আমড়ার যত গুণাবলী


মৌসুমি ফল খেলে শরীরের সাথে সাথে মনও সুস্থ থাকে। তাই তো এখন বাজারে গেলেই চোখে পড়ে সবুজ রঙের আমড়ার। দামি ফল আপেলের চেয়ে আমড়ায় প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রনের পরিমাণ বেশি। তাই শরীরের জন্য বেছে নিতে পারেন আমড়া। আমড়া খেতে টক-মিষ্টি স্বাদের। এটি কাঁচা খাওয়ার পাশাপাশি সুস্বাদু আচার, চাটনি ও জেলি তৈরি করা যায়। অনেকে তরকারি হিসেবে রান্না করে খান। বহুমুখী উপকারিতার কারণে অনেকেই নিয়ম করে আমড়া খাচ্ছেন। প্রতিদিনের দূষণভরা জীবনে সুস্থ থাকার টোটকা এখন আমড়া।

আমড়া :
আমড়ার ইংরেজি নাম Hog Plum. একপ্রকার ফল যা মাঝারি আকারের পর্ণমোচী বৃক্ষে ফলে। বৈজ্ঞানিক নাম Spondias pinnaata Kurz. বা Spondias mombin, পরিবার: Anacardiaceae। বাংলাদেশ ছাড়াও আফ্রিকা, ভারত, শ্রীলংকা এবং ইন্দোনেশিয়ায় এই গাছটি জন্মে।

আমড়া ব্লাড পিউরিফায়ারের কাজ করে। স্ট্রেসের জাল বিছানো সমাজ জীবনে শরীর সুস্থ রাখাই যেখানে চ্যালেঞ্জ, সেখানে আমড়া থাকতে হবে অবশ্যই।

এই ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি আর ক্যালসিয়াম। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। দামেও সস্তা। গুণে মহার্ঘ। তাই আমড়া খান রোজ। শরীর সুস্থ রাখতে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আমড়ার গুণাবলী-
রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। স্ট্রোক ও হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। চর্বি কমিয়ে হৃত্‍‍পিণ্ডে সঠিক ভাবে রক্ত চলাচলে সাহায্য করে

চিনির পরিমাণ কম থাকায় উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের রোগীরা নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। আমড়ার খোসায় থাকা আঁশ বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে।ভিটামিন ও ক্যালসিয়াম দাঁত ও মাড়ি শক্ত করে। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত, পুঁজ বের হওয়া প্রতিরোধ করে।

আমড়া পিত্ত ও কফ নাশ করে, কণ্ঠস্বর পরিষ্কার রাখে। নিয়মিত আমড়া খেলে চুল, নখ, ত্বক সুন্দর থাকে।অরুচি দূর করে, শরীরের অতিরিক্ত উত্তাপ কমায়। আমড়ায় থাকা অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।এ মৌসুমের দারুণ ফল হিসেবে তাই ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ কিংবা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে আমড়া খেতে পারেন। আমড়ায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। ফলে সহজেই সুস্থ থাকতে পারবেন।

গোলমরিচের উপকারিতা


কয়েকটা গোল গোল কালো দানা। তারমধ্যেই হাজারো গুণ। শরীরে মেদ ঝরাতে কত দৌড়ঝাঁপই না করেন সকলে। জানেন কী গোলমরিচের মধ্যেই রয়েছে সেই আশ্চর্য ক্ষমতা। ক্রনিক  সর্দি-কাশি থেকেও রক্ষা করে গোলমরিচ। এছাড়াও গোলমরিচের হাজারো গুণ। যা এককথায় বলা প্রায় অসম্ভব।

স্যুপ কিম্বা স্যালাড, সবেতেই আছে গোলমরিচ। এর ঝাঁঝালো স্বাদ শরীর এবং মনকে করে তোলে সতেজ।  ছোট্ট এই কালো দানার অসীম গুন।  শরীর নির্মেদ রাখতে গোলমরিচের জুড়ি মেলা ভার।

গোলমরিচের কথা
আদি উত্‍স দক্ষিণ ভারত। গোল মরিচ একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ।

