বৃহস্পতিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

আফগানিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

ভোরের সংলাপ ডট কম :
জুলাই ১৮, ২০২৩
news-image

ডু অর ডাই ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের জন্য। হারলেই টুর্নামেন্ট শেষ। জিতলে সেমিফাইনাল। হতাশ করলো না সাইফ হাসানের দল। এসিসি ইমার্জিং কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার আফগানিস্তানকে ২১ রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। কলম্বোতে আগে ব্যাটিং করে মাহমুদুল হাসান জয়ের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ৩০৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আফগানিস্তানের ইনিংস থেমে যায় ৮ উইকেটে ২৮৭ রানে।

বাংলাদেশের জয়ের নায়ক জয় ১১৪ বলে ১০০ রান করেন ১২ চার ও ২ ছক্কায়। ফিল্ডিংয়ে ২টি ক্যাচও নিয়েছেন তিনি। এছাড়া বোলিংয়ে তানজিম হাসান সাকিব ৬৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ছিলেন দলের সেরা বোলার। স্কোরবোর্ডে বড় রান পেলেও টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল একদমই বাজে। ৩৪ রান তুলতেই ৩ ব্যাটসম্যান ফেরেন ড্রেসিংরুমে। তানজিদ (৯), নাঈম শেখ (১৮) ও অধিনায়ক সাইফ (৪) হতাশ করে ফেরেন।

সেখান থেকে লড়াই শুরু করেন জাকির হাসান ও জয়। প্রতি আক্রমণে গিয়ে দুজন ধারাবাহিক রান তোলায় বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড সচল ছিল পুরোটা সময়। চতুর্থ উইকেটে তাদের জুটিতেই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। দুজনেই ফিফটি করে ছুটছিলেন বড় কিছুর দিকে। আক্রমণের ধারও বাড়ছিল। উইকেটের চারিপাশে দুজনই খেলছিলেন শট। কিন্তু ওই আক্রমণ চালাতে গিয়ে জাকির ডেকে আনেন বিপদ। লেগ স্পিনার ইজহারুল হক নাভিদকে তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ধরা দেন জাকির। এতে চতুর্থ উইকেটে ভাঙে ১১৭ রানের জুটি। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৭২ বলে ৬২ রান করেন ৬ চার ও ২ ছক্কায়।

সৌম্য সরকার নেমে ছক্কা মেরে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু বেশিদূর যায়নি তার ইনিংস। ইব্রাহিমের শর্ট বল পুল করতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দেন ৪৮ রানে। হতাশা বাড়ান আকবর আলী (৪)। শেষ দিকে ক্যামিও ইনিংস খেলে অবদান রেখেছেন শেখ মেহেদী হাসান। অন্যপ্রান্তে থাকা জয় একাই লড়ছিলেন।

সঙ্গীদের আসা-যাওয়ার মিছিলের ফাঁকে তুলে নেন সেঞ্চুরি। ৯৪ রান থেকে ছক্কা উড়িয়ে পেয়ে যান তিন অঙ্কের দেখা। তবে ইনিংসটি আটকে যায় সেখানেই। মোহাম্মদ সেলিম বলে ক্যাচ দেন রিয়াজ হাসানের হাতে। অপরপ্রান্তে থাকা মেহেদী হাসান ১৮ বলে ৩৬ রান করেন ৬ চার ও ১ ছক্কায়। এছাড়া রাকিবুলের ব্যাট থেকে আসে ১২ বলে ১৫ রান। বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে আফগানিস্তানের সেরা ছিলেন মোহাম্মদ সেলিম।

লক্ষ্য তাড়ায় আফগানিস্তান চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছিল। দলের ওপেনার রিয়াজ হাসান ৭৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। তিনে ও চারে নেমে ৪৪ রানের দুটি ইনিংস আসে নূর আলী জাদরান ও অধিনায়ক সাদিকুল্লাহর ব্যাট থেকে। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে লড়াই করেন বসির শাহ। ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। কিন্তু তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাও যথেষ্ট ছিল না জয়ের জন্য।

বাংলাদেশ শুরুর দিকে উইকেট না পেলেও রান বড় হতে দেয়নি। মধ্যভাগেও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিজেদের হাতের মুঠোয় ম্যাচ রেখেছিলেন। শেষ দিকে ভালো বোলিংয়ে আফগানিস্তানকে জিততে দেননি। স্পিনার মাহেদী হাসান বাদে উইকেট পেয়েছেন সবাই। সাকিবের ৩ উইকেট বাদে ২টি করে উইকেট নেন রাকিবুল হাসান ও সৌম্য সরকার। ১ উইকেট নেন রিপন মণ্ডল। তবে ডানহাতি এই পেসার রান দিয়েছেন ৯৩।  ‘এ’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশে সেমিফাইনালে উঠেছে। আফগানিস্তানের সমান ৪ পয়েন্ট হলেও রান রেটে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে বুধবার।

bhorersanglap