দুই হাজার শিক্ষক নিয়োগে বিশেষ উদ্যোগ


সারা দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দুই হাজার শূন্য পদ পূরণে ‘বিশেষ উদ্যোগ’ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব পদে নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে সরকারি কর্ম কমিশন পিএসসির কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।মাউশি থেকে জানা গেছে, দেশে নতুন ও পুরোনো মিলে মোট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৫৪টি। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ১৪৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এছাড়া প্রধান শিক্ষক সমপর্যায়ের পাঁচটি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার (ডিইও) পদ শূন্য রয়েছে।

হাই স্কুলগুলোর ৫৩৩টি সহকারী প্রধান শিক্ষকের সবকটি পদই শূন্য। অপেক্ষাকৃত জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়ে এসব হাই স্কুল পরিচালনা হচ্ছে। এতে নিচের স্তরেও পদ শূন্য হচ্ছে বলে মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

৩৫৪টি সরকারি হাই স্কুল, ৬৪টি ডিইও (জেলা শিক্ষা অফিস) অফিস ও ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের মোট পদ ১১ হাজার ৬১০টি। এর মধ্যে এক হাজার ৯৫২টি পদই শূন্য। সেই হিসাবে সহকারী শিক্ষকের প্রায় ১৭ শতাংশ পদ ফাঁকা রয়েছে।

হাই স্কুলের শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, সবশেষে পিএসসির মাধ্যমে ২০১৯ সালে সহকারী শিক্ষক পদে বড় শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। এর পর করোনা মহামারির কারণে আর বড় নিয়োগ দেওয়া যায়নি‌। এর মধ্যে অনেক শিক্ষক অবসরে চলে গেছেন পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এজন্য এত সংখ্যক পদ ফাঁকা। এ বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। প্রায় দুই হাজার সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি পিএসসিতে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদও পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য আগামী ১৮ জুলাই ডিপিসির (বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি) সভা আহ্বান করা হয়েছে। এই সভায় সরকারি প্রধান শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

মাউশির ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি করা হয়। এর মধ্যে রাজধানীর দুটি বিদ্যালয়সহ ঢাকা অঞ্চলের ১৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার সাভারে একটি এবং গাজীপুর জেলায় একটি, গোপালগঞ্জে দুটি, ফরিদপুরে চারটি, মাদারীপুরে একটি, রাজবাড়ীর দুটি ও শরীয়তপুরে একটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই।

অন্যান্য শূন্য পদের মধ্যে ময়মনসিংহ অঞ্চলে আটটি, কুমিল্লা অঞ্চলে ৯টি, বরিশাল অঞ্চলে ১৩টি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৩১টি, খুলনা অঞ্চলে ২১টি, রাজশাহী অঞ্চলে ১৫টি ও সিলেট অঞ্চলে ১৩টি হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। আর পাঁচটি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। জেলাগুলো হলো- কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, নড়াইল, কুষ্টিয়া ও ভোলা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খানের সভাপতিত্বে গত ২৫ মে মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার কার্যবিবরণী প্রতিবেদন গত ১৭ জুন এ বিভাগের অধীন বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানো হয়।ওই প্রতিবেদনে সচিব বলেন, অনেক সরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক/সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই এসব শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে করণীয় নির্ধারণের জন্য একটি সভা/কর্মশালা করা যেতে পারে।

এইচএসসির ফল প্রকাশ হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি


উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হতে পারে। শুক্রবার আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমে এ তথ্য জানান।

তারা বলেন, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য তিনটি তারিখ দিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্য থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি ফল প্রকাশে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সম্মতি পাওয়া গেছে। বিষয়টি খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ফল প্রকাশ হবে কীনা এমন প্রশ্নে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনি ভুল শোনেননি।’ এর আগে আগামী ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল শিক্ষা বোর্ডগুলো।

পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশের রীতি মেনে চলে শিক্ষাবোর্ডগুলো। সেই হিসাবে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি এ সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে থাকেন।

বেসরকারি শিক্ষকদের শতভাগ উৎসব ভাতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: শিক্ষামন্ত্রী


বেসরকারি শিক্ষকদের দাবি করা শতভাগ উৎসব ভাতার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সকালে চাঁদপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা জানি আমাদের বেসরকারি শিক্ষকরা শতভাগ উৎসব ভাতা চান। আসলে এই বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।তিনি আরও বলেন, তবে আমি মনে করি, যখন আমাদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কাজ করছি, তখন শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধান করা ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়। তবে সরকারের আবার সক্ষমতার বিষয় রয়েছে। কাজেই সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি দেখছি কতটুকু করা যায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েলসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অ্যাসাইনমেন্টের জন্য কোনো ফি নেই: শিক্ষামন্ত্রী


শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়ার সঙ্গে ফিসের কোনো সম্পর্কে নেই। অ্যাসাইনমেন্টের জন্য কোনো ফি নেই। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘদিন অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের ফি (বেতন) পরিশোধ করেনি, যা এখন অনেকের জন্য কিছু বেশি হয়ে গেছে। ফি পরিশোধের জন্য হয়তো ইনস্টলমেন্টের মাধ্যমে বা অন্য কোনো ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আর যাদের সামর্থ্য রয়েছে তাদের অবশ্যই ফি পরিশোধ করা উচিত। সেই ফি’র সঙ্গে অ্যাসাইনমেন্টের কোনো সম্পর্ক নেই এবং অ্যাসাইনমেন্টের সাথে মেলানো ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, শুধু কভিড বা ডেঙ্গুর জন্য নয়, একটি সুস্থ সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমাদের সবাইকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে চলা উচিত। স্বাস্থ্যবিধি মানা আমাদের অভ্যাসে পরিণত করা উচিত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল আমিন রুহুল, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ, চাঁদপুর পৌর মেয়র মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতৃবৃন্দ।

পরে মন্ত্রী বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাইমচর বাজাপ্তি রমনীমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সম্প্রসারণ কাজের এবং বিকেল ৪টার দিকে হাইমচর দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন

একটি চিহ্নিত মহল ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে: শিক্ষামন্ত্রী


শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সবকিছুতে বিফল হয়ে একটি চিহ্নিত মহল এখন আমাদের ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা দেখছি একটি চিহ্নিত মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বারবারই অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। কখনও ভাস্কর্যের নামে আন্দোলন করছেন, কখনও বিদেশি একটি সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা নানান তথ্য প্রচার করছেন, সাজানো নাটক প্রচার করছেন। সেগুলোর সবকিছুতে বিফল হয়ে এখন আমাদের ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের হাতেই আমরা আমাদের ভাষা আন্দোলন পেয়েছি, ভাষার অধিকার পেয়েছি, স্বাধীনতা পেয়েছি, গণতন্ত্রের আন্দোলনে ছাত্রসমাজ অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। আজকে যখন বৈশ্বিক সংকট চলছে, সেই সময়ে শিক্ষাবান্ধব সরকার, বঙ্গবন্ধুকন্যার সরকার সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা সকল উপাচার্যদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ৭ কলেজের ক্ষেত্রে কেন আমরা ব্যতিক্রম করছি আমরা একান্তই মানবিক কারণে। কারণ তারা তিন বছর পিছিয়ে আছে।তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তাদেরকে পরীক্ষা দেবার (যেগুলো চলছিল, যেগুলো ঘোষিত আছে) সেগুলো যথারীতি চলবে-এই সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি। আর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আমাদের সারা দেশে আছে। আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য মহোদয় এখানে আছেন। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ যে, তারা সম্পূর্ণ সেশনজটমুক্ত করেছেন।  সে কারণে আজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, তারা কোনো ধরনের আন্দোলনে যাবেন না এবং তারা তিন মাস পর পরীক্ষা দেবেন। তাদের মধ্যে কারো যদি বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর মাঝে এক ধরনের অস্থিরতা ছিল।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ৪৩তম বিসিএসের আবেদনের একটা তারিখ দেয়া আছে।  পরীক্ষারও একটা নির্ধারিত তারিখ ছিল। এখানে সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান মহোদয়ও আছেন। ওনাদের সঙ্গেও আমরা আলাপ-আলোচনা করেছি। ৪৩তম বিসিএসে আবেদনের সময়, পরীক্ষার সময় এবং এই কতদিন পরীক্ষা পেছানোর কারণে কারও যদি বয়সের সমস্যাও দেখা দেয়  সেই সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থাটা সরকার করবে। এই সিদ্ধান্তও আমরা সেদিনই দিয়েছিলাম। কাজেই এই তিন মাস যদি পরীক্ষা না হয় স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য, সার্বিক নিরাপদের জন্য আমি মনে করি, বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের সকল শিক্ষার্থীরা বিষয়টা বুঝবেন। আমি মনে করি তারা বৃহত্তর স্বার্থ বুঝেন, জাতীয় স্বার্থ বুঝেন, তারা সবাই সেটিকে মেনে নেবেন। সাময়িক অসুবিধা হয়তো অনেকেরই হবে, অনেকে টিউশনি করে পড়াশোনা করেন, অনেকে নিজ অর্থায়নে এখন হলের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় মেস ভাড়া করে আছেন, কষ্টে আছেন অনেকেই। আমরা তাদের এই কষ্টগুলো বুঝি।নানা সীমাবদ্ধতা স্বত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে এখন আন্দোলন না করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের এই করোনাসংক্রমণটি আবার ছড়িয়ে গিয়ে সারা বিশ্বে যেখানে সাফল্য অর্জন করেছে, সেই সাফল্য যেন ম্লান না হয়ে যায়। একটু কষ্ট হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন।

