ত্রাণ ও স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হচ্ছে দুদক


ত্রাণ ও স্বাস্থ্যখাতে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও সক্রিয় হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘করোনার কারণে কমিশনের নিয়মিত অভিযান স্থগিত রাখা হলেও ত্রাণ এবং স্বাস্থ্যখাতে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও সক্রিয় করা হবে। জনগণের কল্যাণেই এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুদকের এক বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিবেদনের ওপর পূর্ণাঙ্গ কমিশনের এক ভার্চুয়াল সভায় এ কথা বলেন তিনি।

দুদক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুদকের ১৮ জনের বেশি কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত। দুইজন প্রতিশ্রুতিশীল কর্মকর্তা মারা গেছেন। এরমধ্যেও আপনারা মামলা করছেন, অপরাধীদের গ্রেফতার, অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের তলব এবং জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। অর্থাৎ দুর্নীতির অভিযাগের অনুসন্ধান, তদন্ত, প্রসিকিউশন, প্রতিরোধসহ সব ধরনের দাফতরিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটা আপনাদের কৃতিত্ব। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনে বাসায় বসে অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই নথির মুভমেন্ট রেজিস্টার অনুসরণ করতে হবে এবং তা কমিশন সচিবকে অবহিত করতে হবে।’

কমিশনের মানিলন্ডারিং অনুবিভাগের কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশও করে দুদক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে কমিশন ১১টি মানিলন্ডারিং মামলার ১১টিতেই অপরাধীদের সাজা হয়েছে। ২০১৮ সালেও শতভাগ মামলায় সাজা হয়েছিল। এককভাবে যখন দুদক মানিলন্ডারিং মামলা করতো তখন অসংখ্য মামলা দায়ের হয়েছে। অসংখ্য অপরাধীর শাস্তি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থপাচার বন্ধে দ্রুত সময়ে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে অপরাধলব্ধ সম্পদ উদ্ধার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিএফআইউ, সিআইডি, জাতীয় রাজস্ববোর্ডসহ অন্যান্য সংস্থার মধ্যে নিবিড় সমন্বয় থাকতে হবে।

কীভাবে এসব সংস্থার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় করা যায়, তা কমিশনের কৌশলপত্রের আলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন ইকবাল মাহমুদ।

সাহেদকে আইনের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ যত ক্ষমতাবানই হোন না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে যে কাজ করেছে শাস্তি তাকে পেতেই হবে। এতে সে যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।এ সময় সাহেদকে গ্রেফতারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজছে তাকে। তবে তারও উচিত আত্মসমর্পণ করা।এর আগে, নানা অনিয়ম, প্রতারণা, সরকারের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ ও করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান কার্যালয়, উত্তরা ও মিরপুর শাখা একে একে সিলগালা করে দেয় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।শাহেদের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে র‍্যাব। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পুলিশের পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন বিভাগকে এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী নিয়ে কটূক্তি করায় আটক ১


স্টাফ রিপোর্টার :  কিশোরগঞ্জে ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রীদের ব্যঙ্গ চিত্রের মাধ্যমে কটূক্তি করার অভিযোগে মো. শিবলু মিয়া (৩৬) নামে একজনকে আটক করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে র‌্যাব-১৪ এর কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আক্কাছ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা বাজার এলাকা থেকে শিবলু মিয়াকে আটক করা হয়।

মোহাম্মদ আক্কাছ আলী বলেন, জিয়া সৈনিক দল কটিয়াদী উপজেলা শাখা নামে ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের নিয়ে ব্যঙ্গ চিত্রের মাধ্যমে কটূক্তি, বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে আসছিল শিবলু মিয়া। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তিনি বিভিন্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও অপপ্রচারমূলক তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাসহ দেশের চলমান আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে আসছিল।’’

কটিয়াদী থানায় আটক শিবলু মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে আক্কাছ আলী জানান।

