার মাটিতে এত নিকেল ও অন্যান্য ধাতু আছে যে, অধিকাংশ গাছপালা এখানে বাড়তে পারে না৷ কিন্তু ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’-রা ভালোই থাকে৷

নিকেলের রীতিনীতি
নিউ ক্যালিডোনিয়ার মাটি এমনই নিকেল-সমৃদ্ধ যে, নিকেলের খনি হলো নিউ ক্যালিডোনিয়ার অর্থনীতির একটা বড় অংশ৷ এর ফলে দ্বীপপুঞ্জটির নৈসর্গিক দৃশ্য যেন নানা প্রকাশ্য ক্ষতে ভরা৷

মাইনিং কোম্পানিগুলো বিভিন্ন পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে৷ এই সব কর্মসূচির উদ্দেশ্য বিশেষ বিশেষ ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’-এর সাহায্যে খনির চারপাশের জমির নবায়ন করা৷

কিন্তু এই বিধ্বস্ত এলাকায় এই জাদুকরি গাছপালাগুলোও দাঁত ফোটাতে কষ্ট পায়৷ মাটিতে এত লোহা আর নিকেল আছে যে, এই মাটি পাথরের মতো শক্ত৷ গাছ লাগানোর জন্য কর্মীরা স্পেশাল ড্রিল দিয়ে মাটিতে গর্ত করেন৷

নিউ ক্যালিডোনিয়ার বৃহত্তম খনিতে ওপেনকাস্ট বা খোলা খনি পদ্ধতিতে আকর সংগ্রহ করা হয়, যার অর্থ, ক্ষেত্রবিশেষে গোটা পাহাড় কেটে খনির কাজ চলে৷ পড়ে থাকে বিষাক্ত হেভি মেটালের ভাঙাচোরা স্তূপ৷ গবেষকরা এই খনিতে একটি চমকপ্রদ পরীক্ষা চালাচ্ছেন: তারা এখানে ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছপালা লাগানোর পরিকল্পনা করছেন – শুধু মাটিকে বিষমুক্ত করার জন্যই নয়, বরং তাদের পাতা সংগ্রহ করে তা থেকে নিকেল বের করার জন্যে৷

খনি বর্জ্যের উপর ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছের চাষ
ফ্যান ডের এন্ট বললেন, ‘‘আমি এখানে নিউ ক্যালিডোনিয়ান অ্যাগ্রোনমিক ইনস্টিটিউটের ব্রুনো ফোলিয়ানির সাথে কাজ করছি, যিনি খনি বর্জ্যের উপর নিকেল ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ বসানোর এই পরীক্ষার আয়োজন করেছেন৷ আমরা খনি বর্জ্য ফেলার একটা জায়গার উপর দাঁড়িয়ে রয়েছি – দেখছেনই তো, গাছপালাগুলো ভালোই বাড়ছে৷’’

ফোলিয়ানি জানালেন, ‘‘এই গাছটি নিকেল সংগ্রহ করে৷ এর পাতায় যে নিকেল আছে, আমরা সে বিষয়ে আগ্রহী৷ অর্থনৈতিক বিচারে পোষাতে গেলে, আমাদের সর্বোচ্চ পরিমাণ ‘বায়োমাস’ সংগ্রহের পন্থা বার করতে হবে৷ আমরা একাধিক ধরনের সার ব্যবহার করছি, অন্যান্য গাছপালার সঙ্গে ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছের চাষ করার চেষ্টা করছি৷ শুধু এই একটি প্রজাতি নয়, বরং সব ধরনের গাছ লাগালে প্রকৃতি বাকিটা করে দেয়, প্রাকৃতিকভাবেই সারিয়ে দেয়৷’’