গোলমরিচের পুষ্টিগুণ

গোলমরিচ(১০০ গ্রাম)
ভিটামিন A ও ক্যালসিয়াম
প্রোটিন  ১১.৫ গ্রাম
ফ্যাট ৬.৮ গ্রাম
শর্করা  ৮৯.২গ্রাম
ক্যালসিয়াম ৮৬০ মি.গ্রাম
ফসফরাস ১৯৮ মি. গ্রাম
আয়রন   ১৬.৮ মি.গ্রা
ভিটামিন B ১     ০.০৯ মি.গ্রাম
ভিটামিন B২      ০১.৪মি.গ্রাম

লা জবাব গোলমরিচ
> শরীরের মেদ ঝরাতে সাহায্য করে
> অন্ত্রের হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে হজমে সাহায্য করে
> কফ-ঠান্ডাজনিত সমস্যা দূর করে
> ওজন কমানোর চিকিত্‍সায় ব্যবহার করা হয়
> ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ব্যাহত করে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
> প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা উচ্চচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
> গোলমরিচের তেল ব্যথা,যন্ত্রণা দূর করে
> ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে গোল মরিচ

তাহলে বুঝতেই পারছেন ছোট্ট এই কালো দানার কি জাদু ক্ষমতা। তাই দেরি না করে এখন থেকেই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন গোলমরিচ। যা আপনাকে রাখবে সতেজ,নীরোগ। শরীর হবে নির্মেদ, ঝরঝরে।

শরীর-মন চাঙ্গা রাখতে যা করে মেয়েরা


শরীর ও মনকে চাঙ্গা করার জন্য যোগব্যায়াম অনেক কার্যকরী। এ কার্যকারিতা আরো বাড়াতে এখন অনেকে নগ্ন যোগব্যায়ামে মনোযোগী হচ্ছেন। কেননা অনেক যোগব্যায়াম বিশেষজ্ঞ মনে করেন, নগ্ন হয়ে যোগব্যায়াম করলে দাম্পত্য জীবনে প্রফুল্লতা আসে, শরীরের ওপর আস্থা বাড়ে এবং মানসিক চাপ কমে।

অস্ট্রেলিয়ান যোগব্যায়াম প্রশিক্ষক রোজি রেস ভারতের একটি যোগব্যায়াম কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে প্রথম যোগব্যায়াম প্রচারণা শুরু করেন এবং নিজে নগ্ন যোগব্যায়াম করার মাধ্যমে পরিবারের সবাইকে নগ্ন যোগব্যায়ামে উদ্বুদ্ধ করেন।

প্রশিক্ষক রোজি রেস তার নিজ শহরে একটি নগ্ন যোগব্যায়াম কর্মশালা খুলেছেন এবং তিনি তার চাকরিতে অব্যহতি দিয়ে কাজের পুরো সময় এখন নগ্ন যোগব্যায়ামে ব্যয় করছেন।

প্রশিক্ষক রোজি রেস বলেন, এ পর্যন্ত তিনি শতাধিক নারীকে নগ্ন যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং তার বর্তমান পরিকল্পনা হচ্ছে, এ আইডিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে দেয়া।

প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া একজন তরুণী জানান, ‘যখন আমি প্রথম কাপড় ছাড়া যোগব্যায়ামের চেষ্টা করি তখন আমি আমার শরীরের শরীরের সমস্যা ও ভালো দিকগুলো চিহ্নিত করতে পেরে হতভম্ব হয়ে যাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘নগ্ন যোগব্যায়াম অব্যহত রাখার পর আমি লক্ষ্য করি যে আমার অনেক শারীরিক সমস্যার উন্নতি হচ্ছে। আমি ভালো অনুভব করতে শুরু করলাম।’

প্রতিদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা কি ঠিক?