সেই বাড়িওয়ালা কারাগারে


রাজধানীর পান্থপথে এক মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় ভাড়াটিয়াকে মারধর করে বের করে দেয়া বাড়িওয়ালা নুর আক্তার শম্পার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২২ এপ্রিল) তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তার বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যা চেষ্টা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই থানার উপ-পরিদর্শক সাইদুর রহমান। অপরদিকে শম্পার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ তার জামিন ও রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কলাবাগান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সাফায়েত শরীফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি সড়ক থেকে তাকে আটক র‌্যাব। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে ৫৮/৭ নম্বর পান্থপথ এলাকার দ্বিতীয় তলায় ভাড়াটিয়ার এক মাসের ভাড়া বাকি থাকায় দুই মাসের নবজাতক শিশুসহ তিন সন্তান ও তার বাবা-মাকে মারধর করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেন বাড়িওয়ালা শম্পা। র‍্যাব-পুলিশের সদস্যরা মানবিক বিবেচনায় শম্পার কাছে ভাড়াটিয়াকে ঘরে রাখার অনুরোধ জানায়।

শম্পা তাদের অনুরোধ অবজ্ঞা করে এবং র‍্যাব-পুলিশকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনায় শম্পার বিরুদ্ধে রাজধানীর কলাবাগান থানায় ভাড়াটিয়াকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. সেলিম হোসেন।

ত্রাণে দুর্নীতি: খোলা থাকবে দুদকের সব জেলা অফিস


মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের সময় অসহায় দুস্থ মানুষের ত্রাণসামগ্রী নি‌য়ে অনেকেই হরিলুট করছেন। বি‌ভিন্ন জায়গায় ঘুষ বাণিজ্যও হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এ জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও দুর্নীতিবাজদের ধর‌তে জেলা পর্যায়ের সব অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।‌ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, ১৩ এপ্রিল দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে জেলা কার্যালয়গুলোতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে দুর্নীতির অনেক খবর গণমাধ্য‌মে আস‌ছে। এ সব খবর ও অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একজন আসামি গ্রেফতারসহ দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদকে।

এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘কমিশন এ বিষয়ে আগেই সবাইকে সতর্ক করেছে। তারপরও যে বা যারা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি ও ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ করবেন তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। বগুড়ায় শুরু হলো। যেখানেই অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।এদি‌কে, ১৩ এপ্রিল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে কার্ড বিতরণের নামে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যকে গ্রেফতার করে দুদক। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সেকান্দার মিয়াকে পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ওইদিন সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ওএমএস ডিলার মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে ত্রাণের ৭১০ কেজি চাল আত্মসাতের অভিযোগে অপর একটি মামলা করে দুদক। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় ত্রাণসামগ্রী সংশ্লিষ্টরা লুট করছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।

করোনা নিয়ে ত’র্ক করায় ব্যবসায়ীকে খুন


ক’রো’নার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ও বন্ধ রাখা নিয়ে ত’র্কে জ’ড়িয়ে শরীফ হোসেন (২৬) নামে এক ব্যবসায়ীকে ছু’রি’কা’ঘা’তে হ’ত্যা করেছে স্থানীয় কয়েকজন যুবক।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে ফতুল্লার দেওভোগ আদর্শনগর এলাকায় শ্যামলের রিকশা গ্যারেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।নি’হ’ত শরীফ দেওভোগ শেষমাথা আদর্শনগর এলাকার আলাল মাদবরের ছেলে। তিনি আদর্শনগর এলাকায় দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে ইলেকট্রিক ও হার্ডওয়্যার পণ্যের ব্যবসা করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শরীফ সকালে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছিলেন। এ সময় স্থানীয় যুবক লিমন, রাব্বি ও শাকিলসহ কয়েকজন এসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বলেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে ত’র্ক হয়। একপর্যায়ে তারা শরীফকে মা’র’ধরের পর ছু’রি’কা’ঘা’ত করে।

এ সময় শরীফ মাটিতে লু’টে পড়লে যুবকরা পা’লি’য়ে যায়। পরে আ’শ’ঙ্কা’জনক অবস্থায় স্থানীয় লোকজন শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ’ত ঘোষণা করেন। লাশ ওই হাসপাতালের ম’র্গে ময়’না’ত’দন্তের জন্য রাখা হয়েছে। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, তদন্ত চলছে। অ’ভি’যু’ক্তদের গ্রে’ফ’তারের চেষ্টা চলছে।

শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করল মা


চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ২ বছরের সন্তানকে বঁটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মা। আজ সোমবার ভোরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার সনাতনপুর গ্রামের গ্রাম্য ডাক্তার মামুন অর রশিদের স্ত্রী শামীমা খাতুন (৩৫) মানসিক ভারসাম্যহীন। তাদের ৩টি সন্তান রয়েছে। ছোট সন্তান স্নেহা। বয়স মাত্র ২ বছর।

আজ সোমবার ভোরে শামীমা খাতুন তার ঘুমন্ত মেয়েকে ডেকে তুলে দোতলায় সিঁড়িঘরের পাশে রান্নাঘরে নিয়ে যায়। সেখানে বঁটি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে।

শামীমার স্বামীর দাবি, শামীমা মানসিক রোগী।এর আগেও সে এমন ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেছিল।আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুন্সী আসাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘাতক শামীমাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

ডিআইজি মিজানকে দুদক কেন গ্রেফতার করছে না: সুপ্রিম কোর্ট


পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান কি দুদকের চাইতে শক্তিশালী, তাকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে দুদকের আইনজীবীর কাছে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্টের আপিল বিভাগ।

একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দেশের জন্য অ্যালার্মিং বলেও মন্তব্য করেছে আপিল বিভাগ।

রবিবার (১৬ জুন) দুদকের মামলায় হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানিতে এসব কথা বলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এ সময় জেসমিনের জামিনও বাতিল করেন আদালত। দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে থাকা পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আপিল বিভাগ বলেন, ‘ডিআইজি মিজানকে এখনো গ্রেফতার করছেন না কেন? সে কি দুদকের চেয়েও বেশি শক্তিশালী?’

এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের আইনজীবী বলেন, ‘তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। আদালত বলেন, ‘দুদক কর্মকর্তা দুর্নীতিতে জড়িত হওয়ার বিষয়টি দেশের জন্য অ্যালার্মিং।’

আদালত বলেন, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আবার ওই টাকার বিপরীতে বন্ধকীকৃত সম্পত্তি ছাড়িয়ে নিতে হাইকোর্টে রিট করছেন। এসব নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। শুনানিতে দুদকের আইনজীবী বলেন, জেসমিন ইসলাম হলমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে থাকাকালে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। তদন্ত শেষ না হওয়ায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দিয়েছেন, এটা কোনো জামিন মঞ্জুরের কারণ হতে পারে না।

এ সময় আপিল বিভাগ জেসমিন ইসলামের জামিন বাতিল করে নিম্ন আদালতে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম বলেন, ‘হলমার্কের চেয়ারপারসন জেসমিন ইসলামকে হাইকোর্টের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে আমরা লিভ টু আপিল করেছিলাম। আজকে শুনানির সময় আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দিয়েছেন। জামিন বাতিল করে তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে সারেন্ডার করার জন্য নির্দেশ দিলেন।’

তিনি বলেন, ‘এ মামলার শুনানিকালে আদালত আমাকে বেশ কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছে। আদালত বলেছে- আপনাদের (দুদক) একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। এটা তো অ্যালার্মিং দেশের জন্য। আমি বলেছি-তার বিরুদ্ধে পিউনেটিভ অ্যাকশন নেয়া হয়েছে।’

পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন ‘কিসের পিউনেটিভ অ্যাকশন নিয়েছেন? আপনি শৃঙ্খলা ভঙ্গ আর তথ্য পাচারের জন্য অ্যাকশন নিয়েছেন, ঘুষের কোনো অ্যালিগেশন আপনি নেননি, অ্যাকশন নেননি। কোনো কিছু করেননি।’

এছাড়া আদালত বলেন, আমি বলেছি-ঘুষের জন্য নিতে হলে আমাকে একটু অনুসন্ধান করতে হবে। অনুসন্ধান করে আমাকে এফআইআর দায়ের করতে হবে। আইনের বাইরে তো আমি কোনো কিছু করতে পারব না। আদালত বলেন, ডিআইজি মিজান কি দুদকের চাইতে বড়? তাকে তো আপনি অ্যারেস্ট করতে পারছেন না। হ্যাঁ তাকে কেন অ্যারেস্ট করছেন না? এই মামলায় তাকে কেন আপনি (দুদক) অ্যারেস্ট করছেন না?’