এই প্রযুক্তিকে বলে ‘ফাইটোমাইনিং’, অর্থাৎ গাছপালা ব্যবহার করে খনির কাজ৷ এটা যদি কার্যকরি হয়, তাহলে মাইনিং কোম্পানিগুলো সম্ভবত এই ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছপালায় বিনিয়োগ করতে রাজি হবে – লাভের জন্যও বটে আবার তারা পরিবেশের যে ক্ষতি করেছে, তার কিছুটা পূরণ করার জন্যও বটে৷ কিন্তু ফাইটোমাইনিং প্রথাগত মাইনিং-এর বিকল্প হয়ে দাঁড়াতে পারবে না, কারণ ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছগুলো থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিকেল পাওয়া যায় না৷

যার অর্থ, নিকেল মাইনিং-এর ধ্বংসলীলা আরো কিছুদিন ধরে চলবে৷ মাইনিং কোম্পানিগুলো মাটি খুঁড়ে ও পাথরের স্তর সরিয়ে আকরিক নিকেল বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে৷ কিন্তু নিকেল শুষে নেয়া ‘হাইপার-অ্যাকিউমুলেটর’ গাছগুলোর কল্যাণে পরিবেশের ক্ষতি অন্তত কিছুটা লাঘব হবে৷

সূত্র : ডয়চে ভেলে

দেড় হাজার মেডিকেল টিম তৈরী রয়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায়


ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবেলায় ঝড়প্রবণ এলাকার স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই আদেশ বহাল থাকবে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়কালীন উপদ্রুত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সহায়তা দিতে ইতিমধ্যে ১১৬টি উপজেলায় ১ হাজার ৫৭৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ অপারেশন ইমার্জেন্সি সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা জানান, ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকার স্বাস্থ্য বিভাগের সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া দুর্যোগ মোকাবেলায় আটটি নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এগুলো হল- এক. দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের কাজ করতে বলা হয়েছে।

দুই. দুর্গত জেলাগুলোতে ১ হাজার ৫৭৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।তিন. দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত ৪ হাজার ৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে মেডিকেল টিম স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবে।চার. দুর্গত জেলাগুলোতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

পাঁচ. কেন্দ্রীয় ওষুধাগার (সিএমএসডি) এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের ওষুধের মজুদ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুদ রয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সবকিছু দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে।

ছয়. দুর্গত এলাকায় গর্ভকালীন ও জরুরি প্রসূতি সেবার প্রতি বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।সাত. স্বাস্থ্য অধিদফতরে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, অপারেশন প্ল্যানের জরুরি প্রস্তুতি কর্মসূচি সার্বিক বিষয়ে সমন্বয় করছে।

আট. হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং উপদ্রুত জেলাগুলোর কন্ট্রোল রুমগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ১৩ জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শনিবার ও রোববারের ছুটি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো হল- সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা, পিরোজপুর, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, খুলনা, চাঁদপুর, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম।

প্রথমবারের মতো জলবায়ু তহবিলের টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ

২০১০ সালে মেক্সিকোর কানকুনে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) গঠনের আট বছর পর অবশেষে এই তহবিল থেকে প্রথমবারের মতো টাকা পেতে চলেছে বাংলাদেশ। জলবায়ুসহিষ্ণু অবকাঠামো নির্মাণে চার কোটি ডলার বা ৩২০ কোটি টাকা অনুদান পাবে সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার জার্মান সংস্থা কেএফডাব্লিউর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করল সরকার। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম। আর কে এফ ডাব্লিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য (এশিয়া ও ইউরোপ) রোলান্ড সিলার সই করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবুজ জলবায়ু তহবিল থেকে আমরা প্রথম টাকা পেতে চলেছি। জিসিএফ তহবিলের টাকা দিয়ে উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা ও সাতক্ষীরার ২০ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বাংলাদেশ দায়ী নয়। এ জন্য দায়ী উন্নত বিশ্ব। অথচ বাংলাদেশই জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন। ভারত ও চীন সবচেয়ে প্রচুর কার্বন নিঃসরণ করে। তবে আশার কথা হচ্ছে, দেশ দুটি জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়টি বর্তমানে আমলে নিচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপও নিচ্ছে। এর একটা ইতিবাচক প্রভাব এই অঞ্চলে পড়বে বলে আশা করছি।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ইআরডি সচিব জানান, জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ নামের প্রকল্পে এ এই অর্থ ব্যয় হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এর মধ্যে জিসিএফের ৪ কোটি ডলার পাওয়া যাচ্ছে অনুদান হিসেবে। এ ছাড়া জার্মান সরকার অনুদান সহায়তা হিসেবে দিচ্ছে আরো দেড় কোটি ডলার। আর বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করছে ২ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ইআরডি সচিব কাজী শফিকুল আযম বলেন, কে এফ ডাব্লিউ বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নে সংস্থাটি অংশ নিয়ে থাকে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়বে। ভবিষ্যতে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইআরডি সচিব।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার, দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় রাস্তা নির্মাণ, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া আবহাওয়াসংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় তথ্য ও দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতিমূলক তথ্যের জন্য একটি জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো উত্কর্ষ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ছয় বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে এলজিইডি।

