বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং

স্বাস্থ্য বিভাগকে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান কাদেরের

ভোরের সংলাপ ডট কম :
জুন ২৯, ২০২০
news-image

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি প্রায় প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোর মাঝে সমন্বয় গড়ে তোলার কথা বলছি। অসহায় মানুষ রোগ নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে আমি আবারো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।সোমবার (২৯ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও করোনা দুর্যোগে গত ১০০ দিন ধরে অসহায় ভাসমান মানুষের প্রতিদিন দুই বেলা খাবার বিতরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার মার্চের শেষ সপ্তাহে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ খেটে খাওয়া মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ে। এ সময় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে। এ সময় ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ কেউ মানুষকে সাহস যোগায়। এমন একটি উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গ্রহণ করে ডাকসু সদস্য তানভীর হাসান সৈকত ও তার সতীর্থরা।

তিনি বলেন, গত ১০০ দিন বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করে আসছে তরুণরা। ভাসমান অসহায় ও কর্মীদের মাঝে বিতরণ করেছে ঈদ উপহার, দিয়েছে চিকিৎসা সহায়তা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে টিএসসিতে রান্না করা খাবার বিতরণের মাধ্যমে অসহায় মানুষদের যেভাবে সহায়তা করেছে তা সারাদেশে ছাত্রলীগ কর্মীসহ তরুণদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে।

মন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন দুর্যোগে সবার আগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ। জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি বিগত ৭০ বছর মানুষের পাশে থেকে আস্থা অর্জন করেছে মাটি ও মানুষের দল আওয়ামী লীগ। সংকটে মানুষের পাশে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেয়া আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য।

তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ করোনা সংকটে দেশের অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী জনপ্রতিনিধি ও সহযোগী সংগঠনগুলো দলের পক্ষে এক কোটি ২৫ লাখের বেশি পরিবারকে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি ১০ কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া গগলস, মাস্ক, পিপিই, সাবান, স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল, টেলিমেডিসিন সেবা প্রদান করা হচ্ছে। চালু করা হয়েছে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। পাশাপাশি দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে কৃষকদের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা করোনাকালে নিজেদের জীবনের মায়া তুচ্ছ জ্ঞান করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এজন্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অধিক সংখ্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সংসদের নেতা, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, দলীয় সংসদ সদস্যসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক হাজার নেতাকর্মী আক্রান্ত এবং অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন।

কাদের বলেন, বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে করোনা দ্বিতীয় দফায় আঘাত হানতে শুরু করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে শনিবার (২৮ জুন) শনাক্ত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার রোগী। এই কঠিন সময়ে যদি আমাদের সচেতনতা বোধ জাগ্রত না হয়, তবে কখন হবে? নিজের সুরক্ষায় নিজে জাগ্রত না হলে কে জাগাবে? আমি, আপনি সমাজে একা নই। পরিবার, সমাজ এবং চারপাশের মানুষকে বাঁচাতে সুরক্ষা বলয় তৈরির বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উদাসীনতা আর অবহেলা জীবনের পথ থেকে ছিটকে দিতে পারে আমাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সংকটের সাহসী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব দেশরত্ন শেখ হাসিনা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। সংকটকালে মানুষের জীবন-জীবিকার সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে, মতামত নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, করছেন সমন্বয়। তিনি আমাদের আশার বাতিঘর। তার নেতৃত্বে সকলের সহযোগিতায় আমরা এ সংকট কাটিয়ে উঠবো।

আরও পড়তে পারেন