শনিবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বসুর মা’র সন্তান এক কুড়ি

ভোরের সংলাপ ডট কম :
মে ৭, ২০১৭

 

মো. জাকির হোসেনঃ
কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার কংগাই গ্রামের সত্তরোর্ধ ছাগল চড়ানি বসুর’মা প্রত্যহ সারা দিন একাই ছাগলের পাল চড়িয়ে বেড়ান। কংগাই গ্রামের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন মাঠ, হাট বাজার, পরিত্যক্ত ফসলের ক্ষেত, গ্রামের মেঠো পথ সহ পাকা রাস্তার উভয় পাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা। শুধু মাত্র তার সন্তানদের ক্ষুধা নিবারন করার জন্য। ছাগলের পাল চড়িয়ে তার এ ঘুরে বেড়ানো নিজের কোন প্রকার অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের নিমিত্বে কিংবা নিজেকে স¦াবলম্বী করার জন্য নয়। কয়েক যুগ ধরে এটা তার এক ধরনের গভীর নেশা হয়ে রক্তের সাথে মিশে গেছে। আজ পর্যন্ত কোথাও কোন ছাগল বিক্রয় কিংবা জবাই করে মাংশ খেয়েছে এমন রেকর্ড কোথাও নেই। এমন কি কোন জটিল রোগাক্রান্ত চিকিৎস্যায় ব্যর্থ ছাগলকে ও নয়।
বিগত ৪০ বৎসর যাবৎ বসুর’মা যতœ সহকারে নিরলস ভাবে বসুর বংশধরদের রক্ষা করে আসছেন। বসুদের এ লালন পালনে বসুর মায়ের একটুও ক্লান্তি বা হতাশা নেই। বসু নামের একটি ছাগল দিয়েই পদ যাত্রা শুরু আর সেই থেকেই তার আসল নাম রেনু বালার বিলুপ্তি। সকাল হলেই তিনি নিশ্চিন্ত মনে প্রায় দেড় ডজন ছোট বড় ছাগল নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন। প্রতিটি ছাগল তার খুব ভক্ত, এদের গলায় কোন প্রকার বাধন নেই,বসুর মায়ের আদেশ নিষেধেই ওরা পথ চলে; ঘাস খায়। এলাকার কেউ যদি দুষ্টামি করে এক বার বলে, বসুর মা তোমার এই ছাগল আমার কাছে বিক্রি করে দাও, তাহলেই হয়েছে; বসুর মা তাকে সারাদিন একটানা নাওয়া খাওয়া ছেড়ে বকা ঝকা করতেই থাকবেন। এই বকা ঝকাতেও ওদের কোন কিছু যায় আসেনা এ ধরনের বকা ঝকা উপেক্ষা করে বহুবার এলাকার দুষ্ট লোকেরা বসুর মায়ের ছাগল চুরি করে খেয়েছে। এ জন্য কখনোই বসুর মা সুবিচারের প্রার্থী হয়ে এলাকার কোন গন্যমান্য ব্যক্তি কিংবা মেম্বার চেয়ারম্যানের দারস্থ হননি তিনি সর্বদাই তার ছাগল নিয়েই ব্যস্ত। দুষ্ট লোকদের বিচার চেয়ে-চেয়ে সময় নষ্ট করার মত সময় তার নেই । তিনি শুধু তাদের উদ্দেশ্যে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে সৃষ্টি কর্তার কাছে কত শত অভিশাপ আর বকা ঝকা দিয়েছেন তার ইয়ত্তা নেই। এ জগৎ সংসারে এখন বসুর মায়ের আপন বলতে কেউ নেই। দাম্পত্য জীবনে তিনি নি:সন্তান। বিশ বৎসর আগেই তার স্বামী তাকে একা ফেলে পরপারে চলে গেছেন। এখন বসুর বংশধররাই বসুর মার এক মাত্র বেঁচে থাকার অবলম্বন। তিনি কখনোই তাদের মায়া একটুও ছাড়তে পারেননি। এ দেহে প্রাণ থাকতে তিনি কোন দিনও বসুদের ব্যতিত এক দন্ডও থাকতে পারবেন না। মোট কথা, বসুদের ভালবাসার প্রেরণাই তার জীবনে বেঁচে থাকার প্রধান উৎস!

bhorersanglap