সকালে ঘুম থেকে উঠা ভাল তা কেনা জানে। সকালে দেরি করে ঘুম থেকে না উঠতে পারায় মার বকা ও মার হাতে কতই না মার খেতে হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠলে শরীর মন দুটিই ভাল থাকে। এমনটাই তো জেনে আসেছি।

কিন্তু প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠা কি সত্যি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। আসলে আমরা সবাই সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারি না। অনেকে সকালে ঘুম থেকে উঠে অভ্যস্থ। তাদের জন্য ভোরে ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যকর। যারা অভ্যস্থ না তাদের নিজেদেরকে জোর করা উচিত নয়। অনেকে হয়তো অবাক হচ্ছেন। কিন্তু কেন উচিত না চলুন জেনে নিই।

এটি আপনার সুখ কমিয়ে দিতে পারে :
এমনটাই জানানেন সারকাডিয়ান নিউরো বিজ্ঞানী রাসেল ফস্টার, কোনও গবেষণায় পাওয়া যায়নি যে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠলে আপনার কর্মক্ষমতা বাড়বে। ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস থাকার অর্থ এই না যে আপনি ধনী হতে পারবেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠা ও দেরীতে উঠার অভ্যাস আপনার আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্ধারণ করে না। গ্যালাপের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে যারা পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে পারেন তারাই সবচেয়ে বেশি সুখী।

এটা আপনার জৈবিক প্রকৃতির বিপরীত :
ঘুমের ডাক্তার নামে পরিচিত মাইকেল ব্রিউস বলেন, আমাদের দেহে সারাদিনের কোন কাজ কখন করবে সে প্রোগ্রাম করে রাখাই আছে। এটা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন। একেক জনের দেহঘড়ি একেক রকম। ব্রিউস চার প্রকার ঘুমের অভ্যাস নিয়ে আলোচনা করেছেন। ডলফিন, সিংহ, ভাল্লুক ও নেকড়ে।

ক. সিংহরা সকালে সূর‌্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম থেকে উঠে।

খ. ভাল্লুকরা রাতে ঘুমায় ও দুপুরে ঘুম থেকে উঠে।

গ. ডলফিনরা কখনও ভালোভাবে ঘুমায় না। যখন সে ঘুমায় তার মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ জেগে থাকে।

ঘ. নেকড়েরা সারারাত জেগে থাকে। তারা সে সময় বেশি কর্মক্ষম থাকে।

আমাদের শরীর নির্ধারণ করে দিনের কোন অংশে আমরা কর্মক্ষম থাকবো। অধিকাংশ মানুষই সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারে না। আপনি যদি সিংহ না হন তাহলে প্রয়োজন নেই সকালে ঘুম থেকে উঠার।

আপনার কর্মক্ষমতা হারাতে পারে :
অস্বাভাবিক সময়ে ঘুম থেকে উঠলে পর্াপ্ত পরিমাণে ঘুম থেকে মানুষ বঞ্চিত হয়। যখন আপনি ক্লান্ত থাকবেন আপনার কর্মক্ষমতা কমবে। সবকিছু আপনার কাছে বিরক্তিকর মনে হবে এবং কাজ করতে ভালো লাগবে না।

ঘুম যদি পরিমাণে কম হয় তবে আপনি নেশায় আসক্ত হয়ে যাবেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা টানা ১৭ থেকে ১৯ ঘন্টা টানা কাজ করে তাদের থেকে যারা পর্যাপ্ত পরিমাণের বিশ্রাম পায় তারা বেশি কাজ করতে পারে।

যাদের ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস রয়েছে তাদের জন্য সে সময়ে ঘুম থেকে উঠা স্বাস্থ্যকর। কিন্তু আপনার যদি এ অভ্যাস না থাকে তাহলে প্রয়োজন নেই সকালে ঘুম থেকে উঠার। এতে আপনার ঘুমের যে চক্র তাতে ব্যাঘাত ঘটে এবং আপনার সুখ কমিয়ে দেয়।

হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখতে আপেল


ছোট-বড় সবার পরিচিত ফল আপেল। নিয়মিত তাজা ও বিষমুক্ত আপেল খাওয়া দারুণ উপকারী। ওজন কমাতে আমাদের চেষ্টার শেষ নেই। আবার মরণব্যাধি ক্যান্সারের কথাও আমরা জানি। ক্যান্সার মানেই তো মৃত্যুর কাছে পৌঁছে যাওয়া। এমনই মরণঘাতী রোগ যে শরীরের রোগাক্রান্ত অংশ কেটে ফেলেও রেহাই নেই। অথচ ক্যান্সার প্রতিরোধেও দারুণ উপকারী আপেল। নিয়মিত আপেল খেলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটা কমে যায়। হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতেও আপেল উপকারী।