ধেয়ে আসছে ভারতের পানি, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট


তিস্তার উজানে ভারতে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের দৌমহনী থেকে পানি ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে।

এ অবস্থায় তিস্তার উজানে ভারতের অংশে ভারতীয় সেচ মন্ত্রণালয় শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। পাশাপাশি তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে বিশেষ সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে তিস্তা অববাহিকার সব ইউপি চেয়ারম্যানের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে তিস্তায় বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তিস্তার উজানে ভারতে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় সব ইউপি চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোনে নদীতে বসবাসরতদের সরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিস্তায় বসবাসরতদের বাঁধসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিস্তার উজানে ভারতের গজলডোবা বাঁধের সব গেট খুলে দেয়ার শনিবার বিকেল থেকে দ্রুত বাড়তে শুরু করে তিস্তার পানি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সব (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি অন্যদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছে তিস্তার পাড়ের বন্যাদুর্গত এলাকার লোকজন। উজানের ঢলের পানি ঘোলা, বিভিন্ন গাছের পাতা ও কচুরিপানা থাকার কারণে এলাকাবাসীর ধারণা উজানে বন্যার পানি আসছে।

তিস্তা নদীর উজানে বসবাস করা পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন ও পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। সেই তিস্তা উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন গ্রামে মাইকিং করে রেড অ্যালার্ট সম্পর্কে বলা হয়েছে।

পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের মিরাজ উদ্দিন বলেন, পানির স্রোতের অবস্থা দেখে বুঝা যায় আশপাশের গ্রামগুলো সব ডুবে যাবে। সেই সঙ্গে বড় ধরনের বন্যা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

পাউবো অফিসে সূত্রে জানা যায়, তিস্তার টানা কয়েকদিনে বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তায় বন্যা দেখা দিয়েছে। তিস্তার ব্যারেজের ৬০ কিলোমিটার উজানে ভারত গজলডোবা বাঁধটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করেন।

গজলডোবা বাঁধটির ৫৪টি গেটের মাধ্যমে উজানে বন্যা হলে সকল গেট খুলে দিলে ধেয়ে আসছে বন্যার পানি ও বাংলাদেশের অংশে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে এলাকায় বন্যা দেখা দেয়।

পাউবো অফিসে সূত্রে আরও জানা যায়, বর্ষার সময় ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হলে গজলডোবার ৫৪টি জল কপাট খুলে দেয়। ফলে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিসামত চরের আবুল কালাম জানান, দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে তিস্তার পানি। ছোটখাতা গ্রামের তফেল উদ্দিন বলেন, বিকেল থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি থেকে মনে হচ্ছে বড় ধরনের বন্যা দেখা দেবে।

ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি শনিবার সকাল ৬টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০) ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নদীর শোঁ শোঁ শব্দ আর গর্জন তিস্তা অববাহিকা কাঁপিয়ে তুলেছে। অপরদিকে বুড়ি তিস্তা নদীটি ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই এলাকায় বাঁধ ভেঙে গেছে।

এছাড়া তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের জলঢাকাস্থ দুন্দিবাড়ির অদূরে দিনাজপুর প্রধান সেচ ক্যানেলের ডানতীরের বাঁধ দুইটির বিভিন্ন স্থানে বিধ্বস্ত হয়েছে।