‘আমি বলেছি -আমার যে লোক (দুদকের কর্মকর্তা) আমি তাকে সাসপেন্ড করেছি। আর যে মামলায় তার (ডিআইজি মিজানুর রহমান) অ্যারেস্ট হওয়ার কথা সে মামলাতে অলরেডি চার্জশিট মেমো অব অ্যাভিডেন্স দেয়া হয়েছে এবং যিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে দুদক একটা অ্যাকশন নিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে নতুন একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সে নতুনভাবে কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত আইনানুগভাবে গুরুত্বসহকারে দুদক দেখছে। কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।

উল্লেখ্য, পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বেশ কিছু অভিযোগে দুদকের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান করছিলেন খন্দকার এনামুল বাছির। সেই অনুসন্ধান চলার মধ্যেই ডিআইজি মিজান দাবি করেন, তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন দুদক কর্মকর্তা বাছির। এ বিষয়ে ডিআইজি মিজান দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরের সঙ্গে ঘুষ সংক্রান্ত অডিও ফাঁস করেন।

এছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে গোপন করতে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আছে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে প্রভাব খাটিয়ে গ্রেফতার এবং এক সংবাদ পাঠিকা ও এক নারী রিপোর্টারকে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশের নিয়োগ, বদলিতেও একসময় ভূমিকা রাখতেন তিনি। গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে হয়রানি করে টাকা আদায়ের অভিযোগও আছে এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

মালিবাগে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করল ‘আইএস’


রাজধানী ঢাকার মালিবাগে পুলিশের একটি গাড়ির কাছে বিস্ফোরণের ঘটনার দায় স্বীকার করেছে কথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস)।রবিবার রাতে ওই বিস্ফোরণে একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন রিকশাচালক আহত হয়েছিলেন।

ইসলামিক স্টেট গ্রুপের কর্মকাণ্ড নজরদারি করে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, আইএস ওই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।টুইটারে সাইট ইনটেল গ্রুপের অ্যাকাউন্ট থেকে এ দায় স্বীকারের কথা জানিয়ে টুইট করা হয়েছে।এর আগে গত ২৯ এপ্রিল ঢাকার গুলিস্তানে ককটেল বিস্ফোরণে ৩ পুলিশের আহত হওয়ার ঘটনাটিও কথিত ইসলামিক স্টেট গ্রুপ দায় স্বীকার করেছিল।পুলিশ তখন আইএসের দাবির বিষয়টি খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছিল।

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মা-মেয়েকে কামড়ে জখম


পাথরঘাটা উপজেলায় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে এক কিশোরী ও তার মাকে কামড়ে জখম করেছে এক বখাটে। ঘটনার পর তাদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে মামলা করেছেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, কিশোরী পাথরঘাটার একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী তানভীর তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। একপর্যায়ে ছাত্রীর বাবা তানভীরের বাবার কাছে ছেলের এসব ঘটনা জানিয়ে অভিযোগ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার বিকালে তানভীর ঘরে ঢুকে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ছাত্রীর মা পাশের বাড়ি থেকে এসে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে তানভীরকে জুতাপেটা করে।

তখন ছাত্রী ও তার মায়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে জখম করে পালিয়ে যায় তানভীর। পরে ছাত্রীর বাবা এসে তাদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে ছাত্রীর বাবা বলেন, চারদিন চিকিৎসা দেয়ার পর গত বুধবার পাথরঘাটা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নেয়ায় গতকাল আদালতে মামলা করেছেন তিনি। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীনকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাথরঘাটা থানার ওসি মো. হানিফ সিকদার মামলা না নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করতে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হতো। পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন বলেন, আমি এরকম একটি ঘটনার কথা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ ও মামলার কপি হাতে পাইনি। মামলার কপি হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।