সবল হার্টের জন্য: হার্টের জন্য আপেলকে কার্যকারী ওষুধ বলা যায়। তা ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কম রাখতে আপেল যথেষ্ট উপকারী। যারা প্রতিদিন দুটো আপেল খায়, তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা অন্যদের থেকে কম থাকে।

ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধ: ফুসফুস ক্যান্সার প্রতিরোধেও আপেল যথেষ্ট কার্যকরী। যারা বেশি বেশি আপেল খায়, তাদের ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অর্ধেক কমে যায়।

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধক: আপেল ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়ক। এক গবেষণা দেখা যায়, যেসব মহিলা প্রতিদিন একটি করে আপেল খায়, অন্যদের থেকে তাদের এ রোগটি হওয়ার আশঙ্কা ১৭ শতাংশ কমে যায়। আপেলের সংখ্যা যত বাড়বে স্তন ক্যান্সার হওয়ার শঙ্কাও তত কমবে। প্রতিদিন তিনটি আপেল খেলে এ আশঙ্কা ৩৯ শতাংশ কমে যায়। সংখ্যাটা যদি ছয় হয়, তাহলে সেই শঙ্কাটা নেমে আসে ৪৪ শতাংশে।

ওজন কমানো: ওজন কমাতে অনেকেই খাওয়াদাওয়া কমিয়ে দেয়। কিন্তু আপেল তাদের জন্য একটু হলেও স্বস্তির বিষয় হয়ে আসতে পারে। কেননা আপেল ওজন কমানোর লড়াইয়ে দারুণ কার্যকরী। বিশেষ করে যেসব মহিলা ওজন কমাতে চায়, তারা দৈনিক তিনটি আপেল খেলে ডায়েট করার চেয়ে ভালো ফল পাবে।

অ্যাজমা প্রতিরোধে: এক গবেষণায় দেখা যায়, যেসব শিশু প্রতিদিন আপেলের রস খায়, অন্যদের থেকে তাদের এ রোগটি হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। একই গবেষণায় দেখা যায়, যেসব মা সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় আপেল খান সেসব মায়ের সন্তানেরও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

রক্ত পরিস্কার রাখবে যে ৫ খাবার


সুস্থ-সবল থাকতে শরীরের সব অঙ্গ কার্যকর থাকা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে রক্তের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শরীরের প্রতিটি অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করে রক্ত। কিন্তু রক্ত যদি দূষিত হয়ে যায় তাহলে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা শুরু হতে পারে। এতে দুর্বল হয়ে যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। আর এ কারণে রক্ত পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রক্ত পরিষ্কার করার উপায় কী?

কয়েকটি খাবার রয়েছে যেগুলো রক্ত পরিষ্কারে সাহায্য করে। জেনে নিন এমন কয়েকটি খাবার সম্পর্কে-

১. সবুজ শাক-সবজিতে থাকে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ভালো রাখে। এমনকি বিভিন্ন রোগ থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেয়। তাই পরিমাণ মতো সবুজ শাক-সবজি খান। এগুলো লিভারকে দ্রুত কাজ করতে সাহায্য করে। ফলে রক্ত পরিশুদ্ধ হয়।

২. দৈনিক পাতে রাখুন ভিটামিন সি যুক্ত খাবার। লেবু, আমলকি, কমলা ইত্যাদি ফলে থাকা ভিটামিন সি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ভিটামিন সি জাতীয় খাবার রক্তকে পরিষ্কার করতেও সাহায্য করে।

৩. অনেকেরই বদ অভ্যাস আছে পর্যাপ্ত পানি পান না করার। তবে পানির চেয়ে ভালো রক্ত পরিষ্কার করার মতো উপাদান খুঁজে পাওয়া কিন্তু খুবই কঠিন। পানি কিডনিতে পৌঁছে গিয়ে তৈরি হয়ে মূত্র, আর মূত্রের মাধ্যমে কিডনি রক্তের মধ্যে থাকা দূষিত পদার্থ বের করে দেয়।