আন্টার্কটিকায় ভাঙল বিশালাকৃতির হিমশৈল


বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে আন্টার্কটিকায় ভেঙে গেল বিশালাকৃতির একটি হিমশৈল। সোয়ানসি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার থেকে বুধবারের মধ্যে পশ্চিম আন্টার্কটিকার লারসেন সি হিমশৈল থেকে ভেঙে ৫ হাজার ৮০০ স্কোয়ার কিলোমিটার বিস্তৃত এই হিমশৈলটি আলাদা হয়ে যায়। তবে ভেঙে আলাদা হয়ে যাওয়ার আগেও এই হিমশৈলটি সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ছিল।
তাই এখনই সমুদ্রপৃষ্ঠের কোনো বদল হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানা গিয়েছে। তবে ৩৫০ মিটার পুরু এই হিমশৈলটি ভেঙে আলাদা হয়ে যাওয়ায় লারসেন সি’র মোট আয়তনের প্রায় ১২ শতাংশ কমে গেল। আন্টার্কটিকায় প্রায় নিয়মিতভাবে হিমশৈল ভাঙলেও এই হিমশৈলটি আয়তনে বিশাল হওয়ায়, সমুদ্রে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য হিমশৈলটির উপর বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।

সূর্যে ৭৫ হাজার মাইল দীর্ঘ গর্ত, প্রবল সৌরঝড়ের আশঙ্কা


আশঙ্কা ছিলই। এ বার নিশ্চিত করল নাসা। গত সপ্তাহেই সূর্যে বিশালাকার একটি দাগ (স্পট) চিহ্নিত করেছিল নাসার সোলার ডায়ানামিকস অবসারভেটরি। রহস্যের জট খুলতে ওই দাগের উপর নজরদারি আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল নাসা। অবশেষে রহস্যের জট খুলল। নাসার মহাকাশবিজ্ঞানীরা জানালেন, ওই দাগ আসলে সূর্যের গায়ে তৈরি হওয়া প্রায় ৭৫ হাজার মাইল দীর্ঘ একটা গর্ত।
মহাকাশ বিজ্ঞানের ভাষায় এআর ২৬৬৫ বা সূর্যে তৈরি হওয়া গর্তটি এতটাই বড় যে পৃথিবী থেকেও তার দেখা মিলবে বলেই জানিয়েছে নাসা। শুধু রহস্যের জটমুক্তি নয়, একই সঙ্গে আসন্ন বিপদের আশঙ্কাও করেছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। কারণ, সৌরমুলুকে তৈরি হওয়া ওই গর্ত জন্ম দিতে পারে ভয়ানক সৌরঝড়ের, যা পৃথিবীর পক্ষে মোটেও মঙ্গলজনক নয়। এআর ২৬৬৫ থেকে তৈরি হওয়া সৌর বিকিরণ পৃথিবীর চারপাশে প্রদক্ষিণরত যোগাযোগ রক্ষাকারী উপগ্রহগুলিকে তছনছ করে দিতে পারে। সেই সঙ্গে পৃথিবীর অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ ঘাটতি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ৭৫ হাজার মাইল বা ১ লক্ষ ২০ হাজার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে ওই গর্ত। এই ধরনের গর্ত সাধারণত সূর্যের পৃষ্ঠদেশে সৃষ্ট অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকা। এখানকার তাপমাত্রাও অনেক কম। গর্তের ফলে ভয়ানক সৌর ঝড় তৈরি হতে পারে যার প্রভাবে পৃথিবীতে সুমেরু প্রভা দেখা দিতে পারে। নাসা জানিয়েছে, গর্ত থেকে ‘এম ক্লাস’ সোলার ফ্লেয়ার বা শক্তিশালী সৌর বিকিরণ তৈরি হতে পারে যার ফলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পৃথিবীর বেশ কিছু জায়গা ঢেকে যাবে অন্ধকারে। এ ছাড়া রাডার যোগাযোগ ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।