শিক্ষা ঋণ চালু করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী


সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ঋণ চালু করার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)আয়োজিত করোনাকালে ই-লার্নিং শীর্ষক অনলাইন আলোচনায় তিনি এ কথা জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সহজে শিক্ষা চালিয়ে নিতে শিক্ষা ঋণ দেওয়া যেতে পারে। আমি সংসদে বলেছি, প্রধানমন্ত্রী মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়েছেন। আমরা এখন থেকে শিক্ষা ঋণ দেওয়ার কথা ভাবছি। কীভাবে শিক্ষার্থীদের সক্ষম করে তুলবো, যেখানে যতটুকু প্রয়োজন আছে সেটা যেন তারা মেটাতে পারেন। এসব বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। কোনওভাবেই যেন শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার না হয়।

ই লার্নিং ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ‘ইউনির্ভাসিটি অব সারে’ এর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ওসামা খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ। আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর রশিদ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কারম্যান জেড লামাংনা, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. মুরাদ হোসেন মোল্লা, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটি’র ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমদ, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইশতিয়াক আজিম প্রমুখ।

আ.লীগ সরকারই মেধার মূল্যায়ন করে: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো: জাকির হোসেন বলেছেন, মেধার মূল্যায়ন আওয়ামীলীগ সরকারই করে। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে নিয়োগ বাণিজ্য নেই। মেধা ভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। নিয়োগ পরীক্ষায় যারা ভালো করছে তারাই বিনা টাকায় চাকরি পাচ্ছে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশ করে বলেন, তোমাদের ভালো করে লেখাপাড়া করতে হবে। সুশিক্ষিতরাই পারবে বঙ্গবন্ধু স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে। অতিদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করায় দাতা সংস্থা পিকেএসএফ ও আরডিআরএস বাংলাদেশেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন রয়েছে, সেখানে অতিদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা আবেদন করলে তাদের সহায়তা দেওয়া হয়।

শনিবার দুপুরে রৌমারী উপজেলা কনফারেন্স রুমে অতিদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের পিকেএসএফের আর্থিক সহায়তায় ও আরডিআরএসের বাস্তবায়নে রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার অতিদরিদ্র পরিবারের ২১জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতিজনকে ১২ হাজার টাকা করে শিক্ষা বৃত্তির চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো.জাকির হোসেন।

এতে কর্ম সহায়ক প্রকল্পের আরডিআরএস বাংলাদেশের প্রকল্প সমম্বনয়কারী গৌতম কুমার হালদারের সভাপত্বিতে আরও বক্তব্য রাখেন, রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল্লাহ, রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহসান হাব্বি বাবু, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম, সিনিয়র ক্রেডিট অফিসার ময়েন উদ্দিন পাটোয়ারী, রৌমারী এলাকা ব্যবস্থাপক ফিরোজ জামান ও সাজেদুর রহমান, স্কুল ফিডিং কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদিন ও মশিউর রহমান প্রমূখ।

শিক্ষার্থীদের জন্য সেপ্টেম্বরের শুরুতেই দারুণ সুখবর


শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে ডিভাইস এবং স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা পায় সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।তিনি বলেন, আশা করছি আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে এ বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আমরা সুখবর জানাতে পারবো।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।এদিকে আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, যেকোনো সংকট শুধু সমস্যাকেই নিয়ে আসে না সম্ভাবনার দ্বারও উন্মুক্ত করে। এই মহামারি পরিস্থিতিতেও আমরা সেই শিক্ষা পেলাম।

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রম চালুর জন্য যেসব উদ্যোগ নিয়েছে সেটা হয়তো আরো ১০ বছর পরে নেয়া হতো। কিন্তু সেই উদ্যোগ এখনই নেয়া হলো। এটি সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনারা অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে যেসব উদ্যোগ নিয়েছেন সেগুলো করোনা পরবর্তী সময়েও কাজে আসবে। আমাদেরকে ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা চিন্তা করেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন কোর্স অফার করতে হবে। নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি এটিও চালু করতে হবে।