৪. চিনির বদলে মিষ্টির বিকল্প হিসেবে গুড় খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে থাকে পর্যাপ্ত আয়রন। এই উপাদান আবার রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে পারে। ফলে রক্ত স্বল্পতার সমস্যা কমে।

৫. হলুদে আছে অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্য। তাই খাদ্যতালিকায় অবশ্যই হলুদ রাখুন। এটি খেলে শরীর থেকে নানা ধরনের খারাপ পদার্থ বেরিয়ে যায়।

সজনে পাতার গুণ


আমরা অনেকেই সজনে খাই সবজি হিসেবে। কিন্তু এখনো অনেকেই জানেন না যে, সজনের সাথে সাথে সজনে পাতাও খাওয়া যায়। সেই এই সজনে পাতার আছে বহু রকমের ব্যবহার।সজনে পাতার গুণাগুণ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক

বার্মিজ চিকিৎসকদের মতে সজনের পাকা পাতার টাটকা রস দু’বেলা খাবাবের ঠিক আগে ২-৩ চা চামচ করে খেলে উচ্চ রক্ত চাপ কমে যায়। তবে ডায়াবেটিস থাকলে তা খাওয়া নিষেধ।

সজিনার পাতার গুঁড়োরও বিশেষ গুণাগুণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এতে দুধের চেয়েও বেশি ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম ও জিংক রয়েছে। সজিনা পাতাকে শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এতে তাদের শ্রমজনিত ক্লান্তি, শরীরের ব্যথা ইত্যাদি দূর হয়।

সজিনা ফুল শাকের মতো রান্না করে বসন্তকালে খেলে বসন্তের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ হয়। এছাড়া সর্দি, কাশিতে, শ্লোথ, প্লীহা ও যকৃতের কার্যকারিতা কমে গেলে এবং কৃমিনাশক হিসেবে সজিনা ব্যবহার করা যায়। এর পাতা অগ্রহায়ণ-মাঘ মাসে হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে। মাঘ-ফাল্গুনে থোকা থোকা সাদা ফুল প্রায় পত্রশূন্য গাছ ছেয়ে থাকে।

অনেক সময় দাঁতের মাড়ির সমসসায় ভুগে থাকেন অনেকে। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়া এবং মাড়ি ফুলে যাওয়া সমস্যায় ইদানীং অনেককে পড়তে দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সজনে পাতা ১/২ মগ পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে সেই পানি দিয়ে ভালো করে প্রতিদিন কুলকুচা করতে হবে। এতে মাড়ির সকল সমস্যার সমাধান হয়। সজনে পাতা ভাজি বা ভর্তা করে খেলে মুখের রুচি আসে। সেইসাথে শক্তি বৃদ্ধি পায়।

সজনে পাতার রস খাওয়ালে শ্বাসকষ্ট সারে ও হেঁচকি ওঠা বন্ধ হয়। তাছাড়া পাতাকে অনেকক্ষণ সিদ্ধ করে তা থেকে যেই ঘন রস পাওয়া যায় হিং (এক ধরনের বৃক্ষ বিশেষ) ও শুকনো আদার গুঁড়ো মিশিয়ে খাওয়ালে পেটের গ্যাস বেরিয়ে যায়।

এছাড়া সজনে পাতার বেটে অল্প গরম করে ফোঁড়ার ওপর লাগালে ফোঁড়া ফেটে যায়। সজনে পাতার রস মাথায় ঘষলে খুসকি দূর হয়। এই সজনা পাতার রসে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার ক্ষমতাও রয়েছে।

শশার এই ডায়েটে ১ সপ্তাহে ওজন কমবে ৭ কেজি

ডেস্ক রিপোর্টঃ
গরম কালে শরীর ঠান্ডা রাখতে নিয়মিত শশা খাওয়ার কথা ডায়েটিশিয়ানরা প্রায়ই বলেই থাকেন। শশা যেমন হজমে সাহায্য করে তেমনই অন্ত্র ও খাদ্যনালী পরিষ্কার রাখে। যে কারণ ডায়েটে নিয়মিত শশা রাখলে ত্বকে ‘অ্যাকনে’র সমস্যাও কমে যায়।
মেটবলিজমে সাহায্য করার কারণে শশা মেদ ঝরিয়ে ওজন কমাতেও সাহায্য করে। তাই রোগা হতে চাইলেও ডায়েটিশিয়ানরা শশা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে শশা।
এই ডায়েটের নাম ৭ দিনের কিউকম্বার ডায়েট হলেও ১০ দিন পর্যন্ত মেনে চলা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ডায়েটে ৭ কেজি পর্যন্ত ওজন কমানো যেতে পারে।
ব্রেকফাস্ট
২ টা সুসিদ্ধ ডিম
১ প্লেট শশার স্যালাড
মিড মর্নিং স্ন্যাকস (ব্রেকফাস্টের ২ ঘণ্টা পর)
১টা আপেল (২০০ গ্রামের কম)
লাঞ্চ
১ টা হোয়াইট ব্রেড টোস্ট
১ বাটি শশার স্যালাড
স্ন্যাকস (লাঞ্চের ২ ঘণ্টা পর)
কিউকাম্বার শেক (১টা শশা, ১টা আপেল ও একমুঠো পালং শাক দিয়ে তৈরি শেক)
ডিনার
নিজের পছন্দের কোনও ফল (৩০০ গ্রাম)

খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা


খালি পায়ে হাটার অনেক ধরনের উপকারিতা আছে যা সারাক্ষন জুতা পরে থাকার জন্য গুরুত্ব দেয়া আমাদের মূল ধারার সমাজ ব্যবস্থাকে অনেক সময় ছাপিয়ে যায়। ডঃ মারকোলার মতে খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করে হাঁটলে তা সরাসরি মাটি থেকে দেহে নেগেটিভ ইলেকট্রন শোষণ করে যা আভ্যন্তরীণ বায়োইলেক্ট্রিক্যাল পরিবেশের ভারসাম্যতা সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার চাপে পরে আমরা আসলে মাটির সংস্পর্শ হারাচ্ছি। কিন্তু আমরা যদি আমাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থার মাঝেই সময় বের করে নিয়ে কিছুটা সময় খালি পায়ে হাঁটি তার উপকারিতা অভাবনীয়।
খালি পায়ে হাটার কিছু উপকারিতা এখানে তুলে ধরছি-
১.ঘুমের সমস্যা দূর হয়। অনিদ্রা কিংবা শোয়ার অনেক পরে ঘুম আসে, এমন সমস্যাতে অনেকেই ভুগছেন। খালি পায়ে হাঁটাচলা করলে সেই প্রবণতা কমে যায়।
২.শুধু ঘুম নয়, ক্লান্তি কিংবা অবসাদ থাকলেও তা দূর হয় খালি পায়ে হাঁটলে।
৩.খালি পায়ে চলাফেরা করলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং মানসিক ভাবে সুস্থ থাকা যায়।
৪.কাজ করার ক্ষমতা বাড়ে খালি পায়ে হাঁটলে।
৫.জুতো ছাড়া হাঁটাচলা করলে পায়ের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি হাড় মজবুত হতেও সাহায্য করে।
৬.ভোরবেলায় খালি পায়ে ঘাসের উপর চলাফেরা করলে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হয়।
৭.খালি পায়ে হাঁটলে স্মৃতিশক্তির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

জীবাণুমুক্ত থাকতে যেভাবে স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন


প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বর্তমানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে হাত পরিষ্কার রাখায়। এ জন্য ঘন ঘন সাবান-পানি ও স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার নিয়ম তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু স্যানিটাইজার কখন ব্যবহার করবেন?

নিত্য প্রয়োজনে বাইরে গেলেই স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন। এ জন্য জেনে রাখা চাই স্যানিটাইজার ব্যবহারের নিয়ম।জেনে নিন কীভাবে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করে হাত জীবাণুমুক্ত রাখবেন:

•    স্যানিটাইজার ব্যবহারের আগে হাত শুকিয়ে নেবেন।

•    হাতের তালুতে আধা চা চামচ স্যানিটাইজার নিন।

•    এবার দুই হাতের তালুতে ঘষুন।

•    আঙুলের মধ্যে এবং উলটো পিঠেও ঘষুন।

•    দুই হাতের তালুতেও ভালোভাবে করে ঘষুন।

•    স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরে হাত ধোবেন না।