কারণ, যারা কাজে ঢুকে যাবে তাদেরকেও সুযোগ দিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে ঢুকেও যেন তারা সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। এক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রম চালু করতে যে কার্যক্রম নিয়েছে সেটা প্রশংসনীয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, এই করোনা মহামারি পরিস্থিতি অনলাইন শিক্ষার একটা অপরচুনিটি। কারণ এই প্যানডেমিক সিচুয়েশন কবে যাবে সেটা আমরা জানি না। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা এই সুযোগটাকে অ্যামব্রেস করতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রম সফল করতে হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিকল্প নেই। কারণ, এটি সমগ্র বাংলাদেশকে কাভার করে।সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, করোনা মহামারি পরিস্থিতির শুরু থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রম চালুর জন্য কলেজগুলোকে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়েছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ও সুসংগঠিতভাবে অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রম চালুর জন্য আমাদের এই উদ্যোগ।

এই কার্যক্রমের আওতায় অনলাইনে ১৪৫৮ জন শিক্ষকের ১৪৫৮টি কোর্সে মোট ১৭ হাজার ৫০০টি ভিডিও ক্লাস অপলোড করা হবে। ৩১টি ডিসিপ্লিনের এই অনলাইন ক্লাস নেয়া সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। একজন শিক্ষার্থী প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে খুব সহজে এই ভিডিও ক্লাস দেখতে পাবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ।অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন দফতরের প্রধান, বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব বৃত্তি কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করা হয়েছে


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব বৃত্তি কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, আগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বৃত্তি দেওয়া হতো এবং শিক্ষার্থীদের টাকা পেতে অনেক ঝামেলা হতো।

শিক্ষামন্ত্রী সোমবার (২২ জুন) এক ভার্চ্যুয়াল মিটিংয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের উপবৃত্তির টাকা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় একথা বলেন।

ভার্চ্যুয়াল মিটিংয়ে আরও যুক্ত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক ও পরিচালক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী, সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির স্কিম পরিচালক শরীফ মুর্তাজা মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনলাইনে বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলে জিটুপি পদ্ধতিতে বৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বরে পৌঁছে যাবে। ফলে শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের টাকা পেয়ে যাবে এবং সরকারের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার ফলস্বরূপ আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে জিটুপি পদ্ধতিতে বৃত্তের অর্থ পৌঁছে দিতে পারছি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার সার্বিক পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে এক্ষেত্রে যে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে সেজন্য দীপু মনি প্রধানমন্ত্রী ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শিক্ষার্থী নির্বাচন করার পরে শিক্ষার্থীর আবেদন দাখিল, প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমোদন, প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে ইউএনও’র কাছে তালিকা দাখিল, ইউএসইও অনুমোদনের পর তা স্কিম পরিচালকের কাছে দাখিল ও অনুমোদন, স্কিম পরিচালকের বিল দাখিল, মন্ত্রণালয়ের হিসাবরক্ষণ অফিসের বিল পাসের পর বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো, বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মোবাইলে পৌছে দেওয়া- এই পুরো কাজটি অনলাইনে করা হবে।

উদ্বোধনী দিনে ৪৯২টি উপজেলার প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৮০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩২৮ কোটি ১৪ লাখ এক হাজার ৯শ টাকা জিটুপি পদ্ধতিতে (অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উপবৃত্তি অর্থ সরাসরি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নির্ধারিত মোবাইল অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে) পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৪ জুন শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে তাদের উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে যাবে।

একই সময়ে শিক্ষামন্ত্রী জিটুপি পদ্ধতিতে ২০১৯ সালের পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৮৩ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ কোটি ৩২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৮৫ টাকা দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

প্রতি অর্থবছরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এক লাখ ৮৭ হাজার ৩৮৪ জনকে ১৮৭ কোটি টাকার বৃত্তি দেওয়া হয়। বৃত্তিপ্রাপ্ত অন্য শিক্ষার্থীদের বরাদ্দ অর্থ পর্যায়ক্রমে অনলাইনে পাঠানো হবে বলে জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনলাইনে বৃত্তির এ সেবাটি মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

টিউশন ফি আদায়ে নানা কৌশল অবলম্বন করছে রাজধানীর নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান


করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে গোট দেশ যখন প্রায় লকডাউন, কাজ কর্ম রেখে বাসায় বেকার সময় কাটাচ্ছে পরিবারের কর্তা ব্যক্তি ঠিক তখন অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করে টিউশন ফি আদায় করতে বিভিন্ন ধরণের হুমকিসহ নানা কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ ওঠেছে রাজধানীর বেশ কয়েকটি নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মিরপুরের মণিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি পরিশোধে নানাভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে। অর্থ পরিশোধ না করলে অনলাইন ক্লাস থেকে বহিষ্কার করা, পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত না করাসহ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে অভিভাবকদের।

কোথাও আবার সাধারণ শিক্ষকদের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে ফোন দিয়ে বলা হচ্ছে, অর্থ পরিশোধ না করলে আপনার বাচ্চাকে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করা হবে না। এভাবে চাপ দিয়ে টিউশন ফি আদায় করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মণিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, তাদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায়ে স্কুল থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। স্কুল থেকে শ্রেণি শিক্ষকদের মোবাইলে এ সংক্রান্ত খুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে। অভিভাবকদের সেটি পাঠিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধে চাপ দিতে শিক্ষকদের বলা হয়েছে।

তারা জানান, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অনেকেই শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে অপারগতা প্রকাশ করছে। অনেক অভিভাবক জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে অনেক অভিভাবক শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে তাদের পক্ষে এখন টিউশন ফি পরিশোধ করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভিভাবক ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের বেঁচে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, সেখানে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নানা ফন্দি করে টিউশন ফি আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্কুল বন্ধ অথচ শিক্ষার্থীদের বেতন আদায়ে অভিভাবকদের নানাভাবে চাপ দেয়া হচ্ছে।

জিয়াউল কবির দুলু অত্যন্ত জোড় দিয়ে বলেন, মতিঝিল আইডিয়ালে ২৬ হাজার শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিন মাসের অগ্রিম বেতন আদায় করা হয়। প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা স্কুল ফান্ডে জমা হয়। অথচ করোনা মহামারি পরিস্থিতিতেও অভিভাবকদের কাছে ফোন করে টিউশন ফি আদায়ে শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অথচ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজ শিক্ষকরা কখনও নেন না।

বাংলাদেশ অভিভাবক ফোরামের সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, আইডিয়ালে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে তাদের বেতন পরিশোধে অভিভাবকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা অমানবিক। ৩০০টির মতো সেকশন অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী বকেয়া বেতন পরিশোধ করেননি। তিন মাস পরপর টিউশন ফি পরিশোধের নিয়ম থাকলেও অনেকে চার থেকে পাঁচ মাসের বেতন দেননি। এ কারণে বকেয়া বেতন পরিশোধে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, টিউশন ফি আদায় না করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়, শিক্ষকদের বেতন পরিশোধ করা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানের সব উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে শ্রেণি শিক্ষকদের মাধ্যমে অভিভাবকদের মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হয়েছে।

শুধু বাংলা মিডিয়ামে নয়, রাজধানীর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ডিপিএস এসটিএস (দিল্লি পাবলিক) স্কুলে টিউশন ফি না দিলে অনলাইন ক্লাস থেকে রিমুভ (বাতিল) করে দেয়ারও হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বকেয়া টিউশন ফি পরিশোধে গত ১৪ জুন পর্যন্ত সময় দেয়া হয়। যারা অর্থ পরিশোধ করবে তাদের অনলাইন ক্লাসে যুক্ত করা হবে, অন্যদের নাম কেটে দেয়া হবে। এছাড়া পরবর্তী ক্লাসে তাদের উন্নীত করা হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

করোনা মহামারির মধ্যেও অভিভাবকরা বকেয়া টিউশন ফি পরিশোধ করবেন বলে অভিভাবক ফোরামের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ডিপিএস এসটিএস স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এজন্য তারা ৩০ জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছেন। এর আগে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতিতে গত তিন মাসের টিউশন ফি’র ৫০ শতাংশ ছাড়ের দাবি জানালেও তা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তবে সময় বাড়ানোর প্রস্তাবে আলোচনা করতে স্কুল কর্তৃপক্ষ সম্মতি দিয়েছে বলে অভিভাবক ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিল্লি পাবলিক স্কুলের অভিভাবক ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতিপক্ষ নয়। উভয়েই উভয়ের সমস্যাগুলো বিবেচনা করবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। সব অভিভাবক সমস্যায় আছেন, এটি বলব না। তবে যাদের সমস্যা আছে তাদের ওপর তো চাপ দেয়া যাবে না। আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।